গোদাগাড়ীতে স্কুল ভ্যান ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ, আহত ৩ – স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ


Add
Add

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী-চাপাঁই নবাবগঞ্জ মহাসড়কের গোদাগাড়ী সিনেমা হল মোড়ে গোদাগাড়ী গ্রীন ভিউ প্রি-ক্যাডেট স্বুলের ছাত্র-ছাত্রী পরিবহণ অটো ও রাজশাহী থেকে চাঁপাঁই নবাবগঞ্জগামী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ৩ জন ছাত্র-ছাত্রী আহত হয়েছে। আহত তিন জন হল, ইসরাত জাহান ইশা (১০) মইন আলী (৮) সাদিয়া শারমিন (৬)। আহতদের ঘটনাস্থল থেকে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা উদ্ধার করে গোদাগাড়ী ৩১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসা প্রদান শেষ হলেও স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ আহতছাত্রছাত্ররীদের দেখতে হাসপাতালে না আসায় গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতের নিজ নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেন।

আহত বাচ্চাদের অভিভাবকরা অভিযোগ করে বলেন, বাচ্চারা বাড়ীতে ফিরে আসার নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলে স্কুলের স্যারের সাথে যোগাযোগ করা হলে এবং লোক মুখে দুর্ঘটনার খবর শুনে ফোন করা হলে স্কুলের স্যার দুর্ঘটনার বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং বলেন বাচ্চার কিছু হয়নি সময় মতো বাড়ীতে চলে যাবে। এতে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা আরো বেড়ে যায়। অবশেষে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বাচ্চাকে বাড়ীতে নিয়ে এসে বাচ্চার পরিবারকে সান্তনা দেন।

এতো বড় একটি দুর্ঘটা ঘটলেও এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ আহত ছাত্র-ছাত্রীর পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেনি এবং কোন খোঁজ খবর নেয়নি। সরেজমিনে ঘটানাস্থল দেখে ও আহত বাচ্চাদের সাথে কথা বলে জানা যায় অটো চালক অপেশাদার এবং অদক্ষ। সামনে থেকে মাইক্রোবাস আসছে বিষয়টি ছাত্র-ছাত্রীরা অটো চালকে অবহিত করলেও তাদেন কথাকে কর্নপাত না করে বেপরোয়াভাবে রং সাইডে অটো মোড় নেয় ফলে অটোটি মাইক্রোবাসের সাথে সংঘর্ষ বাধে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন অভিভাবক বলেন স্কুলটির প্রধান পরিচালক ইসলামী ব্যাংক চাপাঁই নবাবগঞ্জ শাখার কর্মকর্তা জনাব সালাহ উদ্দীন সাহেব ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হাসান আলী সহ স্কুলের সাথে সংশ্লিষ্ট সবাই কথার ফুলঝুড়ি ফুটিয়ে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করে আমাদের সাথে প্রতারণা করেছে। এমনকি পিকআপ ভ্যানে বাচ্চা পরিবহনের কথা বলে অটো গাড়ীতে বাচ্ছা পরিবহন করছে। এ বিষয়ে গত কয়েক মাস পূর্বে পরিচালকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন পিকআপ ভ্যানে বাচ্চা পরিবহন করলে স্কুলের লস হয়। তাই পিকআপ ভ্যানের পরিবর্তে অটো গাড়ীতে বাচ্চা পরিবহন করছেন বলে জানান। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে প্রধান পরিচালক বলেন এতে আপনার বাচ্চা রাখবেন কিনা আপনার বিষয়।

অভিভাবকরা আরো অভিযোগ করে বলেন খোলা অটোতে ছোট ছোট বাচ্চা পাঠাতে না চাইলে অটোর দুইদিকে লোহার গ্রিল লাগানোর আশ্বাস দিলেও আজ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি। প্রধান শিক্ষক এবং সহকারি শিক্ষকদের বিষয়টি বারবার বলা হলেও কোন সমাধান করা হয়নি। অবশেষে তাদের কাছে অসহায় হয়ে বাচ্চা পাঠাতে বাধ্য হচ্ছি। এমনকি কয়েকজন অভিভাবক বলেন সাময়িক পরীক্ষার সময় কর্তৃপক্ষ পরিবহণের ব্যবস্থা না করায় আমাদের বাচ্চা পরীক্ষা দিতে পারেনি।

অটো গাড়ীটি পুরাতন লক্কর ঝক্কর যা রাস্তায় চলার অনুপযোগী। আবার অটো চালকের বিরুদ্ধে উচ্চ গতিতে গাড়ী চালানো, বাচ্চাদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরন না করা, তুই তোকার করে বাচ্চাদের সাথে কথা বলা, কানে ব্লুটুথ এয়ার ফোন দিয়ে গাড়ী চালানো, নির্ধারিত সময়ে বাচ্চা নিতে না আসা, খেয়াল খুশিমত গাড়ী চালানো, মহাসড়ক ব্যাতিত বিকল্প পথ ব্যবহারের কথা থাকলেও মহাসড়কে গাড়ী চালানো ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও অদৃশ্য কারনে তাকে দিয়ে কর্তৃপক্ষ ছাত্র-ছাত্রী পরিবহন করছেন বলে জানা যায়। বলা যায় ক্ষমতার দাপট ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের আড়ালে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মত লাভ লসের হিসেবে অন্ধ হয়ে প্রধান পরিচালক নিজ খেয়াল খুশিমত প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন বলে জানা যায়। তিনি কারো পরামর্শ গ্রহণ করেন না।

এমতাবস্থায় অভিভাবকরা চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে প্রতিদিন বাচ্চাকে স্কুলে পাঠান। মহিশালবাড়ী এলাকার এক অভিভাবক অভিযোগ করে বলেন, ভর্তি করার সময় অদৃশ্য বিভিন্ন সুবিধা দিব বলে আমাদের বাড়ীতে ৫/১০বার শিক্ষকরা আসলেও এখন ভর্তি করার পর সে সব সুবিধাতো নেই। বরং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের সাথে দূর্ব্যবহার করেই চলেছে।


Add
ক্রাইম নিউজ ২৪ এ প্রকাশিত কোনও সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার দণ্ডনীয় অপরাধ। অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করলে কর্তৃপক্ষ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
ব্রেকিং নিউজঃ
ব্রেকিং নিউজঃ