এ কে আজাদকে দুদকে তলব

0

সিএন ডেস্ক : নকশা অনুমোদন না করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে রাজউক বাড়ি ভেঙে দেওয়ার পর হা-মীম গ্রুপের মালিক এ কে আজাদকে এবার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশে শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক এ সভাপতিকে আগামী ৩ এপ্রিল রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদক কার্যালয়ে হাজির হতে হবে।

কমিশনের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, ‘গতকাল বুধবার তলবের নোটিস এ কে আজাদকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দুদকের পরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী স্বাক্ষরিত ওই নোটিসে হা-মীম গ্রুপের কর্ণধার এ কে আজাদের বিরুদ্ধে কর ফাঁকি দিয়ে ঘোষিত আয়ের বাইরে বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।
এর আগে, গত বছরের অক্টোবরে এ কে আজাদের বিরুদ্ধে এক ব্যক্তি দুদকে অভিযোগ করেন। অভিযোগে বিভিন্ন কোম্পানির কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলা ও বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচারের অভিযোগ আনা হয়। অভিযোগ অনুসন্ধান করছে দুদক।

তৈরি পোশাকের ব্যবসা দিয়ে প্রতিষ্ঠা পাওয়া ৫৯ বছর বয়সী আজাদ হা-মীম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বস্ত্র, প্যাকেজিং, পাট, চা, রসায়ন, পরিবহনসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে তার। তিনি শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকেরও পরিচালক। বেসরকারি টেলিভিশন স্টেশন চ্যানেল ২৪ ও দৈনিক সমকাল এ কে আজাদের মালিকানাধীন টাইমস মিডিয়া লিমিটেডের প্রতিষ্ঠান। তিনি সমকালের প্রকাশক ও চ্যানেল ২৪-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এর আগে ২০০৮ সালে জরুরি অবস্থা চলাকালে অনেক ব্যবসায়ীর মতো এ কে আজাদের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। রমনা থানার ওই মামলায় ঘোষিত আয়ের বাইরে তার ২০ কোটি ৩৬ লাখ টাকার সম্পদ থাকার কথা বলা হয়েছিল। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রমাণ না পাওয়ায় ওই মামলায় দুদক চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়।

ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এ কে আজাদ ছাত্রজীবনে বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গত দুটি জাতীয় নির্বাচনের আগে ফরিদপুর-৩ (সদর) ও ফরিদপুর-৪ (ভাঙ্গা-সদরপুর-চরভদ্রাসন) আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন তিনি।

এর আগে গত মঙ্গলবার রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ মঙ্গলবার সকালে দৃশ্যত আকস্মিক এক অভিযানে এ কে আজাদের গুলশানের বাড়ি ভাঙা শুরু করে। গুলশানের ৮৬ নম্বর সড়কের ১ নম্বর হোল্ডিংয়ে এক বিঘা ৯ কাঠা ১৩ ছটাক জমির একাংশে তৈরি ওই দোতলা বাড়ির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ভেঙে দেওয়া হয়।

অভিযানের সময় রাজউকের পরিচালক অলিউর রহমান ‘বাড়ির মালিক রাজউক অনুমোদিত কোনো নকশা দেখাতে পারেননি, ফলে এটি একটি অবৈধ ভবন’ বলে দাবি করলেও পরে এ কে আজাদ এক বিবৃতিতে ‘সব বৈধ কাগজপত্র’ দেখানোর পরও অভিযানে থাকা ম্যাজিস্ট্রেট তা আমলে না নিয়ে বাড়ির একাংশ গুঁড়িয়ে দেন বলে অভিযোগ করেন। পরে ‘রাজউকের চেয়ারম্যানকে অনুমোদিত নকশা, নামজারিসহ যাবতীয় বৈধ কাগজপত্র দেখালে ভাঙার কার্যক্রম বন্ধ হয়’ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ