উচ্ছল প্রানের রাসায়নিক অনুরন !

0

বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি-র
সহজ বাংলা অনুবাদ প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান। এর সকল আলোচনা প্রাণ সংশ্লিষ্ট রসায়নিক নিয়েই আর জীবনকে ব্যাখ্যা করে অনু-পরমানুর ভাষায়। আমার জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি কি করি, কেন করি, কিভাবে করি, কিভাবে এত বড় হচ্ছি, জীবনে বার্ধ্যক্য কেন আসে ও কিভাবে আসে? এমনকি কেন প্রেম করে সুখ-আনন্দ অনুভব করি, কেনই বা বিচ্ছেদে দুঃখ-বেদনায় ভারাক্রান্ত হই, সেটাও আলাপ আলোচনা করে এই সাবজেক্ট। মরলেও রেহাই নেই। আমার ডিএনএ বিশ্লেষনে বলে দিবে আমি কে? কি আমার পরিচয়? ভীষন রহস্যময় এই সাবজেক্ট! জীবনের তাবৎ রহস্যভেদী বৈঙ্গানিক শার্লক হোমস!

এটি ভীষন দুষ্টুও বটে! দুনিয়ার নানান বিষয়ের সাথে এর প্রেম। এই সাবজেক্টের সাথে কম্পিউটার প্রোগ্রামিং যুক্ত করলে হয়ে যায় (Bioinformatics), পদার্থ বিদ্যা মেশালে হয়ে গেলো (Biophysics), ইন্জিনিয়ারিং কৌশলের সাথে (Bioengineer/Genetic Engineer), কল্পনার ভীনগ্রহবাসীকে জানতে (Alien Biology), রোগ জীবাণুর আক্রমনের সাথে সাথে শরীরের একান্তই নিজস্ব সৈন্য সামন্ত কিভাবে প্রতিরোধ করে জানতে চান? নো প্রবলেম (Immunology) হাজির। আপনার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যার্থ হলে কিভাবে ওষুধ বানিয়ে
সেগুলো ধ্বংস করতে আছে (Pharmacology). একই অংগে এত্ত রুপ! দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায়। এতেই শেষ নয়! আপনার নিজের কিছু কোষ কিভাবে নিজেরই শরীরের ক্ষতি করে ক্যান্সার সৃষ্টি করে তার বিস্তারিত আছে (Onclology) তে।

এই সাবজেক্টের রোমাঞ্চকর দিকও আছে। যেমনঃ জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এ এক্স-মেনদের মত প্রচন্ড ক্ষমতাবান মিউটেড মানুষ অথবা অন্য প্রানী বানানো যায় কিংবা কোন জীবের একটু কোষ নিয়ে ক্লোনিং করে হুবহু একই রকম বৈশিষ্টপুর্ন অসংখ্য জীব সৃষ্টি করা যায় অথবা স্টেম সেল এর মাধ্যমে কিভাবে কৃত্রিম অঙ্গ একবারে নতুন করে তৈরি করা যায় বা পুনর্গঠিত করা যায় ইত্যাদি…। এরকম আরও অনেক আরও অনেক বিশেষত্ব আছে যা বলে শেষ করা যাবে না।

বিগত শতাব্দী ছিল ভৌত বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির। এই শতাব্দী হতে যাচ্ছে প্রাণ-রসায়নের। বিজ্ঞানের এই নতুন দিগন্তের বেশীরভাগই এখনও মানুষের অজানা। প্রতিদিনই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। যেমন ই-বোলা ভাইরাস। এখনও এইডস আর ক্যানসারের ভাল কোন ওষুধ আবিস্কার হয়নি। তাই সারা পৃথিবীতে প্রাণরসায়ন নিয়ে চলছে প্রচুর গবেষণা। আগামী শতাব্দির সব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে আমাদের দেশেও শুরু হয়েছে গবেষনা। ড. মাকসুদুল আলম পাট গাছের জিনোম ম্যাপিং সম্পন্ন করেছেন। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানের এধরনের গবেষনায় আরও অনেক বাংলাদেশি আছেন যারা তাঁদের কাজের ক্ষেত্রে সুনামের সাথে কাজ করে যাচ্ছেন।

সবার মনে প্রশ্ন জাগে এই সাবজেক্টে পড়ে চাকরি কোথায় হবে? আসলে বর্তমান পৃথিবীতে চাকরির ব্যাপারটাই ধাঁধার মত। প্রকৌশলী চাকরি করে ব্যাঙ্কে। এমবিএ-ও করে আজকালকার ডাক্তাররা। সুতরাং নিজেকে যোগ্যতর প্রমান করতে পারলে চাকরি আপনার পেছনে ঘুরবে। কারন বায়োকেমিস্ট্রি পড়তে সব সাবজেক্টই দরকার হয়। তাই খুশি মত প্রফেশন নেয়া সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে আপনার কি করতে ভাল লাগে আর কি করলে আপনি সুখী হবে। তাই চাকরির নিয়ে বেশি কথা না বলাই ভালো। গুগল সার্চে সারাবিশ্বে এই সাবজেক্টের চাকরি কোথায় সব জানতে পারবে। অতি উৎসাহীগন এই সাবজেক্টের স্যালারি নিয়েও সার্চ দিয়ে দেখতে পারেন। অনেকেই ভাবে বায়োকেমিস্ট্রিতে যেহেতু বায়োলজি আর কেমিস্ট্রি আছে তাই প্রচুর মুখস্ত করতে হয়। এই ভুল ধারনা দুর করতে ইউটিউবে বিখ্যাত Eric Lander এর লেকচার দেখতে পারেন। তিনি গণিতে পিএইচডি শেষে এখন MIT তে মলিকুলার বায়োলজি পড়ান!

একবার পড়াশোনা শুরু করলে যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে। উচ্চতর ডিগ্রী, ভাল গবেষণাগার এবং ভাল প্রতিষ্ঠানে চাকরির অভিজ্ঞতা দিনরাত অনুপ্রেরনা দিবে জীবনে বড় কিছু করার তাই ক্যারিয়ার গড়তে পরবর্তী প্রজম্মের জন্য বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি হতে পারে একটি সম্ভাবনাময় বিষয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ