চাঞ্চল্যকর তালেব আলী ম্যাটসের কথিত ধর্ষক ফজলুল হকের কাহিনী — অবশেষে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টারঃ কথিত ধর্ষণকারীরা প্রভাবশালী সেজন্য এজাহার দেওয়া সত্ত্বেও কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ মামলাটি গ্রহণ করেনি পরে ৬ দিন পর ডিআইজির হস্তক্ষেপে মামলা রেকর্ড করেছে পুলিশ। উপরোক্ত বাদিনীকে হত্যা করে লাশ গুম করে দিবে বলে প্রকাশ্যে হুমকী দিয়ে আসছিল। অন্যদিকে সত্য সংবাদ এবং প্রচার করায় ময়মনসিংহের সর্বজন প্রিয় সাহসী পত্রিকা ময়মনসিংহ প্রতিদিন পত্রিকার বিরুদ্ধে একটি লোক দেখানো মানববন্ধন করে পত্রিকার সুনাম নষ্ট করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়েছে ঘটনার মূল হোতা তালেব আলী ম্যাটসের চেয়ারম্যান ফজলুল হক এবং তার কথিত ক্যাডার বাহিনী। তালেব আলী ম্যাটস ময়মনসিংহ শহরে রামকৃষ্ণ মিশন রোডে অবস্থিত। একটি নার্সিং শিক্ষা কোচিং এর আড়ালে কুর্কীতি -কুকর্ম এমনকি যৌন হয়রানী করা হতো। পরবর্তীতে অসহায় ছাত্রীর গর্ভপাত ঘটানোর মত লোমহর্ষক কাহিনী একের পর এক জন্ম দিয়ে যাচ্ছে তালেব আলী ম্যাটস এর চেয়ারম্যান । এ নিয়ে প্রচার মাধ্যম গুলো সরব হলেও তালেব আলী ম্যাটসের চেয়ারম্যান সদম্ভে বলে বেড়ায় সাংবাদিক ও পুলিশ কেনার মত টাকা তার আছে। সুতরাং পত্রিকায় লেখালেখি করে কোন লাভ নেই। একটি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে পত্রিকা কর্তৃপক্ষ উল্লেখ করেন পত্রিকায় প্রকাশিত ২রা নভেম্বর ২০১৭ এর সংবাদ সহ সবকটি প্রকাশিত সংবাদ শতভাগ সত্য। বিগত ২০১৬ সনে তালেব আলী ম্যাটসের চেয়ারম্যান ফজলুল হকসহ র্আও কয়েকজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার নথি এখনো কোতোয়লী মডেল থানায় পাওয়া যাবে। ধর্ষিতা শিক্ষার্থীরা অসহায় এর মতো সুশীল সমাজের কাছে প্রশ্ন রেখেছে আমরা কী ন্যায় বিচার পাব না ? কি ঘটেছিল সেদিনঃ তালেব আলী ম্যাটস কলেজের চেয়ারম্যান ফজলুল হক গত ৫ এপ্রিল ২০১৬ বিকাল সাড়ে ৩ টার দিকে কলেজের অফিস কক্ষে ছাত্রীদের ঢেকে আনেন। এসময় তিনি লিয়া (লিমা) কে বলেন, তোমার পরিক্ষার ফল ভালো হয়নি। তবে আমার সাথে (ফজলুল হক) সেক্স ট্রেড করলে ভাল ফল দিয়ে দিবে। কিন্তু লিয়া বেগম ওরফে লিমা এ প্রস্তাবে রাজি না হলে ফজলুল হক ও দ্বীন মোহাম্মদ পানির সাথে নেশার ট্যাবলেট মিশিয়ে লিয়া বেগম ওরফে লিমাকে খাইয়ে দেয়। লিয়া বেগম (লিমা) অজ্ঞান হয়ে পড়লে ফজলুল হক লিয়া বেগম (লিমা) ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করে। লিয়া বেগম ওরফে লিমার এসময় জ্ঞান ফিরে আসলে ফজলুল হকের কাছে এর প্রতিবাদ জানালে ফজলুল হক লিয়া বেগম ওরফে লিমাকে শাসিয়ে বলেন, এই ঘটনা জানাজানি হলে তোমাকে খুন করে ফেলব। পরবর্তীতে পার্থ, শাহাদাত, সাদ্দাম, সজিব, (যারা সবাই তালেব আলী ম্যাটসের সাবেক শিক্ষার্থী) তারা একযোগে লিয়া বেগম ওরফে লিমাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকী দিতে থাকে এবং ফজলুল হক লিয়া বেগম ওরফে লিমার সাথে অবৈধ সম্পর্ক চালিয়ে যেতে থাকে। এক পর্যায়ে লিয়া বেগম ওরফে লিমা গর্ভবতী হয়ে পড়লে ফজলুল হকগং কৌশলে অজ্ঞাতনামা স্বামীর পরিচয় দিয়ে মচিমহার গাইনী বিভাগে লিয়া বেগম ওরফে লিমাকে এবরশন করতে বাধ্য করে। ফজলুল হকের এই দুস্কর্মে লাজে ক্ষোভে লজ্জায় লিয়া বেগম ওরফে লিমা ট্রেনের নিচে আত্মহত্যা করতে চাইলে সংবাদ মাধ্যমের ব্যাক্তি খায়রুল আলম রফিক লিয়া বেগম ওরফে লিমাকে আত্মহত্যা থেকে নিভৃত রাখার চেষ্টা করে এবং পুরো ঘটনা লিয়া বেগম ওরফে লিমার মুখ থেকে শুনে এবং প্রকৃত ঘটনা সরেজমিন করে পত্রিকায় বস্তুনিষ্ট সংবাদ পরিবেশন করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ফজলুল হক সাজানো মানববন্ধনের মাধ্যমে খায়রুল আলম রফিকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করতে থাকে। সর্বশেষ জানাগেছে, লিয়া বেগম ওরফে লিমা ন্যায় বিচার পাবার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ রেঞ্জ ডিআইজির সাথে সাক্ষাত করলে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলামের মাধ্যমে মামলা রেকর্ড করে ময়মনসিংহ কোতোয়ালী মডেল থানা পুলিশ। জানাগেছে, ঘটনাটি ময়মনসিংহের সর্বত্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মামলার বাদী লিয়া বেগম ওরফে লিমার অভিযোগের অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি),সিভিল সার্জন, যুগ্ম পরিচালক এনএসআই, অধিনায়ক ডিজিএফআই, অধিনায়ক র‌্যাব ১৪ সভাপতি মহানগর আওয়ামীলীগ, সভাপতি জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা, সভাপতি মহিলা পরিষদ এবং স্থানীয় সকল দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক। গতকাল বিকাল ৫ টায় ময়মনসিংহ প্রতিদিন অফিস কার্যালয়ে কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি কামরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে মামলা রেকর্ড করেছেন বলে নিশ্চিত করেন। মামলা নং -২৩ (১১) ১৭ ধারা ৯ (১) ৩০,৩১৩, ৩৮৬, ৫০৬ দন্ডবিধি রুজু করা হয়েছে।


Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment