হেলথ কেয়ার ব্র্যান্ড মার্কেটিং !

0

ফিচার ডেস্কঃ অর্ধ দশক আগেও হসপিটাল ব্র্যান্ড মার্কেটিং এর অপেশাদার চর্চা থাকলেও, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মত মফস্বল শহরে এটি ছিলো প্রায় অনুচ্চারিত শব্দ, যা এখন বেশ জোরে শোরে শোনা যায়, সেটা মনে আশার আলো জ্বালায় কেননা এধরনের ব্র্যান্ডিংয়ের মূলনীতি হলো প্রাতিষ্ঠানিক সুবিধাদী বস্তুনিষ্ঠ তথ্য সহ আকষর্নীয় ভাবে উপস্থাপন করে উপযুক্ত সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান খুঁজে পেতে সম্ভাব্য ভোক্তাকে সাহায্য করা কিন্তু তখনিই নিরাশায় মন দোলে যখন দেখি অনেক প্রতিষ্ঠানই বুঝে না বুঝে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করে। কিন্তু তাদের জানা উচিত হেলথ-কেয়ার বিজনেসের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে ব্র্যান্ডিং অত্যন্ত জরুরি এবং গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই সম্যক জ্ঞান ছাড়াই, অপেশাদারীভাবে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করেন। অনেকে শুধু মহল্লার চিপা গলিতে মাইকিং করাকে ব্র্যান্ডিং ভাবছে। কেউ আবার পাবলিক রিলেশন বলতে সংবাদপত্রে তথ্যের গোঁজামিল দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নামে মিথ্যা কথায় ভরপুর পেইড ফিচার লেখানো বুঝছে। এতে জনগন মিসগাইডেড হয়।

সুইচ-হোল্ডার লাগানো করা যেমন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং, মোবাইল-রেডিও ঠিক করা যেমন টেলিকম ইঞ্জিনিয়ারিং, কম্পিউটারে ওএস ইন্সটল করে দেয়া যেমন কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং, তেমনি, খালি ১০০ খালি ১০০ খালি ১০০ বলে ফুটপাতে টি শার্ট বিক্রি করাও ব্র্যান্ড মার্কেটিং বলা যেতে পারে।

বাজারে নিজেদের ব্র্যান্ড কমিউনিকেশন করার আগে আমরা কি যেকোনো মূল্যে জনপ্রিয় হতে চাই নাকি নির্ভরশীল ব্র্যান্ড হতে চাই তা যাচাই করা জরুরী কেননা জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী, নির্ভরশীলতা অনেক বেশি টেকসই। ব্র্যান্ড কমিউনিকেশনে ভুল তথ্য ব্যবহার ও নৈতিকতা-শালীনতার সীমারেখা অতিক্রম করা খুবই অবিবেচক একটি পদ্ধতি। বিজ্ঞাপন বানিয়ে টিভি, রেডিও আর বিলবোর্ড ভরে ফেলার মধ্যে কোনো কৃতিত্ব নেই কারণ তাতে দীর্ঘস্থায়ী সুফল আসে না।

মনে রাখা উচিৎ শুধু বিজ্ঞাপন দিলেই ব্র্যান্ড তৈরি হয় না। তাছাড়া অনেক প্রতিষ্ঠানেই ব্র্যান্ড ভিশন, মিশন ও ভ্যালুজের কোনো উপস্থিতি থাকেনা না বা থাকলেও মিশনের সাথে ভিশনের সামঞ্জস্য নেই কিংবা সার্ভিসের কোনো মিল নেই। সত্যিকারের ব্র্যান্ড ফিলোসফি বলতে যা বোঝায় তা ওইসব প্রতিষ্ঠানে পুরোপুরি অনুপস্থিত। বিশেষত সার্ভিস ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে এটি সম্পুর্ন প্রযোজ্য। সার্ভিস মার্কেটিংয়ের ক্ষেত্রে ব্র্যান্ড তো দূরের কথা, বেসিক সেবা প্রদানেও উদাসীনতা দেখা যায়। ফলে গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হয়। ফলশ্রুতিতে একসময় রেপুটেশনে ধ্বস নামা প্রতিষ্ঠানে দ্রুত জনপ্রিয়তা রক্ষা করতে গিয়ে প্রায়ই যেসব আধেয় ব্যবহার করা হয় তা অনেক ক্ষেত্রেই নৈতিকতার মানদণ্ডে অগ্রহণযোগ্য। কিছু প্রতিষ্ঠান নিজেদেরকে জনগনের সামনে আকর্ষণীয় করে তোলার চেষ্টা থেকে এমনভাবে নিজেদের উপস্থাপন করে যা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তথ্য বিকৃতির মাত্রা অতিক্রম করে যায়। তাছাড়া পেইড ফিচার, রংচঙ্গে বিঙ্গাপন বা অপেশাদার অডিও ক্লিপে যে তথ্য ও ভাষা ব্যাবহার করা হয়, তা অনেক প্রতিষ্ঠান মালিকদের ক্ষেত্রে শুধু দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জনের প্রাণান্তকর চেষ্টার একটা মানসিক দেওলিয়াত্বের হাস্যকর বহিঃপ্রকাশ।

ব্র্যান্ড আসলে একধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যক্তিত্ব তাই একে লালন পালনের যোগ্যতা অর্জন করার চেষ্টা করা প্রতিটি উদ্যোক্তার অবশ্যকর্তব্য।

► লেখক পরিচিতিঃ-

 মোঃ জাহিদুল ইসলাম (জাহিদ)

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ