একটি দুর্ঘটনা ও একটি স্বপ্ন

0

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

১২ মার্চ ইউএস-বাংলার বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পর্যন্ত ৫০ জন নিহত হন। দুর্ঘটনার পর বেঁচে ছিলেন ওই বিমানের পাইলট আবিদ সুলতান। দুর্ঘটনার পর আশংকাজনক অবস্থায় ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতানকে কাঠমান্ডুর নরভিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। সেখানেই তিনি পরের দিন সকালে মারা যান।

আবিদ সুস্থ হয়ে ফিরে আসবেন এমন আশায় বুক বেঁধে ছিল তাঁর স্ত্রী, এক মাত্র সন্তান তানজিদ সুলতান, বাবা মা ও ভাইবোনেরা। কিন্তু পাইলট আবিদ আর ফিরলেন না। সবাইকে কাদিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে।

পাইলট আবিদের এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারেননি তাঁর স্ত্রী আফসানা। তাঁর স্বামী মারা যাননি, সবাই মিথ্যা কথা বলছেন, আবিদ ফিরে আসবে, আবিদ তাকে সঙ্গে না নিয়ে একা চলে যেতে পারে না এমন কথা বলতেন তিনি। স্বামীর শোকে রোববার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। স্বামীর মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে শুক্রবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।

পাইলট আবিদ সুলতান ও আফসানা দম্পতির একমাত্র সন্তান তানজিদ সুলতান। বাবা ও মাকে হারিয়ে হারিয়ে তানজিদ সুলতান একেবারে শোকে স্তব্ধ ও নির্বিকার হয়ে গেছেন। চৌদ্দ বছর বয়সি তানজিদ সুলতান এবার ‘ও’ লেভেল পরিক্ষার্থী।

আবিদ সুলতান ও আফসানা তাঁদের একমাত্র সন্তানকে নিয়ে থাকতেন উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের ১৮ নম্বর রোডের ৩৮ নম্বর ভাড়া বাসায়। আবিদদের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর।৩২ বছরের ক্যারিয়ারে কোনো প্রকার সম্পদের মালিক হন নাই পাইলট আবিদ। সাজানো-গোছানো একটি পরিবার ছিল আবিদের। কিন্তু একটা দূর্ঘটনার ঝড়ে সব স্বপ্ন ভেঙ্গে চুরমার।

আবিদের স্বপ্ন ছিল একমাত্র সন্তান তানজিদ সুলতানকেও পাইলট বানিয়ে তার পর তিনি অবসরে যাবেন। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই অকালে চলে যেত হলো তাঁকে। আবিদের বাবাও একজন পাইলট ছিলেন।

আবিদের ভাই খুরশিদ মাহমুদ বলেন, ‘একমাত্র সন্তান তানজিদ সুলতান মাহিম এবার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা দেবে। বাবা-মাকে হারিয়ে অসময়ে ও এতিম হলো। সে কারোর সাথে কথা বলছে না।’ পাইলট আবিদের যেমন স্বপ্ন ছিল একমাত্র ছেলেকে পাইলট বানাবে। তেমনি ছেলে তানজিদ সুলতানেরও স্বপ্ন ছিল সে বাবার মতোই পাইলট হয়ে বাবার স্বপ্ন পূরণ করবে।

দশ দিনের মধ্যে বাবা মাকে হারিয়ে ছোট্ট কোমল একটি হৃদয় বেদনার ভারে ভারাক্রান্ত আজ। তানজিদ সুলতান কি পারবে বাবা মা হারানোর কষ্ট বুকে চেপে রেখে বাবা আবিদ সুলতানের স্বপ্ন পুরন করে একজন পাইলট হতে। না কি কিশোর তানজিদ সুলতানের পাইলট হবার স্বপ্নটাও বাবা মার মতই অকালেই হারিয়ে যাবে?

Get real time updates directly on you device, subscribe now.

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ