‘শেখ হাসিনার’ দিনের শুরু ভোর চারটায়, খালেদার সকাল ১০টায়

বিএনপির সব আছে, তারপরও দলটি তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের চেয়ে পিছিয়ে।

১০ বছর ধরে ক্ষমতায় না থাকলেও বিএনপির আর্থিক অনটন নেই। বরং, দেশে বিদেশে বৈধ-অবৈধ অর্থে বিএনপি বিশ্বের অন্যতম ধনী রাজনৈতিক দল।

আওয়ামী লীগ বিরোধীরা সব সময়ই বিএনপির সমর্থক এবং ক্ষেত্র বিশেষে অন্ধ সমর্থক। তাই দলটির রাজনৈতিক আদর্শ বা কর্মসূচি দেখে না, শুধু আওয়ামী লীগ বিরোধীতার কারণে দলটি বেশ জনপ্রিয়।

বিএনপির নেতারা আজকাল প্রকাশ্যেই বলেন, শুধু একটি ক্ষেত্রে বিএনপি আওয়ামী লীগ থেকে পিছিয়ে। সেটি হলো নেতৃত্ব। বিএনপি নেতারা হিসেব করে দেখেছেন, শেখ হাসিনার চেয়ে তাঁদের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নয় বছর পিছিয়ে। প্রতিদিন বেগম জিয়া ৬ ঘন্টা করে পিছিয়ে পড়ছেন।

কীভাবে? শেখ হাসিনার দিন শুরু হয় ভোর চারটায়। তিনি তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামাজ আদায় করে দিনের কাজ শুরু করেন। এক কাপ চায়ের সঙ্গে তিনি দেশের সর্বশেষ খবরগুলো জেনে নেন। দিনের কর্মপরিকল্পনা ঠিক করেন। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে ফেলেন। এরপর শুরু করেন অন্যান্য কাজ। শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন শেষে, সন্ধায় ব্যস্ত হন রাজনৈতিক চিন্তা, বৈঠক এবং কর্মসূচি নিয়ে।

অন্যদিকে বেগম জিয়ার দিন শুরু হয় সকাল ১০টায়। শেখ হাসিনার ৬ ঘন্টা পর। শেখ হাসিনা যখন দিনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে কাজে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন, তখন নাস্তার টেবিলে বেগম জিয়ার দিন শুরু হয়।

এই যে ৬ ঘণ্টা পিছিয়ে দিন শুরু সেটাকে আর অতিক্রম করতে পারেন না। পিছিয়েই থাকতে হয় বেগম জিয়াকে রাজনীতিতে, কাজে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে।

হিসেব করলে দেখা যায় প্রতি সপ্তাহে শেখ হাসিনা বেগম জিয়ার থেকে ৪২ ঘণ্টা এগিয়ে যান। মাসে সাড়ে ৭ দিন এগিয়ে থাকেন শেখ হাসিনা। আর বছরে ৯১ দিন বেগম জিয়া শেখ হাসিনার থেকে পিছিয়ে যাচ্ছেন।

গত ৩৬ বছরে বেগম জিয়া শেখ হাসিনার থেকে নয় বছর পিছিয়ে গেছেন। দুই নেতার সারাদিনের কর্মকাণ্ড বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, শেখ হাসিনা ভোর ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত, অর্থাৎ ১৯ ঘণ্টা কর্মময় সময় কাটান।

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া সকাল ১০ থেকে রাত ১২ টা পর্যন্ত ১৪ ঘণ্টা কর্মময় সময় কাটান। কর্মময় সময় ঘণ্টার মাত্র ৩ ঘণ্টা শেখ হাসিনা ব্যক্তিগত কাজে- যেমন আহার, নামাজ, বিশ্রাম ইত্যাদি কাজে ব্যয় করেন।

অন্যদিকে বেগম খালেদা জিয়া তার কর্মময় সময় ঘণ্টার ৮ ঘণ্টাই ব্যক্তিগত কাজে ব্যয় করেন। বেগম জিয়ার ব্যক্তিগত কাজের মধ্যে রয়েছে সাজসজ্জা, বিশ্রাম এবং বিভিন্ন রকম ফিজিও। অর্থাৎ শেখ হাসিনা প্রতিদিন ১৬ ঘণ্টা প্রকৃত কাজ করেন। অন্যদিকে বেগম জিয়া কাজ করেন ৬ ঘণ্টা।

পরিশ্রমেই শেখ হাসিনা তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিকে যোজন যোজন দূরে পেছনে ফেলেছেন। শুধু পরিশ্রমই নয়, গবেষণায় দেখা যায়, শেখ হাসিনা প্রতিদিন গড়ে ১২৫ জন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন। অন্যদিকে বেগম জিয়া প্রতিদিন গড়ে ৮ জন মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।

বিএনপির একজন নেতা বলেছেন, ‘আমরা সব সময়ই শেখ হাসিনার পিছনে থাকছি। তিনি একটা সিদ্ধান্ত ছুঁড়ে দিচ্ছেন, আমরা তাঁর পেছনে ছুটছি। শেখ হাসিনার ছকেই আমরা ছোটাছুটি করছি। এজন্য আমরা একটি প্রতিক্রিয়া ভিত্তিক দলে পরিণত হয়েছি।‘

তাঁর মতে, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি না, সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় থাকি।’

তিনি মনে করেন, ‘এটা হয়েছে, শেখ হাসিনার বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতার কারণে। আর এটা তিনি অর্জন করেছেন পরিশ্রম দিয়ে। পরিশ্রমই তাঁকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।‘সুত্রঃ সম্পাদক.কম


Please follow and like us:

Related posts

Leave a Comment