ভিলেজ পলিটিক্স-গ্রাম ছাড়িয়ে এখন শহরে!

0

ভিলেজ পলিটিক্স হলো প্রত্যান্ত এলাকার, অপরাধমনস্ক মানুষের কুপ্রভাব বিস্তার, শত্রু বা বিরোধী পক্ষকে নিজ স্বার্থে ব্যবহার কিংবা ঘায়েল করার সুক্ষ অপরাধবিদ্যা।

শহুরে মানুষের কাছে একগুচ্ছ শব্দ হলেও, গ্রামীন জনপদে “ভিলেজ পলিটিক্স” এর ভুক্তভুগীদের কাছে এটি মুর্তিমান বিভিষিকা।

ক্ষমতা পোক্ত করতে, অন্যের সম্পদ দখল, কোনো শালিশকে নিজের পক্ষে টানতে গ্রামের নেতৃস্থানীয় ধনবান ব্যাক্তিরা এই ভিলেজ পলিটিক্স কে কাজে লাগায়।

এমনকি একটি গ্রামের সাথে অন্য গ্রামের সংঘর্ষের ফায়দা লুটতে তার কিংবা নির্বাচনে বিজয়ী হতেও তার ব্যবহার রয়েছে।

ভিলেজ পলিটিক্সে নিঃস্ব হয়ে সাধারন মানুষ, ঘটিবাটি বেচে গ্রাম পর্যন্ত ছাড়ে। এই ভিলেজ পলিটিক্সের ফাঁদে বহু নারী প্রতিনিয়ত নির্যাতিত হয়। এর বিস্তৃতি বহুদুর তাই ভিলেজ পলিটিক্স কী ও কেমন তা বোঝানো আমার অসাধ্য!

গ্রাম্য মানুষ, সংগঠন বা সংগঠনের নেতৃত্বকে সুকৌশলে এমনভাবে প্রভাবিত করা হয় যাতে অতি দায়িত্ববান ব্যক্তিও বুঝতে পারেন যে, তিনি কারো আঙ্গুল ইশারায় ব্যবহৃত হচ্ছেন!

ভিলেজ পলিটিক্সের নেপথ্যে সাধারণত গ্রামের শয়তান প্রকৃতির লোকেরাই থাকেন। তাঁরা কূটচালে এতই চতুর যে, মারাত্মক অপরাধ করেও তারা রয়ে যান ধরাছোয়ার বাইরে। তাঁদের বিরুদ্ধে কেউ টুঁ শব্দ ও করতে পারে না বরং কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে উল্টো তাকেই ফাঁদে পড়তে হয়, বিপদের বোঝা মাথায় নিতে হয়, জেলের ঘাঁনী টানতে হয়।

গ্রামের সবাই ভিলেজ পলিটিক্সের নায়কদের সামনা-সামনি সম্ভ্রমের দৃষ্টিতে দেখে ফলে দেখা যায় গ্রামের দশজন মানুষের চাঁদা, শ্রম দিয়ে তৈরী মসজিদেরও নামকরন হয় ভিলেজ পলিটিক্সের নায়কদের বাপ দাদার নামে, উপরন্তু নির্লজ্জভাবে আমি উমুক মসজিদ করে দিয়েছি এমন প্রচারে আমিত্ব জাহির করতেও কুন্ঠা বোধ করেনা তাই সামনাসামনি সম্মান প্রদর্শন করলেও ভিলেজ পলিটিক্সের নায়কদেরকে গ্রামের সুযোগসন্ধানী দুইএকজন চাটুকার ছাড়া বাকি সবাই ঘৃনার চোখেই দেখে।

ভিলেজ পলিটিক্সের নায়করা সবসময় সমাজের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে পরিচিতি লাভ করতে চান তাই গ্রামের কমিটি, সভা, জালসা, তাফসীর কমিটির সভাপতি সেক্রেটারী হওয়া নিয়েও চলে পলিটিক্স, পছন্দের পদ না পেলে শুরু হয় জালসা, তাফসীরের আয়োজন পন্ড করার কুটচাল, গোরস্থান ভাগাভাগী এমনকি ঈদের জামাত বয়কট করার মত ঘটনাও ঘটে। অনেকটা গাঁয়ে মানেনা, টাকার জোরে আপনিই মোঁড়ল অবস্থা।

ভিলেজ পলিটিশিয়ানরা অন্যের উন্নতি কখোনই সহ্য করতে পারেননা, গ্রামে কোন লোককে ধন-সম্পদে বা শিক্ষায়-দীক্ষায় উন্নতি করতে দেখলে, তাকে কিভাবে বিপদে ফেলে ধন-সম্পদ খোয়ানো যায় সেই চেষ্টা করা ভিলেজ পলিটিশিয়ানরা একটি সাধারন বৈশিষ্ট।

চোরকে বলে চুরি কর, আর গৃহস্থকে বলে সজাগ থাকিস।” এই কৌশলে একজনের সাথে আরেকজনের দ্বন্দ বাধিয়ে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে এরা বেশ সিদ্ধহস্ত।

সুন্দরী মেয়ে ভিলেজ পলিটিশিয়ানদের একটি বড় দুর্বলতা, ভাবী হোক কিংবা মামী, সুন্দরী রমনী চোখে পড়লে তাকে হাসিল করা চাই, নয়তো সুন্দরী সমাজের কাছে হয়ে যায় দুশ্চরিত্রা

সময় বদলে গেছে। স্মার্টফোন, ইন্টারনেট-সব জায়গায় দিন বদলের ছোঁয়া। প্রত্যান্ত এলাকার সাথে শহরের সহজ যোগাযোগ ব্যাবস্থার ফলে গ্রামের সহজসরল মানুষের সাথে ভিলেজ পলিটিশিয়ানরাও অন্যের চাক ভেঙ্গে মধু খাওয়ার লোভে শহরে ভিড় করছে

অতএব ভিলেজ পলিটিক্স মোকাবেলায় সতর্ক থাকুন অন্যকেও সতর্ক করুন।

লেখক পরিচিতিঃ-

মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ)

তিনি ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিন মেডিসিন ফ্যাকাল্টির ২০০৪-০৫ শেষনের মেধা তালিকায় ১ম স্থান অর্জন সহ এ্যাফিলিয়েটেড আইএমটি থেকে ২০০৯ সালে ল্যাবরেটরি মেডিসিনে গ্রাজুয়েশন ও ২০১৫ সালে প্রাইমএশিয়া ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে মাইক্রোবায়োলজী তে পোষ্ট গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন এবং বর্তমানে মাস্টার্স অব পাবলিক হেলথ বিষয়ে রাজশাহী ইউনিভার্সিটিতে অধ্যায়নরত আছেন।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ