আহসান মঞ্জিল

0

কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি দূর করতে মাঝে মাঝে ভ্রমণে যাওয়া উত্তম। কিছুদিন আগে তাই বন্ধুবান্ধব নিয়ে ঘুরে বেড়াতে যাই আহসান মঞ্জিলে। বাসে চড়ে প্রথমে চলে যাই পুরোনো ঢাকার সদরঘাটে। সেখান থেকে একটু হাঁটলেই চোখে পড়ে সুরম্য অট্টালিকা আহসান মঞ্জিল। মনোমুগ্ধকর ও দৃষ্টিনন্দন এই অট্টালিকাটি প্রথম দেখাতেই যে কারোর নজর কাড়ে।
পুরোনো ঢাকার ইসলামপুর এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে অবস্থিত আহসান মঞ্জিল। এটি একসময় নবাবদের প্রাসাদ ছিল। এর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন নওয়াব আবদুল গণি। তার ছেলে খাজা আহসানুল্লাহর নামানুসারে এর নামকরণ করা হয়। বর্তমানে এটি জাদুঘর হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।
অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝিতে জামালপুর পরগনার জমিদার শেখ এনায়েত উল্লাহ আহসান মঞ্জিলের বর্তমান স্থানে রংমহল নামে একটি প্রমোদভবন তৈরি করেন। পরবর্তী সময়ে তার ছেলে বাড়িটি ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন, যা ফরাসিরা বাণিজ্য কুঠি হিসেবে ব্যবহার করত। ১৮৩৫ সালে নওয়াব আবদুল লতিফের বাবা এটি কিনে নেন। পরে নওয়াব আবদুল লতিফ ভবনটির নির্মাণ শুরু করেন। ১৮৫৯ সালে এর নির্মাণ শুরু হয়, শেষ হয় ১৮৭২ সালে।
সুরম্য এই ভবনটি ঢাকার অন্যতম শ্রেষ্ঠ স্থাপত্য। ১৮৯৭ সালের ১২ জুন ভূমিকম্পে ভবনটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এরপর নবাব আহসান উল্লাহ তা পুনর্নির্মাণ করেন। ভবনটিতে অনেক পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়। ফলে পুরোনো সেই ভবনের অস্তিত্ব নেই বললে চলে।
আহসান মঞ্জিলের নির্মাণশৈলী দেখার মতো। এর ওপরে একটি গম্বুজ রয়েছে। একসময় এই গম্বুজের চূড়া ঢাকা শহরের সর্বোচ্চ চূড়া ছিল। প্রাসাদটি দুটি অংশে বিভক্ত। পূর্বাংশে বৈঠকখানা, গ্রন্থাগার, কার্ডরুম ও মেহমান কক্ষ রয়েছে। পশ্চিমাংশে রয়েছে নাচঘর ও আবাসিক কক্ষ নিচতলায় রয়েছে দরবারগৃহ ও ভোজনকক্ষ। ১৯৯২ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আহসান মঞ্জিল জাদুঘর হিসেবে উদ্বোধন করা হয় এবং জনসাধারণের জন্য উš§ুক্ত করে দেওয়া হয়। নওয়াব আমলের ডাইনিং রুম, তাদের ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিসপত্র, যেমনÑআয়না, আলমারি, সিন্দুক, থালাবাসন, চেয়ার-টেবিল, হাতির মাথার কঙ্কাল, বিভিন্ন তৈলচিত্র, ফুলদানি, পানের বাটা, ড্রয়িংরুম, নাচঘর প্রভৃতিসহ মোট চার হাজার ৭৭টি নিদর্শন রয়েছে।
গ্রীষ্মকালে শনিবার থেকে বুধবার সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এবং শীতকালে সকাল ৯টা ৩০ মিনিট থেকে বিকাল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত খোলা থাকে। বছরের অন্য সময় শুক্রবার বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটি। এছাড়া সরকারি ছুটির দিনে জাদুঘর বন্ধ থাকে।
আহসান মঞ্জিলে প্রবেশের জন্য প্রাপ্তবয়স্কদের প্রবেশ ফি ২০ টাকা। শিশুদের দুই টাকা। প্রতিবন্ধীরা কোনো অর্থ ছাড়াই প্রবেশ করতে পারবেন। সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য ২০ টাকা। অন্য বিদেশিদের জন্য ১০০ টাকা করে প্রবেশ ফি ধরা হয়েছে।
দেশ-বিদেশ থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার দর্শনার্থী ঘুরতে আসেন আহসান মঞ্জিলে।
পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে আপনিও আসতে পারেন এখানে। ক্লান্ত-শ্রান্ত মনে খানিক প্রশান্তি জাগাতে পারে আহসান মঞ্জিল।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ