খালেদার জেল, জোবায়দা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, নির্বাচনে যাবে বিএনপি

টিকে থাকার লড়াইয়ে বিএনপি সবগুলো পথই খোলা রাখতে চাইছে। নির্বাচনের জন্য যেমন এখন থেকেই নীরবে প্রার্থী

বাছাইয়ের কাজ করছে, তেমনি আন্দোলনের কৌশলও ঠিক করছে।

বেগম জিয়ার মামলা এক বছর ঠেকিয়ে রাখার ছক কষছে বিএনপি, তেমনি বেগম জিয়া আদালতে দণ্ডিত হলে বিএনপির হাল কে ধরবে, সেই চিন্তাও মাথায় রাখছে। তবে এইসব কৌশলই অত্যন্ত গোপনে হচ্ছে। বেগম জিয়া, তার পুত্র তারেক জিয়া এবং জিয়া পরিবারের ঘনিষ্ঠ বিএনপির দু-একজন ছাড়া কেউই এ ব্যাপারে তেমন কিছু জানেন না।

বিএনপির জন্য এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বেগম জিয়ার মামলা। তারেক জিয়া একটি মামলায় দণ্ডিত হয়ে ইতিমধ্যে নির্বাচনের অযোগ্য হয়েছেন। দেশে এসে বিএনপির হাল ধরা এখন তাঁর জন্য অসম্ভব। দেশে এলেই তাঁকে মামলার সাজা ভোগ করতে আগে জেলে যেতে হবে। বেগম জিয়াও যদি জিয়া চ্যারিটেবল এবং জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় দণ্ডিত হন, তাহলে বিএনপির হাল ধরবে কে?

জিয়া পরিবারের ধারণা, এটাই সরকারের কৌশল। সরকার বেগম জিয়াকে নির্বাচনের অযোগ্য করে দলে ভাঙ্গন ধরাতে চায়। একটি অংশকে নিয়ে নির্বাচন করতে চায়।

বিএনপির একাধিক নেতা খোলামেলাই স্বীকার করেছেন, ‘খালেদা জিয়া বিহীন বিএনপি, আর পাইলট ছাড়া প্লেন একই কথা।’ বেগম জিয়া জেলে গেলেই বিএনপি দিক নির্দেশনাহীন হয়ে পড়বে, কর্মীরা হবে হতাশ। এই সুযোগে সুবিধাবাদীরা সরকারের সঙ্গে ‘আঁতাত করে নির্বাচন করবে- এমনটাই বিশ্বাস করেন অনেক বিএনপি নেতা। এজন্যই বেগম জিয়া তাঁর রায়ের আগেই বিএনপির পরবর্তী কান্ডারী চূড়ান্ত করে যেতে চান।

বিএনিপর ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, বেগম জিয়া এটি লন্ডনেই চূড়ান্ত করে এসেছেন। বেগম জিয়া জেলে গেলে, দলের হাল ধরবেন তারেক জিয়ার স্ত্রী জোবায়দা রহমান। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার চূড়ান্ত শুনানি হবার পর রায়ের তারিখ দেবার সঙ্গে সঙ্গেই বেগম জিয়া এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেবেন বলে জানা গেছে।

বেগম জিয়া তাঁর ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, ওয়ান ইলেভেনে তিনি যে ভুল করেছেন, এবার সেটি করতে চান না। ওয়ান ইলেভেনে গ্রেপ্তার হবার পর বেগম জিয়া দলের মহাসচিব মান্নান ভুঁইয়াকে দল থেকে বহিষ্কার করেছিলেন, খন্দকার দোলোয়ার হোসেনকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসাবে কাউকে ঘোষণা করে যাননি। ফলে নেতৃত্বহীন বিএনপি সংস্কারপন্থীদের দখলে চলে যায়।

প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান মারা গেলে বেগম জিয়া সবাইকে অবাক করে শোক বাণী দেন। শেষ শ্রদ্ধা জানাতে বঙ্গ ভবনে যান। দলের কেউ কেউ বেগম জিয়ার এই ব্যতিক্রমী আচরণে অবাক হয়েছিলেন।

তাদের তিনি দুঃখ করে বলেছেন, ‘আমার দলে যদি একজন তাঁর মতো (জিল্লুর রহমান) লোক পেতাম, তাহলে ওয়ান ইলেভেনে এই অবস্থা হতো না।’

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সভাপতি গ্রেপ্তার হবার মুহূর্তে জিল্লুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ঘোষণা করে যান। বেগম জিয়া মনে করেন ওটাই ছিল রাজনীতির টার্নিং পয়েন্ট। নেতৃত্বহীন একটি দলে সুবিধাবাদীরাই প্রভাব বিস্তার করে। এবার যেন সেটা না হয় সেজন্যই জোবায়দা রহমানকে মনোনয়ন।

তবে, এই মনোনয়নের কিছু কৌশলগত দিকও আছে বলে বিএনপি সংশ্লিষ্টরা মনে করছে।

  • প্রথম সুবিধা হলো, চিকিৎসক ও শিক্ষিত হিসেবে জোবায়দা রহমানের আলাদা ইমেজ আছে।
  • দ্বিতীয়ত, তিনি কথা বলেন কম, ফলে হঠাৎ তাঁর বিতর্কিত হবার সম্ভাবনা নেই।
  • তৃতীয়ত, সরকারের মনোভাবও তাঁর ব্যাপারে ইতিবাচক।

স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রিসভার বৈঠকে জোবায়দার মতো শিক্ষিত মানুষদের রাজনীতিতে আসাকে ইতিবাচক বলে মন্তব্য করেছিলেন।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, জোবায়দার বিরুদ্ধে উল্লেখ করার মতো মামলা নেই। ফলে, বেগম জিয়া দণ্ডিত হলে তিনি দ্রুত দেশে এসে দলের হাল ধরতে পারবেন। কর্মীরা তাতে উজ্জীবিত হবে। এর ফলে দলের ভাঙ্গনের সম্ভাবনা অনেক কমে যাবে। এরকম পরিস্থিতিতে, নির্বাচন নয় বরং খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনই সরকার পতনের আন্দোলনের পথে যাবে বলে বিএনপির নীতি নির্ধারকরা মনে করছেন। অনেকে আবার চমকও আশা করছেন।

একজন নেতা তো দিবা স্বপ্নের মত বললেন, ‘এমনও হতে পারে আন্দোলনের অংশ হিসেবে আমরা জোবায়দার নেতৃত্বে নির্বাচনে গেলাম। নির্বাচনে বিজয়ের মাধ্যমেই বেগম জিয়া ও তারেক জিয়ার মুক্তির সনদ নিলাম।’

দিবা স্বপ্ন নয়, বেগম জিয়া তার ঘনিষ্ঠদের বলেছেন, কোনো অপশনই ক্লোজ করা যাবে না। কোন পথে যাবে বিএনপি, তা বুঝতে হলে অপেক্ষা করতে হবে একটি রায়ের। সুত্রঃ সম্পাদক.কম


Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment