বিজিএমইএ ভবন ইস্যুতে আপিল আদেশ কাল

0

সিএন ডেস্ক: ঢাকার হাতিরঝিল প্রকল্প এলাকায় বেআইনিভাবে নির্মিত ১৬ তলা বিজিএমইএ ভবন ভেঙে ফেলতে পোশাক রফতানিকারকদের সংগঠনটি আরও  সময় পাবে কি না, আগামী মঙ্গলবার সে সিদ্ধান্ত দেবেন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ।

ভবন ভাঙতে আরও এক বছর সময় চেয়ে বিজিএমইএ’র করা আবেদনের ওপর গতকাল (রোববার) শুনানি শেষে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারকের আপিল বেঞ্চ বিষয়টি আদেশের জন্য রেখেছেন।

আদালতে বিজিএমইএ’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী ও ইমতিয়াজ মঈনুল ইসলাম। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

জলাধার আইন ভেঙে নির্মিত বিজিএমইএ ভবনকে সৌন্দর্যমণ্ডিত হাতিরঝিল প্রকল্পে ‘একটি ক্যানসার’ বলেছিলেন হাইকোর্ট। ওই ভবন অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় আপিলেও বহাল থাকে। পরে বিজিএমইএ রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করলে সেটিও খারিজ হয়ে যায়। রায়ের পর কার্যালয় সরিয়ে নিতে বিজিএমইএ তিন বছর সময় চাইলেও আপিল বিভাগ তাদের ছয় মাসের মধ্যে সে কাজ শেষ করতে বলেন। ওই ছয় মাস সময় শেষ হওয়ার আগে আগে আরও এক বছর সময় চেয়ে গত বছরের ২৩ আগস্ট আবেদন করে বিজিএমইএ।

আপিল বিভাগ তখন ভবনটি ভাঙতে আরও সাত মাস সময় দেন, যা আগামী ১২ এপ্রিল শেষ হবে। ওই আদেশে আদালত বলেন, এটাই শেষ সুযোগ, আর সময় দেওয়া হবে না। তারপরও ৫ মার্চ ভবনটি ভাঙতে আবারও এক বছর সময় চেয়ে আবেদন করে বিজিএমইএ।

এ বিষয়ে শুনানির ?শুরুতে কামরুল হক সিদ্দিকী ভবন ভাঙার আদেশ বাস্তবায়নের জন্য বিজিএমইএ’র নেওয়া পদক্ষেপ-তথ্য তুলে ধরেন।

বিচারক তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘কবে প্লট নেবেন, কবে বিল্ডিং করবেন, আমরা টাইম দেব কেন? র?্যাংগস ভবন ভাঙা হয়েছে। আপনাদের বিল্ডিংটা অবৈধভাবে করা হয়েছে।’

জবাবে ওই আইনজীবী ‘আমরা চেষ্টা করছি’ বলে জানালে বিচারক বলেন, ‘কী করবেন না করবেনÑসেটা আপনাদের বিষয়। এটা অবৈধভাবে করা হয়েছে। এটা আমাদের হেডেক নয়। এটা কি আমাদের দেখার বিষয়? শেষ আদেশ কবে হয়েছিল, তখনও বিজিএমইএ এক বছর সময় চেয়েছিল। এভাবে চলতে থাকলে পাঁচ বছর লাগবে।’

এ সময় আইনজীবী ‘এক মাসের মধ্যে ভবনের বিষয়ে ফাইলিংয়ে যেতে পারব’ বলে আদালতকে জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক হাইকোর্ট, আপিল আর রিভিউ’র তথ্য চান। পরে বিচারক বলেন, ‘এ বছরও পার করে দিচ্ছেন, তাহলে আদেশ দেওয়ার মানে কী?’

উত্তরে আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী বলেন, ‘এটা ন্যাশনাল ইকোনমির লাইফ লাইন।’ এ পর্যায়ে বিচারক বলেন, ‘এ কথা বলবেন না। বিল্ডিং ভেঙে ফেলতে হবে। আপনারা না পারলে রাজউককে করতে হবে।’

সর্বশেষ ‘মৃত্যুদণ্ডের আসামিও শেষ আবেদন করতে পারেন। আমরাও এ সুযোগটি চাচ্ছি’ বলে জানান ওই আইনজীবী। এর জেরে আগামী মঙ্গলবার সিদ্ধান্ত শোনানোর দিন ধার্য করেন বিচারক।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ