সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের গুজব উসকে দিচ্ছে পতন

0

অর্থনৈতিক ডেস্ক:

দেশের পুঁজিবাজার পরিস্থিতি বর্তমানে নাজুক। প্রতিদিনই কমছে বিনিয়োগকারীদের পুঁজি। আর পুঁজির নিরাপত্তা নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এরই মধ্যে বাজারের আরও পতন হবে, এমন গুজবে সরব হয়ে উঠেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, যা পতনকে আরও উসকে দিচ্ছে। ডিএসই ইনভেস্ট ক্লাব, ডিএসই প্রফিট ক্লাব, ডিসিশন মেকারসহ বিভিন্ন গ্রুপ এসব গুজব ছড়াচ্ছে।

এতে আগামীতে পুঁজিবাজার পরিস্থিতি নিয়ে কী হবে তা ঠিক করতে পারছেন না বিনিয়োগকারীরা। তবে বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন এর কোনো ভিত্তি নেই। আবার নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো বিষয়টির দিকে নজর দিচ্ছে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো ঘেঁটে দেখা যায়, মার্কেট ডিসকাশন নামে একটি গ্রুপে ইফতেখার উদ্দীন খান নামে একজন লিখেছেন ডিএসইর প্রধান সূচক চার হাজার ৩০০ পয়েন্টে আসার সম্ভাবনা আছে কি না। আরেকজন লিখেছেন পুঁজিবাজার চার হাজার ৩০০ পয়েন্টের বেশি কমবে না। অপর একজন লিখেছেন চার হাজার ৩০০ নয়, বাজার পাঁচ হাজার ৩০০ পয়েন্টের বেশি পড়বে না।

অন্যদিকে ডিএসইর ইনভেস্টর ক্লাবের মো. ফুরকার নামে একজন লিখেছেন সাইফ পাওয়ার, আরএন স্পিনিং কিনবে কী করে? হতে টাকা নেই। মজুমদার নাজিম নামে একজন মন্তব্য করেছেন, অনলি জেড আইটেম। একইভাবে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়ে সেই শেয়ার কত দিনে কত টাকায় ওঠানামা করবে, কোন দিন সূচক কত কমবেÑএমন নানা গুজব ছড়াচ্ছে এসব মাধ্যম। এতে উৎসাহিত হচ্ছেন অনেক বিনিয়োগকারী। এভাবে বিনিয়োগ করে বেশিরভাগ সময় লাভের বদলে লোকসানি হতে হয় তাদের।

জানতে চাইলে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবু আহমেদ বলেন, কোনো একটি শেয়ারের দর কত টাকা বাড়বে কিংবা সূচক কোথায় গিয়ে স্থির হবেÑযারা ফেসবুকে এ ধরনের মন্তব্য করেন তারা জ্ঞানী লোক নন। এগুলো মূলত জুয়াড়িদের কাজ। তারা নিজের কাজ হাসিল করার জন্য এমন করেন। এসব লোকের কথায় কান দেওয়ার কোনো অর্থ নেই। যারা এমন করেন তাদের শাস্তি হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।

একই প্রসঙ্গে ডিএসইর সাবেক প্রেসিডেন্ট শাকিল রিজভী বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কী লেখা হচ্ছে সেদিকে খেয়াল না করে কোন কোম্পানির আর্থিক অবস্থা কী সেদিকে খেয়াল করা উচিত। বাজার থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য দুষ্ট লোকেরা এমন করতেই পারে। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত হবে এসবে গুরুত্ব না দেওয়া। কারণ গুরুত্ব দিলে তারা আরও উৎসাহিত হয়।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানো দণ্ডনীয় অপরাধ। এই অপরাধে আগে শাস্তি দেওয়ার নজির রয়েছে। এভাবে গুজব ছাড়ানোর ফলে ২০১৫ সালে একটি ব্রোকারেজ হাউজের সাবেক কর্মকর্তাকে দুই বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

অন্যদিকে সিকিউরিটিজ আইন অনুযায়ী পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির সনদ ছাড়া কারও বাজার বিশ্লেষক হওয়ার সুযোগ নেই। এ ধরনের আইন লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার বিধান রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে খুব বেশি সক্রিয় নয় নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো।

জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র সাইফুর রহমান বলেন, এ ধরনের অপরাধর করলে তার শাস্তির বিধান রয়েছে। কেউ এমন করেছে প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ