বখাটের ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্রী আহত, হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ

0

সিএন ডেস্ক : চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের হুজরাপুর বাক্সপট্টি এলাকায় বুধবার (১৪ মার্চ) সকালে প্রকাশ্য দিবালোকে সাথী খাতুন (১৩) নামে এক স্কুল ছাত্রীকে ছুরিকাঘাতে গুরুত্বর আহত করেছে মনিরুল (২৫) নামে এক মাদকাসক্ত বখাটে। পরে সারাদিন অভিযানের পর মনিরুলকে রাত সোয়া ৭টার দিকে শহরের হরিপুর এলাকা থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ গ্রেপ্তার করেছে সদর থানা পুলিশ।

সদর মডেল থানার ওসি মনজুর রহমান জানান, বুধবার রেলবস্তি এলাকার আব্দুস সামাদের মেয়ে এবং কামাল উদ্দিন বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী সাথী খাতুন ও তার বান্ধবী রোজিনা রিক্সাযোগে স্কুলে যাচ্ছিল। এ সময় সকাল পৌনে ১০ টার দিকে শহরের ব্যস্ততম সড়ক জলযোগ মোড় সংলগ্ন বাক্সপট্রি এলাকায় টিফিন কেনার জন্য রিক্সা থামালে একই এলাকার ফাকু আলীর বখাটে ছেলে মনিরুল তাদের গতিরোধ করে সাথীর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়।

এ সময় সহপাঠী রোজিনাকেও আক্রমনের চেষ্টা করে মনিরুল। পরে স্থানীয় লোকজন তাৎক্ষনিকভাবে সাথীকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যায় এবং সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এদিকে ঘটনার পরপরই মনিরুলকে ধরতে তার রেলবস্তির বাড়িসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে মনিরুলের স্ত্রী  রুবীনা (২২), মা মনোয়ারা (৫৬), বোন শাহীনআরা (৪০) ও জাহানারাকে (৩০) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে দিনভোর অভিযানের পর সদর উপজেলার হরিপুর বোর্ডঘর এলাকা থেকে রক্তমাখা ছুরিসহ মনিরুলকে আটক করা হয়।

এর আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপুর (সদর সার্কেল) ইকবাল হোছাইন ও এলাকাবাসী জানান, ছিনতাইয় ও মাদকে জড়িত মনিরুল ২০১৩ সালে চায়ের দোকানে বসা নিয়ে বিরোধে সাথীর ভাই ফার্নিচার মিস্ত্রী আলী হাসানকে (২২) কুপিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এসব অপরাধের মামলায় সে একাধিকবার কারাগারেও গেছে। আর কিছুদিন আগে সাথীর বাবা ওয়েল্ডিং মিস্ত্রী আব্দুস সামাদ মাদকসহ মনিরুলকে ধরিয়ে দেয়। এই শত্রুতার জেরেও আক্রমনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তবে আহত ছাত্রী সাথী খাতুন হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, ইদানীং দুই সন্তানের পিতা মনিরুল তাকে হরহামেশাই উক্ত্যক্ত করত।

এদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. খাইরুন নেসা জানান, ছাত্রীটির পেট, বাম পা ও ডান হাতে চারটি আঘাত রয়েছে। পেটের আঘাত দুটো গুরুত্বর। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠনো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহবুব আলম রেল বাগান বস্তি পরিদর্শন করলে বস্তি এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং এ ঘটনার জন্য মনিরুলের শাস্তি দাবি করেন এলাকাবাসী। সেই সঙ্গে তারা বস্তিতে মাদক বিক্রি বন্ধের দাবি তোলেন। বখাটে মনিরুলের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক খালেদা বেগম, অনান্য শিক্ষক ও ছাত্রীরাও। এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুর রহমান।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ