যেভাবে শনাক্ত হলো আঁখিমণির লাশ

0

রফিকুল ইসলাম পেশকার মেয়েকে ছোট থেকেই আদর করে ডাকতেন সোনামণি বলে।  সেই নাম আজও রয়ে গেছে।  আসল নাম আঁখিমণি হলেও সবাই ভালোবেসে ডাকত সোনামণি।  সেই সোনামণির লাশ যখন শনাক্ত করা হয় তখনো তার হাতে বিয়ের মেহেদির রং লেগে ছিল। পুড়ে যাওয়া শরীর চেনা যাচ্ছিল না। শেষে বিয়ের মেহেদির রং ও বিয়ের আংটি দেখে বাবা শনাক্ত করেন তার আদরের মেয়ের লাশ। 

মঙ্গলবার বিশেষ বিমানে বাবা পেশকার মিয়া নেপাল যান।  পুড়ে যাওয়া মেয়ের শরীর দেখে বাবা ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারান। পরে পুলিশ ও চিকিৎসকরা তাকে সেবা ও সান্ত্বনা দেন। 

জানা গেছে, নেপালে হানিমুন করতে গিয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার রুপসদী গ্রামের রফিকুল ইসলাম পেশকার মিয়ার মেয়ে আঁখি ও তার স্বামী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান।  গত ৩ মার্চে তাদের বিয়ে হয়।  স্বামী নাছির মিনহাজের বাড়ি কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাতাকান্দি গ্রামে।  নবদম্পতি বিয়ের পর উঠেছিল ঢাকার ধানমন্ডির একটি ফ্ল্যাটে।  আঁখিমণিদের বাড়ি রুপসদীর দক্ষিণপাড়ার সরকার বাড়ি।  আঁখি মণি মাস্টার্স পাস করে পরিবারের সম্মতিতেই বেশ ধুমধাম করে বিয়ে হয় তার।

মেয়ের ইচ্ছে অনুযায়ী নেপালে যাওয়ার জন্য গত সপ্তাহে টিকিট বুকিং দেওয়া হয় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিমানে।  পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া মৃতদের তালিকার ১৮ ও ১৯ নম্বর সিরিয়ালে রয়েছে এই হতভাগ্যদের নামের তালিকা।

<

p style=”text-align: justify;”>জানা গেছে, সোমবার সকাল ১১টায় মেয়ে ও জামাইকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিয়ে আসে পরিবারের সবাই।  যাওয়ার সময় কী এক অজানা আশঙ্কায় আঁখিমণি বাবাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদছিলেন।  সেই অজানা আশঙ্কাই সত্যি হলো।  সোমবার দুপুরে বিমানটি বিধ্বস্ত হলে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বর মিনহাজ বিন নাছির ও আঁখিমণির।  তাদের লাশ এখনো নেপালের মর্গে আছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ