রাজশাহীতে ১৬ কাঠা জমি চাঁদা দাবী: না পেয়ে কাউন্সিলর, স্থানীয় নেতা, মাদক ব্যবসায়ী ভূমিদসূদের বিভ্রান্তি ছড়াতে সংবাদ সম্মেলন

0

রাজশাহী নগরীর মতিহার থানাধীন কাপাসিয়া পূর্ব পাড়া এলাকায় ১৬ কাঠা জমি চাঁদা দাবী করে না পেয়ে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তি ছড়াতে সংবাদ সম্মেলন করেছে মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলর আসাদ। গতকাল সোমবার রাজশাহীর মহানগরীর স্থানীয় একটি হোটেলে এ সংবাদ সম্মেলন করে তারা। মতিহার থানাধীন কাপাপিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত জিয়াদ আলীর ছেলে, মোঃ আরিফ এর দেয়া আর এমপির পুলিশ কমিশনারের মহাদয়ের নিকট অভিযোগের বরাত দিয়ে জানা যায়, নগরীর মতিহার থানাধীন কাপাসিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার মৃত হাছেন মন্ডলের ছেলে মোঃ হেলাল (৬০), মোঃ বেল্লাল (৫৮), মোঃ ইউসুফ (৫৬), মোঃ বিচ্ছাদ (৫৪), মাহাবুল (৩৫), এছাড়াও রাজশাহীগণ গত অনুমানিক ৪০ বছর যাবত আমাদের ৯ শরিকের জমি জবর দখল করে ভোগ করিতেছিল। যাহার দাগ নং-২৪৫৭, ২৪৫৮, জমির পরিমান ৬১ শতাংশ। আরএস খতিয়ান নং-৬১১, জেএল নং-১৯৪, মোট জমির পরিমান ৬১ শতাংশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমাদের কাপাসিয়া এলাকায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক বসলেও বিবাদীগণ কোন দিনই জমির পক্ষে কাগজ পত্র দেখাতে পারে নাই। এমনকি তারা কোন ভাবেই কোন সালিশ বা জমির দখল ছাড়ে নাই। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ বছর পূর্বে তারা মতিহার থানায় একটি আভিযোগ দায়ের করেন। সে সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই তাজউদ্দিনকে বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য দায়িত্ব ভার দেন। এরপরও বিবাদীগণ তাদেরে কাগজপত্র দিতে বা দেখাতে ব্যর্থ হয়। পরে তারা তাদের দখলে থাকা জমিতে চাষাবাদ করতে গেলে বিবাদীগণ তাদের এক শরিক আকসেদ এর বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে ও তার স্ত্রী মর্জিনা বেগম, এবং তার ছেলের স্ত্রী রতœা বেগমকে মারপিট করে। পরে তারা রামেক হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়।

এ বিষয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা রুজু হয়। বর্তমানে ওই মামলায় বিবাদীগণ জামিনে মুক্ত আছে। এ ঘটনার আনুমানিক ১৫দিন পরে বিবাদীরা নেতা ও কাউন্সিলরের নির্দেশে তাদের দখলে থাকা জমি ২৪৫৭ ও ২৪৫৮ নং দাগের ৬১ শতক জায়গা দখলের চেষ্টা করলে উভয়ের মধ্যে দ্বন্দ সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষের ৩ জনকে ধরে মতিহার থানায় নিয়ে আসে। এ বিষয়ে কাপাসিয়া বাজার এলাকার স্থানীয় নেতা মোঃ মাসুদ রানা এবং কাঁটাখালী পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর আসাদ ও কানা আসাদ, সর্ব সাং- কাপাসিয়া তালুকদার পাড়া মতিহার থানায় উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষোর মধ্যে ২ দিনের মধ্যে আপোষ মিমাংসা করে দেবে মর্মে থানা থেকে নিয়ে যায়। কিন্ত নেতা ও কাউন্সিল ও কানা আসাদ উভয়ই তাদের প্রতিপক্ষের সাথে দেন দরবারের মাধ্যমে দির্ঘ প্রায় ১ বছর ঘুরিয়ে উভয় পক্ষোকে একটি লিখিত মিমাংসার কপি ধরিয়ে দেয়। যেখানে পরিস্কার লিখা আছে যে যে অবস্থানে রয়েছে প্রত্যেই নিজ নিজ অবস্থান বজায় রেখে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে যে পক্ষো রায় পাবে সেই জমি ভোগ দখল কবিবে। এ ঘটনার ১ সপ্তাহ্ না যেতেই স্থানীয় নেতা ও কাউন্সিলর ও কানা আসাদের নির্দেশে বিবাদীগণ জোর পূর্বক আমাদের ভোগ দখলে থাকা জমিতে নেমে মেহগুনি গাছ কেটে কোদাল দিয়ে জমি চাষ দেয় এবং বেগুন ও কদুর গাছ লাগায়।

এ বিষয়ে আমরা কাঁটাখালী পৌরসভার মেয়র বরাবর দরখাস্ত দিয়ে তাকে অবগত করি। এছাড়া বাদিদের এক শরিক মোঃ মোসলেম সরদার বাদি হয়ে মতিহার থানায় একটি গাঁছ কর্তন লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

বর্তমানে মামলাটি বিজ্ঞ আদালতে বিবাদীগণ জামিনে মুক্ত রয়েছেন। এরই মধ্যে বিবাদীগনের দেয়া ১৪৪ ও ১৪৫ ধারা মামলার রায় প্রদান করেন বিজ্ঞ আদালত গত ২৯ নভেম্বর। মামলাটি খারিজ করে দেন এবং বিজ্ঞ আদালতের খারিজ কপিতে নিজ নিজ অবস্থান বজায় রাখতে বলা হয়। এর পরে বাদিরা তাদের আরএস রেকর্ড এর ২৪৫৮ এবং ২৪৫৭ নং দাগের জমিতে সিমানা প্রাচীর নির্মান কাজ শুরু করে। এ ঘটনায় বিবাদীগণ মতিহার থানায় কাজ বন্ধের জন্য একটি অভিযোগ দায়ের করে। এ বিষয়ে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উভয় পক্ষোকে নিয়ে বসার জন্য এসআই তাজ উদ্দিনকে দায়িত্ব দেন। পরে বাদি এবং বিবাদীগণদের নিজ নিজ কাগজ পত্র নিয়ে থানায় হাজির হওয়ার জন্য বলা হয়। এরপর উভয় পক্ষো নিজ নিজ এ্যাডভোকেট নিয়ে যথা সময়ে থানায় উপস্থিত হই। এবং উভয় পক্ষের এ্যাডভোকেট একমত হয় এই বলে যে, বিবাদীগনের বিজ্ঞ আদালতের কোন নিষেধাজ্ঞা থাকতে হবে তবেই কাজ বন্ধ করা সম্ভব। এ সময় বিবাদীগণ বলে আমাদেরকে ০৩-০১-২০১৮ পর্যন্ত সময় দেয়া হোক আমরা উক্ত তারিখে আদালত থেকে ইনজেংশান অথবা কাজ স্থগিত আদেশ এনে থানায় জমা দেবো। কিন্ত নিদৃষ্ট সময় পার হলেরও বিবাদীগন কোন আদেশের কাগজ থানাতে জমা দেয় নাই। পরে পূনরায় তারা ৪ তারিখ থেকে আমাদের প্রাচির নির্মান কাজ শুরু করে। শুরু হয় বিবাদীগনের ও নেতা কাউন্সিলরের দৌড় ঝাঁপ আর অপপ্রচার। আর মারধরসহ প্রাণ নাশের হুমকি তো অব্যাহত রয়েছেই।

এছাড়া খবর ২৪ ঘন্টার অনলাইন পত্রিকায় কথিত সাংবাদিক যে বাড়িটির ছবি দিয়ে নিউজ পরিবেশন করেছে সেটা সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানীর নগদ টাকা দিয়ে ক্রয়কৃত জমি এবং তার টাকায় তৈরী করা বাড়ি। আর রাব্বানী গত ইং২০০৫ সাল থেকে সাংবাদিকতা পেশার সাথে জড়িত। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ অনলাইন সাংবাদিক কল্যাণ ইউনিয়ন (বসকো) রাজশাহী বিভাগের সাধারণ সম্পাদক ও রাজশাহী থেকে প্রকাশিত দৈনিক বার্তা, দৈনিক রাজশাহীর আলো পত্রিকার সাংবাদিক। এছাড়াও রাব্বানী রাজশাহীর সময় ডটকম পত্রিকার সম্পাদক ও রাজশাহী নিউজ ২৪ ডট কম এর বার্তা সম্পাদক । তারপরও তার ব্যাক্তিগত ব্যবসা রয়েছে। আর সাংবাদিক রাব্বানী বিবাদীদের জমি সংক্লান্ত বিষযে কোন প্রকার জড়িত নহে। এটা একটি মিথ্যা অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ও মানহানিকর। সাংবাদিক মাসুদ রানা রাব্বানী জানায়, কথিত সাংবাদিক বলায় এবং তার বাড়ির ছবি পত্রিকায় দেয়ায় সে অবশ্যই আদালতের আশ্রয় নিবে বলে জানান তিনি।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ