কেন এই পর্নস্টারকে ‘দেবী’ মনে করে চাইনিজরা (ভিডিও)

0

ঢাকা: সোলা আওই। জাপানিজ সাবেক পর্নস্টার। নিজ দেশের চেয়ে যিনি, চীনেই বেশি জনপ্রিয়। চীনের যুবসমাজ যাকে‘দেবী’, ‘শিক্ষক’ ইত্যাদি নামে ডাকে।

বিট্রিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ৩৪ বছর বয়সী সোলা আওই চাইনিজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিয়ের ঘোষণা দিয়েছেন। যা দেশটিতে বিস্ফোরকের মতো ছড়িয়ে পড়েছে!

এর কারণ হলো, চীনের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী যুবকদের কাছে তিনি ড্রিম গার্ল। আবার কারো কাছে ‘দেবী’।

ইংরেজি নববর্ষের প্রথম দিনেই তিনি তার এনগেজমেন্টের আংটিসহ টুইটারের চাইনিজ ভারসন weibo-তে একটি ছবি আপলোড করেন এবং বিয়ের ঘোষণা দেন। আপলোডের মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় ১ লাখ ৭০ হাজার মন্তব্য এবং সাড়ে ৮ লাখ লাইক হয়।

সেখানে তার এক ভক্ত লেখেন, ‘তোমার মুভি দেখে আমি ‘সাবালক’ হয়েছি, সর্বদায় আমি তোমাকে সমর্থন করবো।’

অপর এক ভক্ত লিখেছেন, ‘তুমি আমার ‘দেবী’…..সর্বদায় তোমার মঙ্গল কামনা করি।’

চাইনিজ যুবকদের ‘যৌন শিক্ষক’ আওই
জাপানি ভাষায় সোলা আওই আসলে দুইটি রঙয়ের নাম- ‘নীল ও আকাশি’। ২০০০ সালে যখন তিনি পর্নগ্রাফ্রি জগতে পা রাখেন, তখন তার পরিচালক সোলা আওই নাম দেন। ২০০৩ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যেই তিনি প্রায় ৯০টি অ্যাডাল্ট ফ্লিমে অভিনয় করে ব্যাপক সাড়া ফেলেন।

চীনে পর্নগ্রাফি পুরোপুরিই নিষিদ্ধ, কিন্তু দেশটির উন্মাদ ছেলে মেয়েদের আওই’র ছবি দেখা থেকে বিরত রাখতে পারেনি দেশটির চীনা কমিউনিস্ট সরকার।

তেমনটিই বিবিসির কাছে মন্তব্য করেন ২৭ বছর বয়সী যুবক লিউ কুইআং (ছদ্মনাম), ‘কিশোর বয়সে চীনের ছেলে মেয়েরা পরিবারের কাছ থেকে সঠিক যৌন শিক্ষা পায় না, সোলা আওই তাদের সেই শিক্ষা দিচ্ছে। তাই সে আমাদের শিক্ষক।’

চীনে তার জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে ইন্টারনেটের বিস্তার ঘটার মধ্যমে। নতুন ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে।

আওইয়ের তৈরি চাইনিজ ক্যালিওগ্রাফি

লিউ যখন স্কুলে পড়তো, তখন তার বন্ধুদের থেকে আওইয়ের এমপি-৪ ভিডিও নিয়ে দেখতো। এরপর যখন টেকনোলজির উন্নতি ঘটলো, ইন্টারনেট আসলো তখন ওয়েবসাইটে তার ভিডিও দেখেন।

চাইনিজ ইউনিভারসিটি অব হং কং’র জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ওয়াই-মিং এনজি বলেন, ‘সোলা আওই ঠিক সময়ে চীনের বাজার ধরতে পেরেছে।’

‘যখন সে চীনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে, তখন দেশটি কেবল বাইরের বাজার ধরছে- যৌনতাও তার মধ্যে একটি।’

চীনে তরুণ তরুণীরা পরিবার থেকে যৌন শিক্ষা খুব কম পায়। লজ্জায় তাদের বাবা মা তাদের এই শিক্ষা দেয় না বললেই চলে।

২০০৯ সালে পিকিং ইউনিভারসিটি থেকে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ২২ হাজার তরুণ তরুণীদের মাধ্যে একটি জরিপ চালিয়েছিল। যাতে দেখা গেছে, ৪ দশমিক ৪ শতাংশ ছেলে মেয়ের যৌনতা সম্পর্কে সঠিক ধারণা আছে। ওই গবেষণা পত্রে উল্লেখ আছে, যারা এসব শিখেছে, তারা নিজের চেষ্টায় সেটা শিখেছে।

চীনের প্রথম যৌন বিশেষজ্ঞ লি ইয়িনহি অবশ্য যৌনশিক্ষার জন্য পর্নকে মাধ্যম হিসেবে গ্রহণের বিরোধীতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘পর্ন মুভিতে যৌনতা আছে, তবে তা অতিরঞ্জিত। এখানে যে পন্থায় যৌনতা দেখানো হয় তাতে হিতে বিপরীত ঘটবে।’

‘এতে যুবকদের যৌন চাহিদার বিকৃতি ঘটবে এবং যৌন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দিতে পারে’- বলে যোগ করেন তিনি।

কেন এই পর্নস্টারকে ‘দেবী’ মনে করে চাইনিজরা (ভিডিও)

দ্য নাইট অব সোলা আওই
পর্ন তো দিন দিন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে, আওই কী পারবেন এই গতিরোধ করতে? এশিয়া মহাদেশে পর্নকে মনে করা হয় খুবই খারাপ কিছু, যা উচ্চারণও করা যায় না। কিন্তু, আওই বলেন, তিনি ‘তার অতিতের জন্য লজ্জিত নন’ কারণ তার পেশা পর্নগ্রাফি।

তিনি সর্বদায় বলেন, তিনি ‘তার কাজকে উপভোগ করেন’, কারণ, এর মাধ্যমেই তিনি বিশ্বে পরিচিতি পেয়েছেন, ভক্তও ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্ব ব্যাপি।

এমনকি কখনো যদি তিনি কুরিচি মন্তব্যের মুখোমুখি হন। তখন বিনয়ের সঙ্গেই সেটা মোকাবেলা করেন।

আওই ২০১০ সালে তার টুইটার অ্যাকাউন্ট খোলেন। চীনে এই খবর ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে টুইটার নিষিদ্ধি। কিন্তু, সরকারের এই সিদ্ধান্তও দমাতে পারেনি চীনের ভক্তদের তারা ভিপিএন’র মাধ্যমে তাকে অনুসরণ করা শুরু করে। সে সময় চীনা ভক্তরা তাকে ‘দ্য নাইট অব সোলা আওই’ উপধীতে ভুষিত করেছে।

এর সাত মাস পরে টুইটার চাইনিজ ভারসন weibo চালু করেন আওই। এখন তার অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৮০ লাখা ফলোয়ার, যা মার্কিন গ্রামি জয়ী গায়িকা টেইলর সুইফট এবং ইংলিশ ফুটবলার ডেভিড বেকহামের সমান।

আওই ২০১১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্নগ্রাফিতে অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন। এখন মুলধারার ছবিতে অভিনয় ও গান গাইছেন। তিনি একক গানের অ্যালবাম বের করেছেন, ছবিতে অভিনয় করেছেন। যেগুলো, অনলাইনে ছেড়েছেন চীনে যার ব্যাপক মার্কেট পেয়েছে।

তিনি চীনা ভাষা ও ক্যালিওগ্রাফি শিখেছেন। ২০১৩ সালে তার তৈরি একটি চীনা ভাষার ক্যালিওগ্রাফি বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি টাকায় ৭৮ লাখ টাকা।

চীনে আওই গেলে দর্শক হুমড়ি খেয়ে পড়ে

আওই কী চীন জাপানের সেতুবন্ধন?
চীনের যে পরিমাণ আওইয়ের জনপ্রিয়তা, তাতে অনেকেই বলেন দুই দেশের সেতুবন্ধনে রূপ নিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকেই চীন ও জাপানের মধ্যে দিয়াইয়ু ও সেনকাকু দ্বীপ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছে।

এটা নিয়েই কথা বলেছেন, চাইনিজ লেখক ওয়েনউই হাং, যিনি জাপানেই বাস করছেন। তিনি বলেছেন, “আওই চীন ও জাপানের মধ্যে সেতুবন্ধন হতে পারে। ‘দিয়াইয়ু ও সেনকাকু’ জাপান-চীনের, কিন্তু সোলা আওই সারা বিশ্বের।”

অধ্যাপক এনজি বলেছেন, সোলা আওই ‘চীনের বিস্ময়’ য়ে পরিণিত হয়েছে। শুধু গ্লোবালাজেশনের কারণেই সম্ভব হয়েছে।

ভিডিও:

 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ