ব্র্যান্ডিং এ বাংলাদেশের অবস্থান ও গুরুত্ব!

0

বাংলাদেশে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানগুলো ব্র্যান্ডিং সূচকে এখনো এগিয়ে তারপরও কিছু কিছু সেক্টর ব্র্যান্ডিং এ নতুন উদ্যোমে কাজ করে যাচ্ছে। ব্র্যান্ড ফোরাম নামে যে বিদেশী সংগঠন আছে তারা ব্র্যান্ডিং রাংকিং করেছে! তবে তারা বহুজাতিক ব্রান্ডগুলোকেই সিলেকশন করেছে এবং উৎসাহ জুগিয়েছে এটা অবশ্য বাংলাদেশি ব্র্যান্ড এর জন্য একটা বড় ধাক্কা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি কিছু দেশী কোম্পানীকেও বাধ্য হয়ে সুপার ব্র্যান্ড হিসেবে চিহ্নিত করেছে তবুও সিলেকশন পদ্ধতি নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে। আশার কথা বাংলাদেশী উদ্যোক্তারা ইদানিং ব্র্যান্ডিং এর প্রয়োজনীয়তা বেশ উপলব্ধি করছেন। ব্রান্ডিং ছাড়া মুনাফা কমে আসে কেন ও কিভাবে সেটা তারা বুঝতে পারছেন। তারা এখন উপলব্ধি করছে পুশিং সেল কৌশলে প্রচুর পরিশ্রমী লোকবল প্রয়োজন যা সচারচর মেলে না এবং লোকবল কে মনিটরিং করাও ঝামেলার কাজ ।

আমাদের দেশে তৈরী গার্মেন্টস বিদেশী কোন ব্র্যান্ডের স্টিকার লাগিয়ে বাজারজাত করা হলে ১০০ গুন দামে বিকোচ্ছে তাই বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং কনসেপ্ট এর গুরুত্ব সঠিকভাবে বুঝে উঠতে পারলে আমাদের দেশী ব্র্যান্ডগুলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে পরিচিতির সুযোগ পাবে, দেশ পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। বাংলাদেশের পেক্ষাপটে ব্র্যান্ডের গুরুত্বঃ

১. অবিহিত করা: ব্র্যান্ডিং করে ভোক্তাকে সচেতন করা যায় এবং চিহ্ন দেখে সহজেই পণ্যটি কিনতে পারে।

২. বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধি: ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে পণ্য চাহিদা, বিক্রয় ও মুনাফা বৃদ্ধি করে।

৩. নতুন পণ্য প্রচলন: ব্র্যান্ডিং এ সরাসরি উদ্যোক্তা-ভোক্তা সম্পর্ক তৈরী হয় তাই
নতুন পণ্য বা সার্ভিস প্রচলন করা সহজ করে।

৪. শিল্পোন্নয়ন : ব্র্যান্ডিং এ প্রতিক কে ফোকাস করে ফলে একই ব্র্যান্ডিং নামে বিভিন্ন নতুন নতুন পন্য বা সার্ভিস যুক্ত করা যায় যা শিল্পোন্নয়নে সহায়ক।

৫. উৎপাদন খরচ হ্রাস: ব্র্যান্ডিং এর মাধ্যমে পণ্য সেবা ও ধারণার চাহিদা সৃষ্টি ও বৃদ্ধি পায় ফলে একই বিনিয়গে অধিক উৎপাদন অর্থাৎ খরচ হ্র্যাস করে।

৬. কর্মসংস্থান সৃষ্টি : ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম লোকবল প্রয়োজন তাই কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি করে।

৭. জীবনযাত্রার মানোউন্নয়ন : ব্র্যান্ডিং মাধ্যমে ভোক্তাসাধরন নতুন নতুন পণ্য ও সেবা সম্পর্কে জানতে পারে যার ব্যাবহারে ভোক্তার জীবনযাত্রার মান উন্নত করে।

৮. শিক্ষায় অবদান : শিক্ষনীয় অনুষ্ঠান প্রচার করে পণ্য ও সেবা সংক্রান্ত সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে তথ্য প্রচারের ফলে ব্র্যান্ডিংশিক্ষা ক্ষেত্রে অবদান রাখে।

৯. জনমত গঠন : সামাজিক জনমত সৃষ্টি ও বৃদ্ধি তে ব্র্যান্ডিং গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা পালন করে। যেমন- ধুমপান বিষপান, গাছ লাগান পরিবেশ বাঁচান, ছোট পরিবার সুখি পরিবার, এসিড ছুঁড়বেন তো মরবেন, মানসম্পন্ন দেশীয় পণ্য ব্যবহার শিল্প ব্যবহারে সহায়ক, ইত্যাদি।

১০. আর্ন্তজাতিক বাজার সৃষ্টি : ব্র্যান্ডিং মাধ্যমে দেশীয় পণ্য সর্ম্পকিত তথ্য বিদেশী ক্রেতাদের আগ্রহী করে ফলে সহজেই আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যসামগ্রী বিক্রি করা সম্ভব হয় এবং প্রচুর পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে সহায়তা করে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ