যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রে রক্ত ঝরছে ইয়েমেনে

0

সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোট প্রায় তিন বছর ধরে ইয়েমেনে অবৈধ ও অমানবিক অভিযান চালাচ্ছে।এ অভিযানে যে অস্ত্র ব্যবহার হচ্ছে তা সরবরাহ করছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ পশ্চিমা দেশগুলো।

অপ্রতিরোধ্য গতিতে অস্ত্র উৎপাদন করছে এই দেশগুলো। আর সৌদি আরব সে অস্ত্রেই রক্তাক্ত করে তুলেছে ইয়েমেনকে। মানবাধিকার হরণের কাজে তাদের অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও তা আমলে নিচ্ছে না দেশগুলো। কোটি কোটি ডলার দিয়ে তাদের কাছ থেকে কেনা বোমা ফেলা হচ্ছে আরবের দরিদ্রতম দেশ ইয়েমেনে।

বোমা ও বিমান হামলার আঘাতেই প্রাণ হারাচ্ছেন হাজার হাজার বেসামরিক লোক। শুক্রবার মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরে।

অ্যামনেস্টি জানায়, গত তিন বছর ধরে চলা ইয়েমেনের ভয়াবহ যুদ্ধে উভয়পক্ষের করা যুদ্ধাপরাধের আলামত সংগ্রহ করছে তারা। ২০১৫ সালের ২৫ মার্চ থেকে শুরু এই যুদ্ধে সব পক্ষ কিভাবে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করেছে তা খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।

সংস্থাটির মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের গবেষণাবিষয়ক পরিচালক লিন মালুফ বলেন, ‘তিন বছর পরও ইয়েমেনের যুদ্ধে থামার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। যুদ্ধে সব পক্ষই বেসামরিক নাগরিকদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। স্কুল, হাসপাতাল ধ্বংস হয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ জীবন দিয়েছেন। উদ্বাস্তু হয়েছে লাখো মানুষ। অনেক মানুষের প্রয়োজন মানবিক সহায়তা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কাছে প্রমাণ আছে যে সৌদি জোটের কাছে আসা অস্ত্র মূলত ইয়েমেনে বেসামরিকদের হত্যার কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু যুক্তরাষ্ট্র কিংবা যুক্তরাজ্য নয়, ফ্রান্স, স্পেন ও ইতালি থেকেও আসছে অস্ত্র। অস্ত্র বিষয়ে আন্তর্জাতিক নীতিমালার কোনো তোয়াক্কাই করা হচ্ছে না।’

২০১৭ সালের আগস্টে সৌদি জোটের হামলায় রাজধানী সানায় ১৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। গুরুতর আহত হন আরও ১৭ জন। হতাহতের মধ্যে অনেক শিশুও ছিল। ওই হামলায় ব্যবহৃত বোমাটি যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

এ সব হামলা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। অ্যামনেস্টির মতে, সংঘাত শুরুর পর এখন পর্যন্ত সৌদি জোটের বিরুদ্ধে ৩৬টি যুদ্ধ আইনবহির্ভূত হামলার প্রমাণ পেয়েছে তারা। এ সব হামলায় বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন ৫১৩ জন। আহতের সংখ্যা ৩৭৯।

যুদ্ধ আইন লঙ্ঘন করেছে হুথি বিদ্রোহীরা ও হুথিবিরোধীরাও। প্রায়ই বেসামরিকদের লক্ষ্য করে তারা হামলা চালায় বলে দাবি অ্যামনেস্টির। বিশেষ করে তাইয়াজ শহরে বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছে গোষ্ঠীটি।

রাজধানী সানাসহ যেসব অঞ্চল তাদের দখলে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘনেরও অভিযোগ রয়েছে। গ্রেফতার, গুম হওয়ার মতো ঘটনা ঘটছে অহরহ। ২০১৮ সালে হুথি নিয়ন্ত্রিত বিশেষ আদালতে অন্তত চারজনকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যামনেস্টি।

সংস্থাটি জানায়, প্রহসনের বিচারের শিকার আটককৃতদের অধিকাংশই। এছাড়া অপহরণ, গুম, বিচারের আগে দীর্ঘদিন আটকে রাখা, হেফাজতে নিপীড়ন-নির্যাতন এবং অন্যান্য অমানবিক আচরণের অভিযোগ রয়েছে যুদ্ধের সব পক্ষের বিরুদ্ধে। ইয়েমেনে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে এ আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে বলে একে যুদ্ধাপরাধ বলে গণ্য করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে অ্যামনেস্টি। ইয়েমেনের মানবেতর পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছে অ্যামনেস্টি। প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মানবিক সংকট মোকাবেলা করছে ইয়েমেন।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ