মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আত্ম-উপলব্ধিঃ

0

জনবল প্রতিষ্ঠানের প্রান, প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘস্থায়ী উন্নয়ন কিংবা ধ্বংস এদের উপরই নির্ভরশীল। ইচ্ছাশক্তি ও কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠানে চার ধরনের লোক কাজ করে।

  1. Monkey Employee: এদের দক্ষতা কম থাকলেও প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকে, নিজেদের ক্যারিয়ার নিয়ে সচেতন এবং উচ্চকাংখী। তারপরও এদেরকে Monkey Employee বলার কারন হল এরা বানরের মত এনার্জিটিক হয় এবং অল্প সময়ে অনেক কিছু করে ফেলার চেষ্টা করে। প্রতিষ্ঠানে আমূল পরিবর্তনের আশা করে, নতুন নতুন আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে চায়, প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও গতিশীলতা আনার জন্য কাজ করতে চায়। সাধারনত এরা নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মী। এদের নতুন কিছু করার প্রবল ইচ্ছা থাকে কিন্তু এদের কাজের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কম থাকে।

2. Parasite Employee: এই ধরনের এমপ্লয়ীদের কাজ করার ইচ্ছা ও দক্ষতা কোনটাই থাকে না। এরা অলস প্রকৃতির হয়, প্রতিষ্ঠানে চরে বেড়িয়ে খেতে পছন্দ করে। এরা যখন প্রতিষ্ঠানে জয়েন করে তখন তাদের কি কাজ করতে হবে তা না খুঁজে প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতাবানদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করে এবং সেইসব লোকের সাথে লিয়াঁজো বজায় রেখে চলে। এরা জুনিয়র ম্যানেজমেন্ট লেভেলের লোক।

3. Star Performer: এই ধরনের এমপ্লয়ীরা দায়িত্বপ্রাপ্ত ও ক্ষমতাবান হয়ে থাকে। এরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানে কাজ করে এবং প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় যথেষ্ট ভুমিকা রাখে কিন্তু এদের নতুন কোন কিছু করার ইচ্ছাশক্তি থাকেনা বললেই চলে। মূলত এরা মিড ম্যানেজমেন্ট লেভেলের হয়ে থাকে। এরা সবসময় মন্কি ও প্যারাসাইটদের সাথে নিয়ে পলিটিক্স করে টপ লেভেলে উঠার ধান্দা ফিকিরে ব্যাস্ত থাকে

  4. Visionary: এই ধরনের এমপ্লয়ীরা খুব অভিজ্ঞ ও দক্ষ এবং প্রবল ইচ্ছাশক্তি সম্পন্ন হয়। এরা প্রতিষ্ঠানের ও ব্যবসার সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রনে রাখে। এরা প্রতিষ্ঠানকে কিভাবে এগিয়ে নিয়ে যাবে, প্রতিষ্ঠানে কীভাবে কর্পোরেট কালচার আনবে, প্রতিষ্ঠানকে আরও গতিশীল করবে, ব্যবসাকে কিভাবে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী করবে তা নিয়ে কাজ করে। এরা মূলত টপ ম্যানেজমেন্ট লেভেলের হয়ে থাকে।

এখন প্রশ্ন হল এই চার ধরনের এমপ্লয়ীদের মধ্যে কারা প্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর ও বিপদজনক?

এ বিষয়ে রয়েছে নানান মতবাদ-যেমন

কারও মতে- মান্কি এমপ্লয়ীরা – কারন তারা কি করতে হবে তা না জেনে শুধু পরিবর্তন জন্য আশা করে থাকে। অন্য মতে- প্যারাসাইটরা – বিপদজনক কারন তারা কোন কাজতো করেই না বরং অন্যরা কাজ করতে গেলে তাদেরকে কাজ করতে বাধা প্রদান করে।

কারও মতবাদ- স্টাররা – কারন তারা সবসময় নেতিবাচক মনোভাব নিয়ে থাকে এবং সবসময় নেতিবাচক কর্পোরেট পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত থাকে।

সর্বশেষ মতবাদ- ভিশনারীরা – কারন তারা কারও উপর সহজে আস্থা রাখতে পারেননা। আমার মতে যে কোন সার্ভিস ওরিয়েন্টেড প্রতিষ্ঠানে, চার ধরনের এমপ্লয়ীদের মধ্যে সবচেয়ে বিপদজনক হল স্টার পারফরমাররা। কারন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে যাবার জন্য আগামীতে কি করতে হবে, কেন করতে হবে, কখন করতে হবে, কোথায় করতে হবে এবং কিভাবে করতে হবে সব কিছু তাদের ধারনা থাকা সত্ত্বেও শুধুমাত্র টপ লেভেল পজিশনে যাওয়ার জন্য, শুধুমাত্র তারা কর্পোরেট পলিটিক্স ব্যাতিত পরিবর্তনের জন্য কোন পদক্ষেপ নিতে চায় না। তাদের ইচ্ছাশক্তিকে দমিয়ে রাখে। তারা মনে করে প্রতিষ্ঠানের জন্য অনেক করেছি, প্রতিষ্ঠানের জন্য আরও কিছু করলেও বা না করলেও, যা পাচ্ছি তাই পাব। তো আর বেশী কিছু করার কি দরকার। পাশাপাশি স্টার পারফরমার ছাড়াও আরেকটি বড় সমস্যা হল প্যারাসাইট এমপ্লয়ীরা। স্টার পারফরমাররা অন্য থেকে সম্মান পাওয়ার আশায় থাকে। আর এই সুযোগে প্যারাসাইট এমপ্লয়ীরা তাদেরকে সব সময় জি হুজুর জি হুজুর করে ও চাটুকারিতায় লিপ্ত থাকে। এতে সম্মানবোধ করে ফলে স্টার রা প্যারাসাইট এমপ্লয়ীদেরকে শেলটার দেয়া শুরু করে, তাদেরকে অনৈতিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করে এবং উভয়ে মিলে প্রতিষ্ঠানে Negative Political Nexus (কর্পোরেট সিন্ডিকেট) তৈরী করে বসে।

অলস ও অসাধু এমপ্লয়ীরা প্রতিষ্ঠানে কোথায় কি হচ্ছে, না হচ্ছে, কে কি করছে বা না করছে তা যোগ বিয়োগ করে স্টারদের জানায় এবং কি করলে প্রতিষ্ঠানে তাদের সিন্ডিকেটের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে তা নেতিবাচকভাবে তাদের কাছে উপস্থাপন করে। স্টার পারফরমাররা নিজেদের অবস্থান আরও জোরালো করার জন্য অন্যদের কথায় মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয় এবং তাদের সাথে নেগেটিভ কর্পোরেট পলিটিক্স নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার গতি নষ্ঠ হয় এবং প্রতিষ্ঠানে একধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি বিরাজ করে।

অপরদিকে, এনার্জেটিক এমপ্লয়ীরা যখন প্রবল উৎসাহ ও উদ্দীপনার সাথে পরিবর্তনের জন্য ‍বিভিন্ন উদ্দ্যোগ ও আইডিয়া, ভীশনারিদেরকে জানায় তখন ভিশনারীরা তাদের কথাকে গুরুত্ব দিতে চায় না বা তাদের কথা শুনতে রাজী হয় না অথবা বেশী পন্ডিত হয়ে গেছে বলে তাদেরকে তিরষ্কার করা হয়। এতে তারা অনুৎসাহিত হয়, তাদের ইচ্ছাশক্তিতে মরিচিকা ধরে, ইনেশিয়েটিভ নেয়ার ইচ্ছা নষ্ঠ হয়ে যায়, তাদের আত্মবিশ্বাস কমে যায়, প্রতিষ্ঠানকে নিজের করে নেয়ার (Ownership Development) ইচ্ছা চলে যায় এবং তাদের পারফরমেন্স কমে যায়। তারা শুধু ততটুকু কাজ করে যতটুকু করলে দায় এড়ানো যায়। পাশাপাশি নিজেদের ক্যারিয়ার গঠনের জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানে চাকুরী খুজতে শুরু করে এবং প্রতিষ্ঠান থেকে বের হয়ে যায়।

 

লেখক পরিচিতিঃ-

মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ)

তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিন মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ২০০৪-০৫ শেষনের মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন সহ এ্যাফিলিয়েটেড আইএমটি থেকে ২০০৯ সালে ল্যাবরেটরি মেডিসিনে গ্রাজুয়েশন ও ২০১৫ সালে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে মাইক্রোবায়োলজী তে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ বিষয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত আছেন।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ