বাবাকে সুচিকিৎসা করাতে এসে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সন্তানরা

0

স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বাবার সুচিকিৎসা করাতে এসে লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলেন সন্তানরা । এখানেই শেষ নয় ! কাঁধে বাবার লাশের সাথে আরেক বোঁঝা যুক্ত হয়েছে তাদের ঘারে । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ তোলা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ।

এর আগে রাতভর আটকে রেখে চলে নির্দয় নির্যাতন । হাসপাতালের আনসাররা রাতভর তাদেরকে নিষ্ঠুর শারিরীক নির্যাতন করেও ক্ষান্ত হয়নি । সকালে থানা পুলিশ সদস্যদের ডেকে এনে তাদেরকে সোপর্দ করা হয় । এরই মাঝে চলে গেছেন তাদের পিতাও ।

অমানবিক এমন ঘটনা এ হাসপাতালে নতুন নয় । এর আগেও হয়েছে । সবই করেছেন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদের নির্দেশে । উদ্দেশ্য ঐতিহ্যবাহী ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এহেন নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে ডাক্তার কর্মচারি , রোগী ও তাদের আতœীয় স্বজনের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ব্যক্তি স্বার্থ আদায় ।

ঘটনার বিবরণে প্রকাশ, শুক্রবার রাত ১২টার দিকে স্ট্রোকে আক্রান্ত নেত্রকোনা জেলার মদন উপজেলার ফতেপুর গ্রামের বাসিন্দা ৬২ বছর বয়সী বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাদের সন্তানরা । হাসপাতালের ১৪নং ওয়ার্ডে তখন কর্মরত ডাক্তারা ব্যস্ত তাদের মোবাইল স্কিনের ফেসবুক ।

ডাক্তারদের বার বার তাগিদ দিয়েও চিকিৎসা করাতে ব্যর্থ হন মতিউর রহমানের পুত্র কাওসার, ফুলবাড়িয়া ডিগ্রী কলেজের ছাত্র সারোয়ার , ৯ম শ্রেণিতে পড়–য়া মনোয়ার এবং তাদের খালা জেসমিন চৌধুরী । এক পর্যায়ে তারা ঐডাক্তারদের কাকুতি মিনতিও করে ।

কিন্তু ঐ ডাক্তাররা পরিচালকের নির্দেশে হাসপাতালে কর্মরত আনসারদের ডেকে এনে তাদের হাতে তুলে দেয় । আনসাররা রাতভর তাদেরকে আটকে রেখে বেধরক পেটায় । এদিকে সুচিকিৎসা অভাব এবং পরিবারের লোকজনকে না পেয়ে রাত ৪টার দিকে মারা যান মতিউর রহমান ।

এদিকে এসব করেও ক্ষান্ত হয়নি হাসপাতাল কর্র্তপক্ষ । কোতয়ালি মডেল থানা পুলিশ এনে ঐ ৪ জনের নামে থানায় অভিযোগ করে । অভিযোগের বাদি পরিচালকের পক্ষে প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান । এব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম জানান, মানবিক কারনে লাশ দাফনের জন্য মুচলেকায় স্থানীয় চেয়ারম্যানের জিম্মায় তাদেরকে বাড়িতে পাঠানো হয়েছে ।

অপর এক অভিযোগে জানাগেছে, ৩ মার্চ জামালপুরের বাসিন্দা এসএসসি পরীক্ষার্থী ১৩ বছর বয়সী এক শিশু তার ভাতিজিকে চিকিৎসা করাতে হাসপাতালে নিয়ে আসে । একইভাবে ডাক্তারদের চিকিসা অনিহার কারণে মারা যান তার ভাতিজি । প্রতিবাদ করায় পরিচালকের নির্দেশে শিশুটির নামেও মামলা দায়ের করা হয় । মামলার কারনে তাকে ৩ দিন জেলহাজত বরণ করতে হয় । আর দেয়া হয়নি পরীক্ষাও ।

অভিযোগ উঠেছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সেবা বঞ্চিত হচ্ছে মানুষ । মানবিক চেতনার বদলে ডাক্তারদের নিষ্ঠুরতা । এ হাসপাতালে চিকিৎসার ক্ষেত্রে ন্যূনতম নৈতিকতার অভাব থাকায় রোগী সাধারণ ভর্তি হতে ভয় পান। পরিচালকের নির্দেশে চিকিৎসার নামে নৈরাজ্য চলছে বলে জানাযায়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ