হযরত আলী ও তার স্ত্রীর নামেই ২০ মামলা আলালের মিথ্যা মামলার গ্যাড়াকল

0

স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চরকালিবাড়ি এলাকায় মামলাবাজ হিসাবেই এখন পরিচিত আলালউদ্দিন । আলালগং হযরত আলী (৮০) ও তার স্ত্রী সমলা খাতুন (৭০) পুত্র জামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে মামলা নং-৩১/৯৯, ৫২/০৪, ৬২/০৫ ,৯৮/০৬, ৩৪৪/০৬, ১০১/০১, ১৭১/০২, ১৬৫ (৪)০৩, জি আর -৫৯২/০৪, মামলা নং ৯ (৩) ০৫, ৫২/০৪, ৬৬/০৪, ১৩ (৪) ০৪, জি আর-১০৫৮/০৪, ১৯/০৭, ৩৫/০৮ প্রায় ২৯টি মামলা করেন । এই মামলাবাজ আলাল উদ্দিন একসময় মাঝির পেশা ছিলো তার । অত:পর ভূমিদস্য ।

এই পেশায় এখন তিনি কোটিপতি । সামান্য মাঝি থেকে কোটিপতি হওয়ার পেছনের রহস্য হচ্ছে জমি সংক্রান্ত ঘটনায় চাচা শুশুর হযরত আলীসহ নিরহ গ্রামবাসীকে একের পর এক মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির । উদ্দেশ্য মামলা দিয়ে মানুষকে নি:স্ব করে একপর্যায়ে তাদের জমি হাতিয়ে নেয়া অর্থাৎ জমি আত্মসাত করা তার মূল কাজ।

আলালের মিথ্যা মামলার গ্যাড়াকলে আজ নি:স্ব আশীতিপর বৃদ্ধ হয়রত আলী ও তার স্ত্রী সমলা খাতুন । অসহায় নিরীহ হযরত আলীর জমি হাতিয়ে নিতে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে করা হয়েছে অসংখ্য মিথ্যা মামলা ।

১৯৯১ সাল থেকে অদ্যাবধি পর্যন্ত কমপক্ষে ২৯ টি মামলা করেছে আলালউদ্দিনসহ তার বাহিনী। মামলাগুলির মধ্যে রয়েছে খুন, চাঁদাবাজির মত লোমহর্ষক মামলাও । মিথ্যা মামলায় হযরতকে জেলে রেখে আলালউদ্দিন বেদখল করেছে হযরতের পৈত্রিক ভিটাও । মিথ্যা মামলা ফাঁসানো হয়েছে হযরতের পুত্র জামালকেও ।

যদিও এসব মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন হযরত আলী ও স্ত্রী সমলা খাতুন । কোতয়ালী মডেল থানা পুলিশ চাদাঁবাজির মামলায় ২১১ ধারায় বাদী আলালউদ্দিনকে প্রসিকিউশনও দিয়েছে । অনুসন্ধানে জানাগেছে, আলালউদ্দিনের এসব মামলা করার পেছনে রয়েছেন তারই মেয়ের জামাই জাহাঙ্গীর আলম । জাহাঙ্গীর আলম র‌্যাপিড আ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কর্মকর্তা । বর্তমানে তিনি র‌্যাবের হেডকোয়ার্টারে কর্মরত আছেন । হযরত আলীর মত অনেক নিরীহ অসহায়ই আলালউদ্দিন এবং তার জামাতা জাহাঙ্গীরের রোষানলে পড়ে আজ নি:স্ব ।

ভূক্তভোগী হযরত আলী জানান, আমি নির্দোষ । আলালউদ্দিন আমার জমি আতœসাত করতে মিথ্যা মামলা করে । এতে প্রাথমিকভাবে মানসিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হই । বাড়ি ঘর ছেড়ে পালিয়ে যাই । এজন্য আমাদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অর্থনৈতিকভাবেও আমরা ক্ষতিগ্রস্থ হই । একপর্যায়ে আমরা নি:স্ব হয়ে গেলে আলালউদ্দিন আমার জমি কেড়ে নেয় ।

স্থানীয় সচেতন মহল বলেন, আইন হলো ভালো নাগরিকদের আত্মরক্ষার জন্য। কিন্তু আলালের মত এক শ্রেণির মানুষ আইনকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে নিরীহ মানুষকে হয়রানি করতে অভ্যস্ত। আইন যেখানে মানুষকে অপরাধের হাত থেকে রক্ষা করার কথা, সেখানে আইনকেই অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে মানুষকে হয়রানি করে আলালউদ্দিন নিজের স্বার্থ উদ্ধারের জন্য। জমি আতœসাতের লক্ষে নিরীহ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে আলালউদ্দিনের খারাপ লোক নানা রকম মিথ্যা মামলা দিয়ে থাকে। তারা বলছেন, আালালউদ্দিনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক । আইন যথার্থভাবে প্রকৃত আলালউদ্দিন এবং তার মদদদাতা জাহাঙ্গীর আলমের মত সামাজিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ হোক, কোনো নিরপরাধ মানুষ হয়রানির শিকার না হোক সেটাই এলাকাবাসীর দাবি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ