নৌকার মাঝি হওয়ার দৌড়ে একঝাঁক সাবেক ছাত্রনেতা

0

আসন্ন একাদশ সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকার বেশ বড় একটা অংশ থাকবে তরুণদের দখলে। নতুন মুখগুলোর বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা। 

এ ছাড়া আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের নেতারাও রয়েছেন মনোনয়ন দৌড়ে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা।

নিজ নিজ সংসদীয় আসনের মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে নবীন-প্রবীণ মনোনয়নপ্রত্যাশী সব নেতার নজর এখন এলাকার দিকে।

এসব নেতা নির্বাচন সামনে রেখে অনেক দিন আগে থেকে এলাকায় যাওয়া-আসা করছেন। বিভিন্ন উৎসবকে কেন্দ্র করে তাদের জনসংযোগ বেড়েছে। রাজধানী বা অন্যান্য শহরে বসবাসরত এসব নেতা একটু সময়-সুযোগ পেলেই ছুটে যাচ্ছেন নির্বাচনী এলাকায়। 

তারা দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি নিয়মিত এলাকার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন। রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি যোগ দিচ্ছেন সামাজিক অনুষ্ঠানে।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতাদের অনেকে এলাকায় ইতিমধ্যে বেশ আলোচিত হয়ে উঠেছেন। মনোনয়নের দৌড়ে পুরনো প্রার্থীদের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগ কিংবা অঙ্গসংগঠনের নেতাও।

মনোনয়ন প্রত্যাশী এসব আলোচিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), আওয়ামী লীগের তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সচিব আব্দুল মালেক (পটুয়াখালী-১), সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কৃষি ও সমবায়বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪) ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), চট্টগ্রাম -৯ (কোতোয়ালী), কেন্দ্রীয় নেতা মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতা রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, জোটের বর্তমান এমপি জিয়াউদ্দিন বাবলু। কক্সবাজার ৩ আসনে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫), নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে আাওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ।

আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে মুন্সিগঞ্জ-২ আসনে প্রচারণায় নেমেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। অন্যদিকে ফরিদপুর-১ আসনে রীতিমতো জাগরণ তৈরি করেছেন সাবেক ছাত্রনেতা এবং ঢাকাটাইমস ও সাপ্তাহিক ‘এই সময়’ সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন।

ফরিদপুর-১ আসন (বোয়ালমারী- মধুখালী-আলফাডাঙ্গা) থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জনপ্রিয় ছাত্রনেতা লিয়াকত শিকদার। তিনি নীরবে দীর্ঘ দিন ধরে মাঠ পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছেন। বেশ জনপ্রিয় তিনি এলাকায়।

পটুয়াখালী-বাউফল(২) আসনটিতে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা জোবাইদুল হক রাসেল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দৌড়ে  অন্য সবার চেয়ে এগিয়ে। বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ড আর বিচক্ষণ নেতৃত্বগুণে ইতিমধ্যে বাউফলবাসীর আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন উঠেছেন দুঃসময়ের সাবেক এই ছাত্রলীগ নেতা। 

তরুণ এই ছাত্রনেতা আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর গুডবুকে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় আ.লীগের বেশ কয়েকজন শীর্ষনেতা। বাগেরহাট-৪ আসনে আলোচিত হয়ে উঠেছেন সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি এইচ.এম. বদিউজ্জামান সোহাগ।

মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলায় তীব্র দলীয় কোন্দলের মধ্যে এবার কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে কয়েক বছর ধরে এলাকায় গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। যিনি চট্টগ্রাম কক্সবাজারসহ সব জায়গায় সমান জনপ্রিয়।

কক্সবাজার (৩) সদর-রামু আসন থেকে কক্সবাজার ছাত্রলীগের বর্তমান সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ জয়ের নাম শুনা যাচ্ছে বেশ জোরেশুরেই। ছাত্রনেতা ইশতিয়াক আহমেদ জয় এই আসনের শক্তিশালী প্রার্থী হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

আলোচিত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), নুরুল ইসলাম ঠাণ্ডু, হাসান আলী (সিরাজগঞ্জ-১), হাবিবুর রহমান স্বপন, চয়ন ইসলাম (সিরাজগঞ্জ-৫)।  

গাইবান্ধার-৫ সাঘাটা ফুলছড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে কাজ করছেন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন।

আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আমিরুল আলম মিলন এবং ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি এ এইচ এম মাসুদ দুলাল, ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক খলিলুর রহমান, মহিলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক রোজিনা নাসরীন (বরগুনা-১), কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪)।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান দিপু (নারায়ণগঞ্জ-৫), ময়মনসিংহ আনন্দমোহন কলেজের সাবেক ভিপি সাজ্জাদ হোসেন শাহীন (ময়মনসিংহ-৪)।  

ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩)। ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর মাগুরা-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী।

বরিশাল-২ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহে আলম। সাবেক সভাপতি মাইনুদ্দিন হাসান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৪), সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না পিরোজপুর-২ আসনের নৌকার টিকিট প্রত্যাশী।

পটুয়াখালী-১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপকমিটির সাবেক সহসম্পাদক আলী আশরাফ।

আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রয়াত আব্দুল জলিলের ছেলে নিজাম উদ্দিন জন নওগাঁ-৫ আসনে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন।  নড়াইল-১ আসন বা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নারী সংসদ সদস্য ফজিলাতুন্নেসা বাপ্পী, মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১), শফি আহমেদ (নেত্রকোণা-৪), অজয় কর খোকন কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী।  

একই আসনে মনোনয়ন চান ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আজিজুল হক রানাও।

ঢাকার আসনগুলোতে নতুনদের মধ্যে আলোচিত মনোনয়নপ্রত্যাশীরা হলেন পনিরুজ্জামান তরুণ (ঢাকা-১),আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য হাজী মো. সেলিমের বড় ছেলে সোলায়মান সেলিম (ঢাকা-৭), আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোল্লা মো. আবু কাওছার, যুবলীগের ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট (ঢাকা-৮), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন (ঢাকা-১৪), যুবলীগের মঈনুল হোসেন খান নিখিল, মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম, স্বেচ্ছাসেবক লীগের গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু (ঢাকা-১৫)।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যেকোনো একটি আসন থেকে মনোনয়ন চাইবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ। আর ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান মনোনয়নপ্রত্যাশী ঢাকা-১৩ আসনে।

এ ছাড়া আলোচনায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু (রাজবাড়ী-২), নারী সংসদ সদস্য নূরজাহান বেগম মুক্তা (চাঁদপুর-৫),মহিলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী ও জহিরউদ্দীন মাহমুদ লিপটন (ফেনী-৩)।

সাবেক ছাত্রনেতা ও মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান আশরাফুর রহমান (পিরোজপুর-৩), নারী সংসদ সদস্য সেলিনা আক্তার লিটা, এমদাদুল হক (ঠাকুরগাঁও-৩), জামালপুরের ইসলামপুর থেকে নারী সংসদ সদস্য মাহজাবিন খালেদ, ময়মনসিংহ-৮ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইশ্বরগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মাহমুদ হাসান সুমন।

এ ছাড়া বিশ্বনাথ সরকার বিটু (রংপুর-২), সাফিয়া রহমান (রংপুর-৩), রাশেক রহমান, জাকির হোসেন সরকার (রংপুর-৫), কামাল আহমেদ তালুকদার, অ্যাডভোকেট মমতাজ (নীলফামারী-২) মাজহারুল হক প্রধান, আনোয়ার সাদাত সম্রাট (পঞ্চগড়-১), আব্দুল মালেক চিশতি (পঞ্চগড়-২) মনোনয়নের লড়াইয়ে আছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ফারুক খান বলেন, ‘এলাকায় জনপ্রিয়তা, গ্রহণযোগ্যতা ও দলের প্রতি যাদের আনুগত্য রয়েছে তাদেরই আগামীতে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হবে।’ 

ফারুক খান বলেন, ‘প্রতিবারই ৮০ থেকে ১০০ জন নতুন প্রার্থীকে দল থেকে মনোনয়ন দেয়া হয়। বিগত জাতীয় নির্বাচনে সেটা ৫০ জনেরও অধিক ছিল। এবার তা আরও বাড়বে। নতুন এ প্রার্থীদের মধ্যে অপেক্ষাকৃত তরুণদেরই প্রাধান্য দেয়া হবে।সুত্রঃ সোনালীনিউজ ডটকম 


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ