চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেয়ে বাবা মিলে জামাইকে হত্যার চেষ্টা

0

নিজস্ব প্রতিবেদক: চাঁপাইনবাবগঞ্জে মেয়ে ও বাবা মিলে জামাইকে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে । এ ঘটনায় গুরুত্বর আহত যুবক মাসুম পারভেজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। জানা যায়, চাঁদপুর জেলার ফরিদগঞ্জ থানার সাচিয়াখালি গ্রামের মৃত খলিলুর রহমান ছেলে মাসুম পারভেজ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার নতুন হুজরাপুর গ্রামের রেজাউল করিমের মেয়ে নাজনিন নাহার সুষমা কে ২০১৬ সালের ১৫ ই মে বিয়ে করেন। মাসুম পারভেজের বাবা মৃত খলিলুর রহমান বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তে চারকুরীর সু্বাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসেন। শহরের শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের ছাত্র ছিলেন মাসুম পারভেজ। সে সময় সুষমার সাথে পরিচয় হয় পারভেজের। দীর্ঘ সময় প্রেম অতপর বিয়ে করেন তারা। তবে বিয়ের বিষয়টি ছেলের পরিবার জানলেও জানতোনা মেয়ের পরিবার। পারভেজের সাথে সংসার কালিন সময়ে পূর্ব পরিচিত এক ছেলের সাথে পরকিয়া প্রেমে জড়িয়ে যায় সুষমা । এর পরই মেয়ের পরিবার কে সব ঘটনার বিস্তারিত জানায় মাসুম পারভেজ। এসময় কৌশলে নিজের মেয়েকে বাসায় এনে ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর ডিভোর্স লেটার পাঠায়। তবে ডিভোর্স লেটার গ্রহন না করে ভেদাভেদ ভুলে নিজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে চেষ্টা চালায় মাসুম। ডিভোর্স লেটার গ্রহন না করা ও নিজ স্ত্রীকে ফিরে পেতে অব্যাহত চেষ্টা করার অপরাধে বাবা মেয়ে মিলে মাসুম পারভেজ কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় দায়েরকৃত অভিযোগটি তদারকি করছেন সদর মডেল থানার ওসি তদন্ত মোঃ আতিকুল ইসলাম।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত রেজাউল করিম চলমান বিবাদটি সুরাহা করার কথা বলে মাসুম পারভেজ কে মোবাইল ফোনে গত ৯ ই ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ আদালত চত্বরে আসতে বলেন । শ্বশুরের কথা শুনে আপোষ মিমাংসার লক্ষে ঘটনার দিন সকাল ৯ টার সময় আদালত চত্তরে আসে মাসুম পারভেজ। পূর্বের কথা মত অভিযুক্ত রেজাউল করিম তার মেয়ে নাজনিন নাহার সুষমা ও মেজো মেয়ে মোসাঃ বিথী কে সাথে করে নিয়ে আসেন। প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে আলোচনা করা যাবেনা বলে অটোরিক্সা যোগে পিকনিকের নামে গোদাগাড়ী থানাধীন মোহনপুর দরগা নামক নির্জন মাঠে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে গিয়ে জোর পূর্বক নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করার কথা বলে। রাজি না হওয়ায় আগে থেকে ঘটনাস্থলে থাকা রেজাউল করিমের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা তাকে এলোপাথাড়ি ভাবে মারধর করে। এসময় তার কাছে থাকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।

আহত মাসুম পারভেজ জানায়, পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমাকে হত্যার উদ্দ্যশ্যে নির্জন জঙ্গলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আমাকে মেরে পুতে ফেলার জন্য মাটি খুড়ে রেখেছিলো তারা । আমি আমার শশুরকে উদ্দেশ্য করে বলি আমি আপনার কাছে এসেছি এটা অনেকেই জানে। আমার এ কথা শুনে আমাকে প্রানে বাঁচিয়ে রাখে তারা। তবে মারধোরের সময় আমাকে অস্ত্র অথবা মাদকদ্রব্য দিয়ে পুলিশে দেওয়ারও কথা বলে রেজাউল করিম। এরপর চাঁপাইনবাবগঞ্জে আসলে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে নিস্তেজ অবস্থায় আমাকে ঘটনাস্থলে ফেলে রেখে চলে আসে।

এ বিষয়ে গত ৯ ফেব্রুয়ারি (ঘটনার দিন) শুক্রবার বিকেলে অভিযুক্ত রেজাউল করিমের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হয়। তিনি ফোনে কোনো মন্তব্য করবেননা জানিয়ে সন্ধ্যার সময় সাক্ষাতে কথা বলতে চান। তবে তিনি দুই দিনেও প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করেননি। এ ঘটনায় রেজাউল করিমের মেয়ে নাজনিন নাহার সুষমার সাথে গত ১০ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যার পর যোগাযোগ করা হয়। তবে তিনি এই বিষয়ে কথা বলতে প্রস্তুত নন জানিয়ে পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি বিকেল পাঁচটায় যোগাযোগ করতে বলেন। ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে পরে কথা বলছি জানিয়ে ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ