মাদক সম্রাট টিপুর নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র

0

সিএন ডেস্ক : পুলিশের খাতায় তিনি টিপু সুলতান ওরফে ল্যাংড়া টিপু নামে পরিচিত । এলাকায় মাদক সম্রাট নামে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী টিপু সুলতান । মাদক মামলার এজাহার নামীয় এই আলোচিত মাদক সম্রাটের নাম বাদ দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র  দিয়েছে গোদাগাড়ী থানা পুলিশ।

দুইটি মাদক মামলা থেকে অব্যহৃতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। একই আসামীকে আরও একটি মাদক মামলা থেকে অব্যহৃতি দিয়ে আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছে পরিদর্শক এল.আই বিজিবি। অব্যাহতিপ্রাপ্ত প্রভাবশালী মাদক সম্রাট টিপু সুলতান চাঁপানবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের কটাপাড়া গ্রামের আবু বাক্কার ওরফে ঝাটুর ছেলে। বর্তমানে তিনি ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তারা যে অভিযোগপত্র  আদালতে জমা দিয়েছেন সেখানে নাম নেই আলোচিত মাদক সম্রাট শাহিদ রানা টিপুর। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ অর্থের প্রভাবে থানা পুলিশ অভিযোগপত্র থেকে তার নাম বাদ দিয়েছে। জেলার শীর্ষ ইয়াবা ও অবৈধ মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায় ১ নম্বরে রয়েছে টিপু সুলতানের নাম ।  নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ সদস্য জানান, সম্প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় থেকে টিপু সুলতানসহ ৪৩ জনের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ এসেছে।

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশের সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখে ভারত থেকে মাদকদ্রব্য এনে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ী দিয়ে পাচার করে থাকে। চাঁপানবাবগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীরা গোদাগাড়ীকে মাদক পাচারের রুট হিসেবে ব্যাবহার করে থাকে। গোদাগাড়ী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে মাদক কেলেঙ্কারি ও পরিকল্পিত ভাবে অভিযোগপত্র থেকে অপরাধীদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে । এছাড়াও মামলার এজাহার ও তদন্তে গাফিলতির কারনে অনেক আসামি আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যায়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী থানার এফআইআর নং -৬, জিআর নং ৬ তারিখ ৫ ই জানুয়ারি ২০১৬, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১৯(১) এর ১ (খ), গোদাগাড়ী থানার এফআইআর নং -১৮ জিআর নং ১৫৯/২০১৬ তারিখ ১১ই জুন ২০১৬, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ধারা ১৯(১) এর ৯ (খ) ও  গোদাগাড়ী থানার এফআইআর নং -২২ তারিখ ১৭ ই  সেপ্টেম্বর  ২০১৪, ১৯৯০ সালের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ১৯(১) এর ১ (খ) ধারার মামলায় এজাহার নামীয় আসামী টিপু সুলতান ।

তিনটি মামলার অভিযোগ পত্রে তদন্ত কর্মকর্তারা যে অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিয়েছেন সেখানে নাম নেই আলোচিত মাদক স¤্রাট শাহিদ রানা টিপুর। অনুসন্ধানে জানা যায়, জি.আর – ৬/২০১৬ নং মামলাটির অভিযোগপত্র নং ৩৭ তারিখ ১২/০২/২০১৬ , জি.আর – ১৫৯/২০১৬ নং মামলাটির অভিযোগপত্র নং -৩০৬ তারিখ ২০/১০/২০১৬ , জি.আর ৩১০ নং মামলাটির অভিযোগপত্র নং – ৪০৩ তারিখ ১০/১২/২০১৪ তিনটি অভিযোগপত্র থেকেই তাকে অব্যাহৃতি দেওয়া হয়েছে ।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন চাঁপানবাবগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক এ্যাড. সৈয়দ শাহজামাল বলেন, মামলার এজাহার এবং চার্জশীটের দুর্বলতা এবং গাফিলতির কারণে অনেক ক্রিমিনাল মামলার আসামী আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায় । অনেক সময় বড় বড় ঘটনায় ফাইনাল রিপোর্ট দেয়ার ঘটনাও দেখা গেছে। এ ক্ষেত্রে অনেক সময়ই দেখা গেছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরিকল্পনা মাফিক আবার অনেকে অজ্ঞতার কারণেই তা ঘটিয়েছে।  মাদক মামলার আসামীর চার্জশীট থেকে বাদ দেওয়া আইনের চুড়ান্ত অপব্যবহার। এতে করে মাদকের গডফাদাররা ধরাছোয়ার বাইরে থেকে যায়। প্রশ্নবিদ্ধ হয় পুলিশের কর্মকান্ড।


 

 
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ