মাদকের ছোবল থেকে – কে বাঁচাবে তরুণ সমাজকে ?

0

মোঃ খায়রুল আলম রফিক:- আমাদের চোখে দেখা অনেক শিক্ষিত তরুন সমাজ মাদকের সাথে জড়িত, আমার এই লেখাটি মাধ্যমে মাদকের সাথে আমাদের সমাজ কেন জড়িত হয়ে ধংন্সের দিকে যাচ্ছে এই জন্য দায়ী কারা? বর্তমান সময়ে যুবসমাজের জন্য মারাত্মক একটি কারন হল মাদক,আমাদের সমাজে রাষ্ট্রে প্রতিদিন কেউ না কেউ মাদকের সাথে পরিচিত হচ্ছে,আমরা প্রত্যেক মাদক কে না বলি,তারপরও সমাজে মাদকসেবী সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

যা সমাজ ও রাষ্ট্র মেধাহীন হয়ে যাচ্ছে,সর্বনাশা মাদকের মরণ ছোবলের কারণে যুবসমাজ শুধু মেধাশূন্য হচ্ছে তা নয়, মাদকাসক্তদের মনুষ্যত্ব, বিবেক ও বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে।

তারই প্রতিফলন তাদের আচরণে উশৃঙ্খলতা, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, অভিভাবকদের অবাধ্যতা সর্বোপরি অনৈতিক এমনকি রাষ্ট্রবিরোধি কাজে জড়িয়ে পড়ছে তরুণ সমাজ। কিন্তু কেন এমনটি হচ্ছে- এ বিষয় নিয়ে ভাবছি কি আমরা? পিতা মাতা যে সন্তানকে জন্ম থেকে তিলেতিলে আদর ভালোবাসা দিয়ে মানুষ করে তুলেছেন, বাবা-মা কে সে কিভাবে ছুরি চালায় তাদের বুকে! সন্তানের কাছে যে বাবা-মা পরম আদর মমতার আশ্রয়স্থল সে সন্তান কি কারণে দ্বিধা করে না বাবা-মা’কে হত্যা করতে! বাবা-মা মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো আর রক্ত পানি করা পরিশ্রম আর ভালবাসার সাধনায়, জীবনের সমুদয় অর্জিত অর্থ-সম্পদ-আকাঙ্খা দিয়ে প্রি সন্তানকে স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পাঠায়, সেখানে গিয়ে কি শিখছে তারা? কাদের সংসর্গে মিশে বিপথে যাচ্ছে? কিভাবে, কি কারণে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে প্রিয় সন্তান- সেই ভাবনা আজ বিদগ্ধ করছে সমাজ, রাষ্ট্রযন্ত্র এবং অভিভাবকদের।

তাই সময়ের বাস্তবতায় আজকের লেখার শিরোণাম- সভ্যতায় ধ্বংসমুখি তারুণ্য সমাজ মাদকের ছোবল থেকে কে বাচাবে তরুণ সমাজ? সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশের গণমাধ্যমে প্রতিদিন খুন, সন্ত্রাসী, মাদকাসক্তদের ঘটনা এবং তরুণ প্রজন্মের অপরাধ প্রবণতার খবর আসছে।

আমাদের তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ মাদকের মরণছোবলে শিকার হয়ে নিজ মেধা, সৃজনশীলতা, কর্মক্ষমতা আর শিক্ষাকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে। এই অধপতনের কারণ হিসেবে নৈতিক মূল্যবোধ, সামাজিক অবক্ষয়, পারিবারিক সংস্কৃতির বিলুপ্তি, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অসামঞ্জস্য এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো সামগ্রিক অবক্ষয়কেই দায়ী করছেন সমাজ বিশষক, বিশেষজ্ঞ ও অভিভাবকেরা। এক গবেষণা তথ্যে জানা গেছে, ধূমপায়ীদের মধ্যে শতকরা ৯৮% ভাগই মাদকাসক্ত এবং তার মধ্যে শতকরা ৪৪% ভাগই বিভিন্ন সন্ত্রাসী ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই বন্ধুবান্ধবদের সাহচার্যে সিগারেট থেকে নেশায় আসক্তি শুরু হয়ে তা ক্রমশ মাদকের জীবনধ্বংসী আসক্তিতে পর্যবসিত হয়। বিভিন্ন বিশষণ ও গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে, মূলত মাদক কেনার অর্থ জোগাড় করতেই কিশোর বা তরুণ সমাজ নানারকম অসামাজিক কাজ এবং অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।

একটা সময় পর্যন্ত এই মাদকাসক্তি তরুণদেরকেই বেশি আকৃষ্ট করতে দেখা গেলেও এখন ভয়ঙ্করভাবে তা তরুণী এমনকি কিশোর-কিশোরীকে আসক্তির এই ধ্বংসলীলায় মাতিয়ে তোলছে। এর আরেক কারণ ফেনসিডিল, গাজা, মদ, সিগারেট বা এসব নেশাজাতদ্রব্যের পাশাপাশি আধুনিক মরণ ট্যাবলেট ইয়াবার সংযোজন।

সমাজে ব্যাপকভাবে ইয়াবার ছড়াছরির খবর হতাশাগ্রস্থ তরুণ সমাজকে আলোড়িত করছে। ইয়াবার নেশাগ্রস্থতা, যৌনকামীতা, কিংবা নিজেকে আকর্ষণীয় করে তোলার এমন তথ্য তরুণ-তরুণীদের আরো কৌতুহলী করে তোলছে ইয়াবা আসক্তিতে। তার উপর দায়ী হয়ে আছে বন্ধুত্বের কারন। আছে এসব নেশাজাত দ্রব্যের সহজলভ্যতাও।

কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিকশিক্ষার অভাব, শিক্ষক সমাজের অনাদর্শিক কার্যক্রম, অভিভাবকদের সচেতনতা ও দায়িত্বহীনতার অভাব এবং রাষ্ট্রযন্ত্রের উদাসীনতা কি কম দায়ী? এসবের কারণ অনুসন্ধানের জন্য খুব বেশি জ্ঞানগর্ভ বিশষণ, তাত্বিক পর্যালোচনা অথবা গবেষণার দরকার পড়েনা।

সমস্যাগুলো, সমস্যার কারণ, প্রেক্ষাপট, ক্ষেত্র, ধরণ, প্রকৃতি এসব যদি আমরা চিহ্নিত করতে পারি তবেই ভুলগুলো কোথায় হচ্ছে তা বের হয়ে আসবে। সহজ কথায় যদি বলি- এই যে জীবনধ্বংসী আকর্ষণ যেভাবে তরুণদেরকে কাছে টানছে- আমাদের পারিবারিক বন্ধনের সম্মোহনী শক্তি কি সেভাবে কাছে টানতে পারছে? একজন তরুণ-তরুণীর অনাগত ভষ্যিতের উজ্জ্বল সম্ভাবনা, সমৃদ্ধ জীবনশৈলীর স্বপ্ন যদি তাকে কাছে টানতে পারতো তাহলে তারা বিপথে যেত না। তার শিক্ষালয়, শিক্ষক, শিক্ষা কারিকুলাম এবং শিক্ষা শেষে তার সুন্দর জীবন গড়ার স্বপ্ন যদি তাকে কাছে টানতে পারতো, তবে সে কেন বিপথে পা বাড়াবে? তার মানে- আমরা অভিভাবকরা, শিক্ষকরা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং রাজনীতি ও রাষ্ট্র তরুণ-তরুণীদের মাঝে সৃজনশীল ও কর্মময় সাফল্যমন্ডিত জীবনের স্বপ্নের বীজটুকু বুনে দিতে পারি নাই।

এই দায় কী করে এড়িয়ে যাবে অভিভাবক, শিক্ষক, সমাজ এবং রাষ্ট্র? ময়মনসিংহের পুলিশ প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও খুনসহ সংঘটিত অধিকাংশ অপরাধের সঙ্গেই মাদকাসক্তির সম্পর্ক রয়েছে।

এ সুযোগ কাজে লাগাচ্ছে মাদক ব্যবসায়ী এবং সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্র। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মাদকের এই মরণ নেশার জালে একবার জড়িয়ে পড়লে কেউ আর সহজে বেরিয়ে আসতে পারে না। একারণে মাদকসেবীরা ক্রমশ বেপরোয়া হয়ে ওঠে তাদের জীবন-যাপনে। দেশের সর্বত্র ইভটিজিং, ধর্ষণ, অপহরণ, ছিনতাই, খুন, পারিবারিক সহিংসতা এমনকি সড়ক দুর্ঘটনার আধিক্যের পেছনেও এই মাদকাসক্তির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্তে দেখা যাচ্ছে- নেশার জগতে দীর্ঘদিন যাবৎ রাজা হয়ে বসে আছে হেরোইন, বর্তমানে নতুন রানীর নাম দ্য কুইন।

নেশার জগতে নতুন সংস্করণ ইয়াবা এখন বাজারে এসেছে ‘ইয়াবা’। কারণ হচ্ছে, হেরোইন সাধারণত ছেলেরা সেবন করে, মেয়েদের মধ্যে হেরোইনসেবীর সংখ্যা সীমিত। আবার ইয়াবার নেশায় মেয়েরা জড়িয়ে পড়ছে ব্যাপকহারে।

জানাগেছে, ইয়াবা দিয়ে নেশার জগতে প্রবেশের পর আসক্তরা অন্যান্য নেশাতেও জড়িয়ে পড়ছে। ইয়াবার ভয়ঙ্কর পরিণতি সম্পর্কে সিনিয়র আইনজীবি এড. আনিসুর রহমান বলছেন- ইয়াবা মস্তিষ্কের রক্তবাহী সূক্ষ্ম নালীগুলোকে ধ্বংস করে ব্রেইন স্ট্রোক ঘটাতে পারে। এটি কোকেনের চেয়েও মারাত্মক উত্তেজনা সৃষ্টিকারী মাদক এবং প্রতিক্রিয়া কোকেনের চেয়ে দীর্ঘস্থায়ী। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ এবং মনোবিজ্ঞানীদের অভিমত- ইয়াবায় উত্তেজনা সৃষ্টিকারী ক্যাফেইন রয়েছে। একারণে ইয়াবা আসক্তরা শেষ পর্যন্ত মানসিক বিকারগ্রস্থও হতে পারে। আমরা ঐশীর ক্ষেত্রে যা দেখলাম তা মানসিক বিকারগ্রস্থের নমূনা নয়তো কি? সরল হিসেবে বললে- একজন পেশাদার খুনীও নিজ পিতা-মাতাকে হত্যা করতে মনে বাধা সৃষ্টি করবে। কিন্তু ঐশী এটা কি করলো? বলা হচ্ছে ইয়াবা সেবনে প্রথম দিকে যৌন উত্তেজনা বাড়ে। আবার ঘুম এবং ক্ষুধা কমে যায়।

অপরপক্ষে বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন- ইয়াবা সেবনে যৌবন এবং জীবনী শক্তি একপর্যায়ে ধ্বংস হয়ে যায়। এমনকি দুয়েক বছরের মধ্যে তাদের যৌন ক্ষমতা চিরতরে ধ্বংস হয়ে যায়, যা চিকিৎসা করলেও আর ভালো হয়না। আমার ধারণা এই যে ইয়াবা সেবনে যৌন উত্তেজনা বাড়ে, ঘুম এবং ক্ষুধা কমে যায় এই তথ্যটি প্রথমে ব্যাপক প্রচারিত হয়েছে।

আর একারণেই তরুণ-তরুণীদের মাঝে ইয়াবা সম্পর্কে আকর্ষণ বেড়েছে। ইয়াবা সেবনে তাদেরকে উৎসাহিত করছে। তাই যৌবনের দুর্নিবার আর্কষণ, ইয়াবার সহজলভ্যতা আর বন্ধুত্বের প্রণোদনা তাকে ঠেলে দেয় নেশার অন্ধকার জগতে। আবার ইয়াবা সম্পর্কে ঠিক পরের তথ্যটি সেভাবে প্রচারণা পায়নি। একারণেই যৌবনের অজানা জানার আকর্ষনই তরুণ সমাজকে শেষ পর্যন্ত বশে নিতে পেরেছে। বিভিন্ন বিশেষণের জানাগেছে- ইয়াবা আসক্তদের সংখ্যা ইতোমধ্যে ৩৫ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। প্রকৃত সংখ্যা হয়তো আরো বেশি। আবার ইয়াবা আসক্তদের মধ্যে তরুণ সমাজের সংখ্যা বেশি হলেও তরুণীরা জড়িয়ে পড়ছে আশঙ্কাজনকহারে।

তারচেয়েও ভযঙ্কর খবর হলো আসক্তদের অধিকাংশই উচ্চ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান,এবং যারা ইয়াবা বহন ও ব্যবসা করে তারা নিম্মবিত্ত পরিবারের সন্তান। এই চিত্র এবং এর পরিণতি গোটা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ভয়ঙ্কর। কারণ আমরা একদিকে আমাদের তরুণ সমাজের সম্ভাবনাকে হারাচ্ছি। অপরদিকে সমাজ ও রাষ্ট্রের সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক-বাহক মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর ইতিবাচক-ঐহিত্যগত শক্তিকে ধ্বংস করে দিচ্ছি।

এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতেই হবে। না হলে জাতীয় সভ্যতা আর ঐতিহ্য বলে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবেনা। আইসিডিডিআরবি’র তথ্যানুযায়ী, আসক্ত ব্যক্তির দৈনিক মাদক সেবনের খরচ গড়ে ১৩০ টাকা। তবে গোয়েন্দা বিভাগের তথ্যে এই খরচ দৈনিক গড়ে ৭০০ টাকা।

বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে মাদকসেবীরা বছরে গড়ে ১৪ হাজার কোটি টাকা খরচ করে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে আমাদের তরুণ-তরুণীরা তাদের জীবনের অমিত সম্ভাবনাকে, তাদের সৃজনী ক্ষমতা আর বৃদ্ধিবৃত্তিক শক্তিকে অকালে ধ্বংস করে দিচ্ছে। পারিবারিক সম্পর্কের স্নেহ-মমতার মায়াজাল ছিন্ন করে নেশায় কবলিত হয়ে বিবেক, বুদ্ধি, মনুষ্যত্ববোধ বিসর্জন দিচ্ছে মাদকের গড্ডালিহায়। নেশাগ্রস্থতরা নেশায় আসক্ত হয়ে টাকার জন্য বা পারিবারিক কলহের কারণ হয়ে সন্তানের হাতে খুন হচ্ছে বাবা-মা ও ঘনিষ্টজনেরা। এই সামগ্রিক সামাজিক অবক্ষয়ের সুত্রপাত ঘটছে পরিবার থেকেই। পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদ এর জন্য দায়ী। তাই সন্তানকে নৈতিক ও মূল্যবোধের শিক্ষা দিতে হবে পরিবার এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে।

অভিভাবকদের সন্তান সম্পর্কে আরো সচেতন হতে হবে। আধুনিকতা আর স্মার্টনেসের নামে ছেলে-মেয়েদেরকে এভাবে ছেড়ে দেয়া যাবেনা। তাদের ভবিষ্যতের সুন্দর ও অনাবিল আনন্দের জীবনকে উপভোগ করার জন্য দিক-নির্দেশনা দিতে হবে। আবার সমাজে অনেক তরুণ ভালো কাজ করছে, সাফল্য অর্জন করছে, সামাজিক ও মানবিক ক্ষেত্রে বিরল ব্যতিক্রম দৃষ্টান্তও স্থাপন করছে। এসব উদাহরণ তাদের সামনে তুলে ধরতে হবে। এসব নিয়ে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। শিক্ষা কারিকুলামে এসব গল্প উঠে আসতে পারে।

আবার প্রতিদিনের খবরের কাগজ থেকে ইতিবাচক ও সাফল্যের খবর ক্লাশরুমের আলোচনায় চলে আসতে পারে। মনে রাখতে হবে, প্রযুক্তির ভালো-মন্দ দুটো দিক আছে।

ভালোটি গ্রহণ করার ক্ষেত্রে তাকে আগ্রহী করে তুলতে হবে। এখন ঘরে ঘরে হাতে হাতে মোবাইল ফোন। অভিভাবকের দৃষ্টির অগোচরে প্রিয় সন্তানের মোবাইল ফোনে আছে পর্ণো ভিডিও ক্লিপ। সাইবার ক্যাফেগুলোতে খুপি ঘর বানিয়ে কিশোর- তরুণদের পর্নো সাইডের অশ্লীল ভিডিও ও ছবি দেখার সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে।

এলাকায় এলাকায় কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসিংয়ের দোকান থেকে মেমোরি কার্ডের মাধ্যমে উত্তেজক গান, দৃশ্য, ভিডিও ক্লিপস লোড করে নেয়া যায় সহজেই। এসব সামাজিক অনাচার বন্ধের দায়িত্ব রাষ্ট্রের হলেও সচেতন হয়ে সোচ্চার হতে হতে সমাজকে। তারও আগে জেগে উঠতে হবে অভিভাবকদের। তবে এত অল্পতে ভয় পেয়ে গেলে হয়তো চলবে না। কারণ আরো ভয়ঙ্কর দিন হয়তো অপক্ষো করছে সামনে।

পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে- নামীদামি বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় পাচ সহস্রাধিক ছাত্রী মাদকাসক্ত। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিসংখ্যাণে দেশে শতকরা প্রায় ১০ জন তরুণী ও বয়স্ক মহিলা মাদকাসক্ত, এদের মধ্যে শতকরা ৩ জন গৃহবধূ। এক জরিপে দেখা যায় মাদকাসক্ত ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ১৫ বছরের নিচে শতকরা ১৫% এবং শতকরা ৮২% ভাগই ১৫-৩৫ বছর বয়সের। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মাদকাসক্তির কারণে বাংলাদেশে পুরুষের তুলনায় মহিলারা উলেখযোগ্য হারে মানসিক রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

জাতিসংঘের এক জরিপে জানা যায়, বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৬৫ লাখ লোক মাদকাসক্ত। কারও কারও মতে, এ সংখ্যা ৮০ লাখেরও বেশি, যার প্রায় ৭ শতাংশই স্কুল-কলেজগামী ছাত্রছাত্রী। তাহলে বুঝুন কোন দিকে যাচ্ছে ভবিষ্যৎ। ইউনাইটেড স্টেটস ওয়ার্ল্ডের রিপোর্টেও তথ্য দিয়েই লেখাটি শেষ করব। সেখানে বলা হয়েছে, ‘পিতা-মাতাই পারেন তাদের সন্তানকে মাদকের গ্রাস থেকে রক্ষা করতে’। কাজেই বাবা-মায়ের সময়ের কিছুটা অংশ সন্তানের পিছনে ব্যয় করতেই হবে। কারণ আপনার সামান্য অবহেলা আর উদাসীনতায় আপনার সারা জীবনের প্রচেষ্টা, ত্যাগ, সাধনা আর অর্থ বিনিয়োগ বৃথা যেতে পারে। সন্তানের অসুবিধাগুলো বুঝতে চেষ্টা করা এবং পারিবারিক সম্প্রতির চর্চায় তার সমাধান করার চেষ্টা করতে হবে। বাবা-মায়ের সাহচর্যে বেড়ে ওঠা সন্তান হঠাৎ করেই বিপথে যেতে পারেনা।এই সমস্যা হতে সন্তানদের বাচার জন্য সমাজে সচেতমহল অভিভাবক দের সজাগ হতে হবে বলে মনে করি।


তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ