প্রথম স্ত্রীকে ফিরে পেতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে হত্যা

0

বাল্যবিয়ের পাঁচদিন পর নববধূ মীমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রেখে থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করতে গিয়েছিলেন স্বামী। তবে পুলিশের সন্দেহ হলে তাকে জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।

পরে স্বামী ফরহাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুঁতে রাখা নববধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় ফরহাদসহ তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার হামলাইকোল গ্রামের দিনমজুর মনিরুল ইসলামের মেয়ে মীম। বয়স ষোল পার না হতেই তাকে বিয়ে দেওয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী ঝাউপাড়া সন্তোষপুর গ্রামের তৌহিদ শাহর ছেলে ফরহাদ আলীর সঙ্গে। গত ২২ মার্চ রাতে গোপনে তাদের বিয়ে হয়। মীমের প্রথম বিয়ে হলেও ফরহাদের ছিল এটা দ্বিতীয় বিয়ে। বিয়ের পাঁচ দিন পর গত সোমবার গভীর রাতে নববধূ মীমকে স্বামীর ঘরে পাওয়া যায়নি।

সবার ধারণা, সে অন্যের হাত ধরে পালিয়েছে। স্বামী ফরহাদও বউ পালানোর প্রচার শুরু করে। নিখোঁজের পরদিন তারা থানায় ডায়েরি করতে আসে। ঘটনাটি শুনে ওসি দিলীপ কুমার দাসের সন্দেহ হয়। তিনি ফরহাদকে আলাদাভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যায় ফরহাদের সাবেক স্ত্রী, শ্বশুর ও শাশুড়ি এবং সে নিজেই জড়িত রয়েছে বলে জানায়। এমনকি মীমের লাশ বাড়ির পেছনে মাটির নিচে চাপা দিয়ে রেখেছে বলে জানায় সে।

এরপর মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ওসি দিলীপ কুমার দাস ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মীমের লাশ উদ্ধার করেন এবং ফরহাদের সাবেক স্ত্রী ইমা, তার বাবা তফের উদ্দিন ও মা সুখজানকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন।

মীম হত্যার কারণ হিসেবে ফরহাদ পুলিশকে জানায়, আগের শ্বশুর-শাশুড়ি তাকে প্রলুব্ধ করে যে, মীমকে হত্যা করে লাশ গুম করলে তাকে জমিজমা, পাকা বাড়িঘর ও মেয়ে ইমাকে ফের তার সঙ্গে বিয়ে দেওয়া হবে।

ওসি দিলীপ কুমার দাস বলেন, মীমের বাবা বাদী হয়ে ফরহাদসহ চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন। ফরহাদকে জেলে পাঠানো হয়েছে এবং তার সাবেক স্ত্রী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আটকে রাখা হয়েছে। মীমের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ