বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের উন্নয়ন চিত্র

0

ফারুক আহমেদ চৌধুরী :
জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক কাউন্সিল এর মানদন্ড অনুযায়ী উন্নয়নশীল দেশ হতে একটি দেশের যা প্রয়োজন সেটি অর্জনে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ। স্বল্পোন্নত দেশের পরিচয় মুছে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে শামিল হয়েছে। এটি বাংলাদেশিদের নিশ্চিতভাবেই গর্বিত করে। উন্নয়নশীল দেশ হতে হলে তিনটি আন্তর্জাতিক মান বা সূচকের মধ্যে অন্তত দুটিতে সাফল্য অর্জন করতে হয়। এগুলো হচ্ছে, নির্দিষ্ট পরিমাণ মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক ঝুঁকি বা ভঙ্গুরতা সূচক। বাংলাদেশ মাথাপিছু গড় জাতীয় আয়ের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। বাংলাদেশ বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত হার অনুযায়ী মাথাপিছু জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক মান অর্জন করেছে। এমনকি অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতার সূচকেও বাংলাদেশের অগ্রগতি সন্তোষজনক। ফলে বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত। বাংলাদেশের গতিশীল রপ্তানি খাত, মানবিক সম্পদ এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের ব্যাপক উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন জাতিসংঘ ।

এতে আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশের মর্যাদা বৃদ্ধি পেয়েছে । বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া নিঃসন্দেহে আমাদের উৎসাহিত করে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে সাফল্য অর্জন বিষয়ে এক প্রেস ব্রিফিং এ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুুল হাসান বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের পর যারা বাংলাদেশকে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল, যারা বাংলাদেশকে ‘টেস্ট কেস’ বলে উপহাস করত, আজ তারাও প্রশ্নাতীতভাবে বাংলাদেশের বিস্ময়কর অর্থনৈতিক উন্নয়নকে মেনে নিয়েছে। আমরা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক এটি এখন আর কোনো অলীক স্বপ্ন নয়, দিবালোকের মতো বাস্তব। বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত।

জেলা প্রশাসক মোঃ মাহমুদুল হাসান বলেন- বর্তমানে বাংলাদেশ একটি আত্মনির্ভরশীল দেশ। রয়েছে ৫ কোটি শিক্ষিত জনবল। তিনি কয়েকটি গবেষণার উদাহরন দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ একটি সম্ভবনাময় দেশ। আগামীতে নেক্সট এলিভেন অর্থ্যাৎ উন্নত ১১ টি দেশের তালিকায় যে দেশ গুলোর নাম ওঠে এসেছে তার মাধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। বাংলাদেশ ৮০ শতাংশ দরিদ্র সীমার মধ্য হতে বর্তমানে ২০ শতাংশ অবস্থান করছে। ১০ শতাংশ শিক্ষার হার হতে ৭০ শতাংশে উন্নিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি বে-সরকারী ক্ষেত্রেও অনেক সাফল্য এসেছে। স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে যোগ্যতা অর্জন করায় উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের চ্যালেঞ্জ ও করণীয় সম্পর্কে সেমিনার, আনন্দ শোভাযাত্রা, প্রযুক্তি বিষয়ক উন্নয়ন প্রদর্শনী ও লোকজ সাংস্কৃতির মাধ্যমে উন্নয়ন প্রচারে বর্ণাঢ্য আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

চাঁপাইনবাগঞ্জের উন্নয়ন চিত্র: স্বল্পোনত দেশের কাতারে থেকেও বর্তমান সরকারেরর আমলে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কল্পনাতিত উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমান সরকার সারাদেশের ন্যায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, যোগাযোগ প্রতিটি খাতে যথাযথ কর্মপরিকল্পনার মাধ্যমে উন্নয়নকে গতিশীল করছে। বাস্তবায়ন করেছে হাজার কোটি টাকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প। পরিসংখ্যান মতে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন বিগতদিনের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। উন্নয়নের চলমান প্রক্রিয়ায় একাধিক নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথে। উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে বদলে যাচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের রূপ। উন্নয়নশীল দেশের স্বাদ উপভোগ করছে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসী ।

শিক্ষা ক্ষেত্রে উন্নয়ন: সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় নজিরবিহীন সাফল্য এনেছে। বীরশ্রেষ্ঠ মহিউদ্দিন জাহাঙ্গীর কলেজের একাডেমিক ভবন, শাহ নেয়ামতুল্লাহ কলেজের প্রশাসনিক ভবন , নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের ভবন, আব্দুস সামাদ কলেজের বহুতল ভবন সহ ৬ টি কলেজের নতুন ভবন নির্মান করা হয়েছে। এছাড়া স্কুল মাদ্রাসা সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে অবকাঠামো উন্নয়ন। বেকারত্ব দূরিকরনের লক্ষে শহরের প্রান কেন্দ্র পিটিআই এলাকায় নির্মান করা হয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যুব উন্নয়ন ভবন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে সাড়ে ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ যুব প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করা হয়েছে। দারিদ্র বিমোচনে এ প্রকল্পটি বিশেষ ভূমিকা রাখবে। এতে সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থান, গড়ে উঠবে দক্ষ জনশক্তি।

যোগাযোগ খাতে উন্নয়ন: চাঁপাইনবাবগঞ্জের সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। ৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মান করা হয়েছে ৫৪৭ মিটার দীর্ঘ “শেখ হাসিনা সেতু”। সদর উপজেলার সাতটি ইউনিয়নে আর্থ সামাজিক উন্নয়নে আমূল পরিবর্তন এনেছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে নামকরন হওয়া এ সেতুটি। সরকারের এ উন্নয়ন প্রকল্পটি ছিল চরাঞ্চলের মানুষের বহু দিনের কাংখিত স্বপ্ন । সংযোগ সড়ক। ব্রিজ কালভার্ট। অসংখ্য অভ্যান্তরীন রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকা আন্তনগর ট্রেন চালু চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাসির দীর্ঘদিনের দাবি । এ দাবী পূরণের লক্ষে ২১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আমনুরা বাইপাস রেলপথটির নির্মাণ কাজ সম্প্রতি শেষ হয়েছে। রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন দিয়ে আন্তনগর ট্রেনের সঙ্গে সংযোগের ব্যবস্থা করছেন। যাতে আন্তনগর ট্রেনের চাহিদা কিছুটা পূরণ হয়েছে। অচিরেই সরাসরি আন্তনগর ট্রেন চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে।

চিকিৎসা ক্ষেত্রে উন্নয়ন: চাঁপাইনবাবগঞ্জে চিকিৎসা খাত উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে বর্তমান সরকার। প্রধানমন্ত্রী প্রতিশ্রুত চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল একশ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নীতকরণের লক্ষে নতুন ভবন নির্মানের কাজ চলমান। গনপূর্ত বিভাগের অর্থায়নে ৮ তলা বিশিষ্ঠ হাসপাতালের এ নতুন ভবন নির্মাণে ব্যায় হবে ২৮ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বিশেষায়িত চিকিৎসায় এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে জাতীয় অন্ধ কল্যান সমিতির চাঁপাইনবাবগঞ্জ চক্ষু হাসপাতাল। যার নির্মান ব্যায় হয়েছে ৬ কোটি ৬১ লক্ষ টাকা।

বিবিধ উন্নয়ন: ২১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে সর্বাধুনিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন। চলতি বছরে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী এ্যাড. আনিসুল হক এ প্রকল্পটি উদ্বোধন করেন। ১ কোটি ৪২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার এগ্রিকালচারের (বিনা) উপকেন্দ্র। ১৩ হাজার ৫৫১ কোটি টাকা পদ্মা নদীর ভাঙ্গন থেকে জেলার আলাতুলি এলাকা রক্ষায় গৃহীত প্রকল্প এবং ১ হাজার ১১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র । এছাড়াও প্রায় ১০টি ইউনিয়নে অত্যাধুনিক ইউনিয়ন কমপ্লেক্স, জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ভূমি অফিস নির্মাণ করা হয়েছে। প্রক্রিয়াধীন রয়েছে সোনামসজিদ স্থল বন্দরের সাথে রেল যোগাযোগ, বিনোদন পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র ও ১৮৭ কোটি টাকা ব্যয়ে মহানন্দায় রাবার ড্যাম ও ড্রেজিংয়ের উদ্যোগ।

বিশ্বের অন্যতম সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার ১০টি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এগুলো হচ্ছে- একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প, আশ্রায়ন প্রকল্প, ডিজিটাল বাংলাদেশ, শিক্ষা সহায়তা কর্মসূচি, নারীর ক্ষামতায়ন কর্মসূচি, সবার জন্য বিদ্যুৎ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কমিউনিটি ক্লিনিক ও মানসিক স্বাস্থ্য, বিনিয়োগ উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণ। দেশের প্রতিটি মেলায় এ বিষয়গুলো জনসাধারণের সামনে বিশেষভাবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। দেশের সকল পর্যায়ের লোকজন এই উন্নয়নের অংশ, এই অর্জন সকলের। যা দেশর জন্য মাইলফলক। সব ধরনের চ্যালেঞ্চ মোকাবেলা করে উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে থাকুক বাংলাদেশ এটাই প্রত্যাশা ।

সভাপতি
জেলা স্বাধীন প্রেস ক্লাব চাঁপাইনবাবগঞ্জ

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ