শেখ হাসিনাকে ঘিরে চাঙ্গা রাজশাহী আ,লীগ

0

রাজশাহীর বিভিন্ন মোড়ে দাঁড়িয়ে কোনো স্থাপনার দিকে তাকালে চোখে পড়বে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমন উপলক্ষে দেয়াল লিখন। সেই দেয়াল লিখনে ফুটে উঠেছে নান্দনিকতার ছাপ। এছাড়া নগরীও সেজে উঠবে বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন ও আলোকসজ্জায়।সবকিছুই হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে আগমনকে ঘিরে। কারণ তিনি আসবেন উন্নয়নের বার্তা নিয়ে। সেই বার্তাকে বরণ করে নিতেই এই আয়োজন।

সেইদিন বিকেলে রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে মহানগর আওয়ামীলীগ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখবেন। নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রধানমন্ত্রী এ সফর করছেন। মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও রাজশাহীর উন্নয়নে নানা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ইতোমধ্যে সাজ সাজ রব পড়ে গেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গসংগঠনের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করছেন মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ। ইতোমধ্যে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ১২ সদস্যের উপকমিটিও গঠন করা হয়েছে।

এর মধ্যেই ৮ তারিখে খালেদা জিয়ার রায় ঘোষণা করা হবে। তবে এ রায় নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের। রায় আদালতের স্বাভাবিক নিয়মে হবে বলে মনে করেন নেতাকর্মীরা। তবে রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমনে মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, মহানগর আওয়ামী লীগের সব কর্মসূচি এখন পালিত হচ্ছে ২২ ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে। ৮ তারিখে খালেদা জিয়ার রায় আদালতের স্বাভাবিক নিয়মে হবে। তবে রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমন করা হবে।

মহানগর আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগ ইতোমধ্যে নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করেছে। এর মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সভা ও নগরীর থানা আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভা। প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এখন ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একইভাবে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনেরও ধারাবাহিকভাবে বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এছাড়া পুরো নগরীজুড়ে ব্যানার, পোস্টার ও ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছে। একইসাথে মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ সভা করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিটি মহল্লায় গিয়ে গিয়ে জনসংযোগ করা হচ্ছে।

মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার জানান, প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করার লক্ষ্যে নানা কর্মসূচি পালন করছি। ইতোমধ্যে থানাগুলোর বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন ওয়ার্ড পর্যায়ের বর্ধিত সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১০ তারিখের পর থেকে আমরা প্রচার মিছিল করবো। এছাড়া ১১ই ফেব্রুয়ারি নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের যৌথ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে কেন্দ্রীয় নেতারা অংশগ্রহণ করবেন। এছাড়া ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে জিরোপয়েন্টে মহানগর আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম। এছাড়া জনসভার ৮দিন আগে থেকে নগরীতে টানা প্রচার মাইকিং করা হবে।

ডাবলু সরকার বলেন, আমরা চাই জনসভায় দলীয় লোকদের চেয়ে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে। এইজন্য আমরা প্রতিটি মহল্লায় জনসংযোগ শুরু করেছি।

জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও জেলা, উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হবে ৮ই ফেব্রুয়ারি থেকে। এছাড়া ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন, মাইকিংসহ নানা উপকরণ ব্যবহার করে জনসভার খবর প্রচার করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, যথারীতি প্রচার কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। তবে আমাদের প্রধান টার্গেট হচ্ছে সচেতনতামূলক সভা করা। যাতে করে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করে জনসভায় অংশগ্রহণ করানো যায়।

আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করেই ২২ই ফেব্রুয়ারি রাজশাহীতে আসছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেদিন তিনি উন্নয়নের নানা ফলক উন্মোচন করবেন। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকেও নানা দাবি প্রধানমন্ত্রীর কাছে উত্থাপন করা হবে। দাবিগুলোর মধ্যে আছে, রাজশাহী ঢাকা ননস্টপ ট্রেন সার্ভিস চালু, রাজশাহী থেকে আব্দুলপুর ডাবল গেজ লাইন, রাজশাহী কলকাতা সপ্তাহে দুইদিন ট্রেন সার্ভিস চালু, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, মাধ্যমিক পর্যায়ের দুইটি সরকারি স্কুল স্থাপন (বালক ও বালিকা) ও শহিদ কামারুজ্জামান চত্বর থেকে নওহাটা পর্যন্ত চার লেন সড়কসহ নানা দাবি তুলে ধরা হবে।

৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার রায় নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই স্থানীয় আওয়ামী লীগের। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনসভা সফল করার লক্ষ্যে এ রায় কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে না বলেও মনে করেন নেতাকর্মীরা। তবে রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা রাজনৈতিকভাবে দমন করার জন্য মাঠে থাকবে আওয়ামী লীগ।

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ বলেন, রায় নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তবে রায় নিয়ে কোনো সহিংসতা তৈরি করা হলে আওয়ামী লীগ তা রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করবে। মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার বলেন, রায় নিয়ে আমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই। রায় আদালতের নিজস্ব নিয়মে হবে। তবে রায় নিয়ে যেকোনো ধরনের সহিংসতা দমনে মাঠে থাকবে মহানগর আওয়ামী লীগ। ওইদিন সকাল ৮টা থেকে জিরোপয়েন্টে অবস্থান নিবে মহানগর আওয়ামী লীগ।pbd.news


 

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ