পত্নীতলায় তরুণকে উল্টো করে ঝুলিয়ে নির্যাতন

0

পকেটমার সন্দেহে এক তরুণকে আটক করা হয়। পরে দুই পা রশি দিয়ে বেঁধে তাঁকে বাঁশের সঙ্গে উল্টো করে ঝোলানো হয়। দুই ব্যক্তি বাঁশের দুই মাথা ধরে রাখেন। আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তরুণকে পেটান। লোকজন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে এই নির্যাতনের দৃশ্য দেখেন। গত শুক্রবার নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় ঘটে এ ঘটনা।

এই নির্যাতনের ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার পর তা ভাইরাল হয়ে যায়। তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ এই ভিডিওচিত্র দেখে একজনকে আটক করেছে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার ওই তরুণের নাম শফিকুল ইসলাম। বাড়ি উপজেলার মাটিন্দর ইউনিয়নের সুরহট্টি গ্রামে। তিনি পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন।

গতকাল রোববার মুঠোফোনে জানতে চাইলে শফিকুলের চাচাতো ভাই জহুরুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, শুক্রবার রাত আটটার দিকে শফিকুল গুরুতর আহত অবস্থায় বাড়ি ফেরেন। তাঁর সারা শরীরে নির্যাতনের চিহ্ন ছিল। কে তাঁকে জখম করেছে—জানতে চাইলে শফিকুল তাঁদের কিছুই বলেননি। এমনকি চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে যেতে বললেও যাননি। কিন্তু গতকাল বিকেলে পুলিশ এসে শফিকুলকে উদ্ধার করে। পরে তাঁরা প্রকৃত ঘটনা জানতে পারেন। পরে শফিকুলকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

জহুরুল আরও বলেন, শুক্রবার উপজেলার মধুইল বাজারে হাট বসেছিল। ওই দিন দুপুরে হাটের মধ্যে পকেটমার সন্দেহে শফিকুলকে লোকজন আটক করেন। পরে তাঁকে আকবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) কার্যালয়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়। সেখানে আকবরপুর ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারের কর্মচারী নুরুন্নবীর নেতৃত্বে শফিকুলের ওপর নির্যাতন চালানো হয়। পরে তাঁরা থানা-পুলিশ করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে বলে শফিকুলকে ভয় দেখান। শফিকুলকে ঘটনাস্থল থেকে তাড়িয়ে দেন।

নির্যাতনের ঘটনার এই ভিডিওচিত্র শনিবার বিকেলে আদনান রহমান নামের এক ব্যক্তি তাঁর ফেসবুক পেজে আপলোড করেন। আদনান রহমান ভিডিওটি পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘শুক্রবার নওগাঁর পত্নীতলার আকবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে এভাবেই বেধড়ক পেটানো হয় পকেটমারকে। তাঁকে আইনের হাতে তুলে না দিয়ে এভাবে অমানুষের মতো পেটানো কখনোই যুক্তিসংগত হতে পারে না।’ পরে ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।

১ মিনিট ১ সেকেন্ডের ওই ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রশি দিয়ে ওই তরুণের দুই পা বাঁধেন। এরপর দুই পায়ের মাঝ দিয়ে বাঁশ ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাঁকে উল্টো করে ঝোলানো হয়। দুই ব্যক্তি বাঁশের দুই প্রান্ত উঁচু করে ধরে রাখেন। আরেক ব্যক্তি লাঠি দিয়ে তাঁর পায়ের তালুতে পেটাতে থাকেন। একপর্যায়ে তরুণ যন্ত্রণা আর সহ্য করতে না পেরে পা জড়িয়ে ধরে কাকুতি-মিনতি করেন। কিন্তু তাঁকে পেটানো অব্যাহত রাখা হয়। চারপাশে তখন কৌতূহলী মানুষের জটলা ছিল।

এই ভিডিওচিত্র দেখে গতকাল অভিযান চালিয়ে মো. নুরুন্নবীকে (৩৮) আটক করে পুলিশ। তিনিই শফিকুলকে পেটাচ্ছিলেন।

গতকাল বিকেলে মুঠোফোনে জানতে চাইলে পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা শনিবার রাতে ফেসবুকের মাধ্যমে ভিডিওচিত্র দেখে এ ঘটনা সম্পর্কে জানতে পারি। এরপর তরুণকে নির্যাতনকারী ওই ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।’

ওসি আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার শফিকুলকে গ্রামের বাড়ি থেকে উদ্ধারের পর পত্নীতলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি বর্তমানে গুরুতর অসুস্থ। সুস্থ হয়ে উঠলে নির্যাতনকারীদের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ঘটনায় একটি মামলার প্রক্রিয়া চলছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ