ভূমিধসের ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা

0

রোহিঙ্গারা কক্সবাজার জেলার যে স্থানে শিবির গড়ে তুলেছে, সেখানকার ৫৫ শতাংশ এলাকাই ভূমিধসপ্রবণ। গত আট মাসে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারের কুতুপালং এলাকায় ওই শিবিরগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। গত বছরের মে মাসে ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে ওই এলাকার ৪৮টি স্থানে ভূমিধস হয়েছিল। ঘূর্ণিঝড় ও হঠাৎ বন্যার ঝুঁকিও সেখানে বেশি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের এক সমীক্ষায় এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে। দুর্যোগবিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা এশিয়ান ডিজাস্টার প্রিপারেডনেস সেন্টার (এডিপিসি) ওই সমীক্ষায় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। আসন্ন বর্ষায় রোহিঙ্গা শিবিরগুলোর ঝুঁকি সম্পর্কে ধারণা নিতে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের জন্য সমীক্ষাটি করা হয়েছে।

‘বাংলাদেশের রোহিঙ্গা শিবিরের বন্যা ও ভূমিধসের প্রভাব বিশ্লেষণ’ শীর্ষক ওই সমীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মে-জুনের মধ্যে রোহিঙ্গা শিবিরে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।

সমীক্ষাটিতে বলা হয়েছে, আশ্রয়শিবির গড়ে ওঠার ফলে কুতুপালং এলাকার পাহাড়ে বৃক্ষের পরিমাণ ৭২ শতাংশ থেকে কমে ৩৯ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। পাহাড়গুলোর ভূমি ৬৭ শতাংশ কাদা ও বালুর তৈরি। ফলে তা সামান্য বৃষ্টি ও ওজনে ভেঙে পড়ে।

সমীক্ষায় বলা হয়েছে, বন্যা ও ভূমিধসের সময় ঝুঁকিপূর্ণ মানুষজনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতা কম। ফলে তাদের জরুরি ভিত্তিতে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে প্রতিবেদনে।

 

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব শাহ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, ওই সমীক্ষা আমলে নিয়ে তাঁরা ইতিমধ্যে রোহিঙ্গাদের সরিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। নতুন করে ৫০০ একর জমি নিয়ে সেখানে ইতিমধ্যে দেড় হাজার রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মার্চের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় থাকা সব রোহিঙ্গাকে সরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।

জাতিসংঘ উন্নয়ন সংস্থা (ইউএনডিপি) এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় থেকে রোহিঙ্গা শিবিরের পরিবেশগত ঝুঁকি নিয়ে আরেকটি সমীক্ষা করা 
হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কুতুপালং রোহিঙ্গা শিবির এলাকায় ঘূর্ণিঝড় ‘মোরার’ মতো কোনো ঝড় আঘাত হানলে সেখানকার ৭০ শতাংশ রোহিঙ্গা ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, রোহিঙ্গা শিবিরে আশ্রয় নেওয়া ৬ লাখ ৭০ হাজার মানুষের বেশির ভাগ বাড়িঘর পলিথিন ও প্লাস্টিকের শিট দিয়ে তৈরি। এসব উপাদান পাহাড়ের বিভিন্ন স্থানে পানিপ্রবাহের পথ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সেখানে জলাবদ্ধতা ও তা থেকে ধস হতে পারে।

এ ব্যাপারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধ্যাপক এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রথম আলোকে বলেন, টেকনাফ ও উখিয়া এলাকাটি এমনিতেই প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ। এর সঙ্গে সেখানে বনভূমি বিনষ্ট, ভূমিরূপের প্রাকৃতিক গঠন ও বুনন নষ্ট করে ফেলার কারণে ওই ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ