ভ্যালেন্টাইনের শেষ কোথায়

0

ফিচার ডেস্কঃ উৎসব প্রিয় জাতি হিসেবে আমাদের সুনাম বিশ্বজোড়া! ধর্মীয় তাৎপর্য থেকে এদেশের মুসলমানগন ঈদ ও হিন্দুরা পুজার উৎসবে আনন্দ করেন। কেউ কেউ ব্যাক্তিগত উদ্যোগে জন্মদিন, মৃত্যুদিবস ও পালন করেন পারিবারিকভাবে

এছাড়াও আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে স্বীকৃতি ও সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়াসে কিছু প্রয়োজনীয় দিবস পালন করা হয় যেমন শ্রমিক দিবস, ডায়াবেটিকস ডে ইত্যাদি। এসব দিবস পালনের মাঝে কিছু লাভজনক দিক আছে যেমন শ্রমিক দিবসে আমরা শ্রমিকের অধিকার নিয়ে সচেষ্ট হতে পারি তেমনি ডায়াবেটিস দিবসে ডায়াবেটিস এর কারন প্রতিকার নিয়ে কথা বলতে পারি। এই দিবস গুলো প্রয়োজনীয় এবং গুরুত্বপূর্ন।

কিছুদিন যাবৎ চোখ নিয়ে অদ্ভুত সমস্যায় ভুগছি- আলোতে চোখে দেখতে পাই, এমনকি অন্ধকারেও বেশ ভালোই দেখি তবে অল্প আলোতে সব উল্টো-পাল্টা দেখি, এমন চোখে দিবস নিয়ে বৈশাদৃশ্য বৈ স্বাভাবিক কিছু চোখে না পড়াই অস্বাভাবিক যেমন- ফ্রেন্ডশিপ ডে, ভ্যালেন্টাইনস ডে। ইতিহাস সাক্ষী আমার চোখ ভুল দেখেনি

বিশ্বমোড়ল আমেরিকার পুঁজিবাদী চক্রান্তে সারা বিশ্বে তাদের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নিশৃংসতার ইতিহাস চাপা দিতে গিয়ে ফ্রেন্ডশিপ ডে’র সৃষ্টি করা হয়েছিলো এর আড়ালে “হিরোশিমা দিবস” কে মানুষের মন থেকে মুছে ফেলতে তেমনি আমাদের দেশে স্বৈরাচারকে পূনঃ পূনঃ ব্যবহার করে ক্ষমতার মনসদে বসতে মরিয়া কিছু ক্ষমতালোভী রাজনীতিবিদদের উৎসাহ কিংবা নিরবতায় ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারির “স্বৈরাচার প্রতিরোধ দিবস” হারিয়ে গেছে ভ্যালেন্টাইনস ডে’র নির্লজ্জতায়। ১৯৮৩ সালের ১৪ই ফেব্রুয়ারির শহীদ জাফর-জয়নাল-দিপালী এখন কবরে শুয়ে প্রতিটি ভালোবাসা দিবসে লজ্জায় লীন হয়।

১৪ ই ফেব্রুয়ারী, ভ্যালেন্টাইনস ডে। আমাদের দেশে “বিশ্ব ভালোবাসা দিবস”। বিশ্বের অনেক দেশেই এটি পালিত হয় একে কাজে লাগিয়ে শফিক রেহমান সাহেব ভালবাসা দিবস পালনের আহবান জানিয়ে একটি পত্রিকার কাটতি বাড়াতে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করলো আর হুজুগে বাংগালীকে পায় কে? তখন থেকে বাংলাদেশের তরুণদের কাছে দিনদিন ব্যাপকহারে পরিচিত হতে থাকে। কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস ও পার্কে তরুণ-তরুণীরা সোল্লাসে পালন করে এ দিবস। মূলত কার্ড ও বিভিন্ন উপহারসামগ্রী বিত্রেতারাই নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থে এ দিবসের প্রচারণায় ইন্ধন যোগায়। এদিন যুবক-যুবতীরা যা করে তা শুধু ইসলামের দৃষ্টিতেই নয়, তথাকথিত আবহমানকালের বাঙালী সংস্কৃতির আলোকেও সমর্থনযোগ্য নয়।

ভালোবাসার জন্য কোনো বিশেষ দিবসের প্রয়োজন হয় না। বিশেষ পাত্র বা পাত্রীরও প্রয়োজন পড়ে না। কিন্তু বেলেল্লাপনা, বেহায়াপনা করার জন্য বিশষ সময়, দিবস লাগে, বিশেষ পাত্র বা পাত্রীর দরকার পড়ে। তাই ভালোবাসার কোনো দিবস পালন করা একটি ভাওতাবাজি ছাড়া কিছুই নয়। হ্যাঁ, বেহায়াপনার জন্য দিবস হতে পারে। কারণ অশ্লীলতা চর্চাকারীরা তাদের নির্লজ্জ আচরণ সবসময় করতে পারে না, সবার সাথে করতে পারে না। এর জন্য উপলক্ষ দরকার। যে দিবসের আড়ালে বেলেল্লাপনা চর্চার সুযোগ সৃষ্টি হবে। আধুনিক প্রেমিক প্রেমিকাদের তো নস্টামি করতে শুধু দরকার বিশেষ বিশেষ দিনের অজুহাত, তা সে ১৬ই ডিসেম্বরই হোক কিংবা ১৪ই ফেব্রুয়ারি

আবার ইদানিং ট্রেন্ড হলো ভালবাসা দিবসের আগে আরও কয়েকটি দিন যুক্ত হয়েছে রোজ ডে , প্রোপোজ ডে, চকলেট ডে, টেডি ডে, প্রমিজ ডে, হাগ ডে, কিস ডে! একটু লক্ষ্য করে দেখুন দিনগুলোর নাম একটি ধারায় আস্তে আস্তে কোন দিকে যাচ্ছে, এসবই আধুনিক প্রেমিক প্রেমিকাদের কাছে একই সুতোয় বাধা কিছু নোংরামির দিন, স্মার্ট প্রেমিক রোজ ডে তে গোলাপ দিবে, প্রোপোজ ডে তে ভালবাসা জ্ঞাপন করবে, চকলেট ও টেডি ডে তে এগুলো দিয়ে কিছু ইনভেস্টমেন্ট করবে, তারপর পাশে থাকার মিথ্যা প্রতিশ্রুতির প্রমিজ ডে, অতঃপর প্রেমিকাকে জড়িয়ে ধরার কিংবা চুম্বনের লাইসেন্সপ্রাপ্ত দিন হাগ ডে ও কিস ডে, সবশেষে লাস্ট ভ্যালেন্টাইন ডে তে কি হয় তা আর নিশ্চয় খুলে বলার দরকার নেই, আমি ব্যাক্তিগত উদ্যোগে লিস্টির শেষে আরেকটি দিন যুক্ত করেছি -ব্রেকআপ ডে, কারণ সহজ – যে প্রেমিক প্রেমিকার সাথে বিয়ের আগেই এভাবে ভালবাসা দিবস পালন করবে, সে তার নিয়ে ভবিষ্যৎ চিন্তা করবে না সুতরাং ব্রেকআপ নিশ্চিত, আর কিস হাগ সবই যেহেতু একই সিরিয়ালে আছে তো ব্রেকাপটাও সিরিয়ালে রাখলে খুব একটা বেশী সমস্যা হবে লিস্ট বড় হবে বলে মনে হয় না

দিন বদলের সাথে সাথে ছেলে মেয়েরা আধুনিক হচ্ছে। ভালোবাসা দিবসকে উপলক্ষ করে প্রেমিকের সাথে লংড্রাইভ, রেস্টুরেন্টে খেতে যাওয়া, ফুল-কার্ড দিয়ে সেলিব্রেট করা এগুলো এখন আমাদের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে

অথচ ভালোবাসা এক পুণ্যময় ইবাদতের নাম। ভালোবাসতে হবে প্রত্যেক সৃষ্টজীবকে, প্রতিটি মুহূর্তে। এর জন্য কোনো দিন নির্ধারণ করা, বিশেষ উপায় উদ্ভাবন করা মানব জাতির চিরশত্রু ইবলিসের দোসর ছাড়া অন্য কারও কাজ হতে পারে না।

তাই আসুন আমরা বাংলাদেশীরা ১৪ই ফেব্রুয়ারিকে স্বৈরচার প্রতিরোধ দিবস হিসেবে পালন করি। নয়তো রাধা-কৃষ্নের অজুহাতে কোন কুলাঙ্গারের লালসার স্বীকৃতি দিতে আগামী দিনে হয়তো মামী দিবসের দেখা পেতে পারেন। অতএব সময় থাকতেই সাধু সাবধান?

লেখক পরিচিতিঃ-

মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ)

তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিন মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ২০০৪-০৫ শেষনের মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন সহ এ্যাফিলিয়েটেড আইএমটি থেকে ২০০৯ সালে ল্যাবরেটরি মেডিসিনে গ্রাজুয়েশন ও ২০১৫ সালে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে মাইক্রোবায়োলজী তে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ বিষয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত আছেন।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ