কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ উচ্চ আদালতের নির্দেশ প্রেসক্রিপশন এখনও আগের মতই

ফারুক আহমেদ চৌধুরী : আদালতের নির্দেশ এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা সত্ত্বেও পাঠযোগ্য হয়নি রোগীর জন্য লেখা ব্যবস্থাপত্র । রোগীর ব্যবস্থাপত্র এখনো বড় হরফে লেখা হচ্ছে না । হাইকোর্টে দায়েরকৃত রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে চিকিৎসকদের স্পষ্ট ও বড় অক্ষওে প্রেসক্রিপশন লেখার নির্দেশ দেন আদালত। চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্দেশনা দেওয়ার পর বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল চিঠি আর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আদালতের দেওয়া নির্দেশনার বিষয়টি জানিয়ে দেন চিকিৎসকদের। এর আট মাস পেরিয়ে গেলেও মাঠ পর্যায়ে সেই নির্দেশনার বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

উচ্চ আদালতের নির্দেশ শুধু কাগজে কলমেই সীমাবদ্ধ। এখনও অস্পষ্ট ভাবেই রোগিদের ব্যাবস্থাপত্র লিখছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের ডাক্তাররা । জেলার আধুনিক সদর হাসপাতাল, নামিদামি ক্লিনিক, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা মানছে আদলতের নির্দেশনা।
খোদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল, চক্ষু হাসপাতালের মত সরকারি প্রতিষ্ঠানে এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকের পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে সেই অবস্থার কোন পরিবর্তন হয়নি। ফলে জনস্বার্থে প্রদান করা হাইকোর্টের রায় এখনো উপেক্ষিত। আগের মত অস্পষ্ট ও টানা অক্ষওে যেভাবে ব্যবস্থাপত্র লেখা হতো এখনো সেই অবস্থা অপরিবর্তিত রয়েগেছে।
অন্যদিকে নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের। সরকারি প্রতিষ্ঠানের কোনো চিকিৎসক যদি ইচ্ছাকৃতভাবে এই নির্দেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যাবস্থা নেওয়া খবর শোনা যায়নি। পর্যবেক্ষণ না থাকাকেই দ¦ায়ি করছেন সচেতন মহল।

সরেজমিনে গতকাল চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর হাসপাতাল ঘুওে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে প্রেসক্রিপশনে আগের মতই লিখছেন চিকিৎসকরা। সকাল ১১টা থেকে কয়েক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ করেও বড় হরফের কোন ব্যবস্থাপত্রের হদিস মেলেনি। মেডিকেল মোড়, শান্তি মোড় ও বড়ইন্দারা মোড় এলাকার বিভিন্ন ফার্মেসি মালিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এখনো ডাক্তারদেও প্রেসক্রিপশনে তেমন কোন পরিবর্তন আসেনি। আগে যেমন লিখতেন এখনো সেভাবেই লেখা হচ্ছে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন কাজী শামীম হোসেন জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনার বিষয়টি চিঠি দিয়ে ডাক্তারদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আবারো চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হবে। কারো খারাপ লাগলেও আদালতের নির্দেশ মানতে বাধ্য। তবে যারা নির্দেশনা অমান্য করছে তাদের বিরুদ্ধে কি ব্যাবস্থা নেওয়া যায় আমার জানা নাই।
হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে কোন পর্যবেক্ষণ করা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি উচ্চ পর্যায়ে বিষয়টি অবহিত করবো। নির্দেশনা নিয়েই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে ।

এ ব্যাপারে চিকিৎকদের সংগঠন বাংলাদেশ মেডিকেল এ্যাসোসিয়েশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক ডা: গোলাম রাব্বানী ফটিক জানান, বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল থেকে আদালতের নির্দেশনার ব্যাপারে জানানো হয়েছিল। প্রথম দিকে আমি বড় হরফে কয়েকদিন লিখেছি যখন দেখলাম যে ঢাকা রাজশাহীর প্রেসক্রিপশন আগের মতই আছে তাই আমিও এভাবেই লিখছি। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অমান্য হচ্ছে সাংগঠনিকভাবে আপনারা কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেননা কেনো? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেল, অবশ্যই আদালতের নির্দেশনা অমান্য করা হচ্ছে এটি বাস্তাবায়ন বা নিয়ন্ত্রনে আমাদের প্রশাসনিক কোন ক্ষমতা নেই। এটি বাংলাদেশ মেডিকেল ও ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি)’র দ¦ায়িত ।

এদিকে উপজেলা পর্যায়ে যেহেতু গরীব ও অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত লোকের বসবাস সুতরাং সেখানে এই নির্দেশনার দ্রুত বাস্তবায়ন চান সচেতনমহল। চিকিৎসকদের আন্তরিকতার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন বলে মনে করেন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. সৈয়দ শাহজামাল ।


Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment