লাখ টাকার ফুলঝাড়ু

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

ফুলঝাড়ু পাহাড়ের বনে প্রাকৃতিকভাবেই জন্মায়। ডিসেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে পরিপক্ব হয় এটি। এরপর থেকে শুরু হয় সংগ্রহ। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। পাহাড়ের চাষিরা ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন পাইকারি ব্যবসায়ীদের কাছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এখন প্রতি সপ্তাহে ৫ থেকে ১০ লাখ টাকার ফুলঝাড়ু বিক্রি হচ্ছে। শুধু তা-ই নয়, এ পণ্য থেকে রাজস্ব আদায় করছে বন বিভাগও।

খাগড়াছড়ি শহরে ফুলঝাড়ু পাইকারিতে বিক্রি হয় কলেজপাড়া এলাকা থেকে। সেখানে ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন উপজেলা থেকে খুচরা দরে ফুলঝাড়ু কিনে এনে মজুত করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে খাগড়াছড়ি শহরের কলেজপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বাঁশের ঘেরা দেওয়া প্রায় দুই একর জায়গাজুড়ে ফুলঝাড়ু শুকাতে দিচ্ছেন শ্রমিকেরা। এর মধ্যে জিপ ও অটোরিকশাভর্তি ফুলঝাড়ু এসে জমা হচ্ছে। আবার কয়েকজন ব্যবসায়ী ফুলঝাড়ু দরদাম নিয়ে পাইকারদের সঙ্গে কথা বলছেন।

সেখানে কথা হয় ব্যবসায়ী মো. লোকমান হোসেন ও মোবারক আলীর সঙ্গে। তাঁরা প্রথম আলোকে বলেন, খাগড়াছড়ির মহালছড়ি, পানছড়ি, দীঘিনালা, মাটিরাঙ্গা ও রাঙামাটির জেলার বাঘাইছড়ি ও লংগদুর বিভিন্ন বাজার থেকে সাপ্তাহিক হাটের দিন ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করেন। সেখান থেকে ফুলঝাড়ুর প্রতি আঁটি (একটিতে ২০ থেকে ২৫ কাঠি) কেনেন ১০ থেকে ১৫ টাকায়। খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা পর্যন্ত প্রতি আঁটিতে খরচ হয় ১২ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত। এরপর রোদে শুকিয়ে জেলার বাইরের ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করা হয় ২২ থেকে ২৬ টাকা করে। প্রতিদিন এখন গড়ে এক থেকে দেড় লাখ টাকার ফুলঝাড়ু বিক্রি হচ্ছে।

কলেজপাড়া থেকে পাইকারিতে ফুলঝাড়ু কিনে শ্রমিকদের দিয়ে জিপভর্তি করাচ্ছিলেন চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের করেরহাটের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ সোলাইমান (৪৭)। তিনি বলেন, প্রতিবছর এই মৌসুমে ফুলঝাড়ুর ব্যবসা করেন। তিনি খাগড়াছড়ি থেকে ফুলঝাড়ু কিনে নিয়ে বন বিভাগকে কর দিয়ে ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহ করেন। তিনি প্রায় ৩০ হাজার টাকার ফুলঝাড়ু কিনেছেন। সোলাইমান প্রতি সপ্তাহে দুইবার আসেন ফুলঝাড়ু কিনতে।

বন বিভাগের খাগড়াছড়ি জেলার উপবন সংরক্ষক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ফুলঝাড়ু বনাঞ্চলের একটি ক্ষুদ্র পণ্য। এটি সংগ্রহ করতে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। তবে ফুলঝাড়ু জেলার বাইরে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতি আঁটি ৩৫ পয়সা কর ধরা হয়। গত বছর এই পণ্য থেকে রাজস্ব আয় হয়েছিল ৪ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। এ বছর নভেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ৫০ হাজার টাকার কর আদায় হয়েছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয়ের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. আবুল হাশেম বলেন, ফুলঝাড়ু পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মায়। এর কোনো চাষ করতে হয় না। মে-জুন মাসের দিকে নতুন গাছ জন্মায়। ফুল পরিপক্ব হলে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত ফুলঝাড়ু সংগ্রহ করা যায়।

 

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ