শিশু কন্যাকে ধর্ষণের দায়ে পিতার যাবজ্জীবন

0

মনুষ্যত্ব ও নৈতিকতার অশুভ স্খলনে এমন সব ভয়াবহ অপরাধ সংগঠিত হচ্ছে যা নিয়ে লিখতে গিয়েও ভীষণ দ্বিধাগ্রস্ত এবং অপরাধবোধে ভুগতে হয়। পিতা যখন নিজে তার কন্যা সন্তানকে ধর্ষণ করে, এবং কি ধর্ষণের ফলশ্রুতিতে সেই কন্যার গর্ভ থেকেও পৃথিবীতে আসে আরেকটি নিষ্পাপ শিশু তখন সম্পর্কের এই জটিল সমীকরন মাথায় আসে না । মাঝে মাঝে মনে হয় এ কোথায় চলেছি আমরা! লজ্জায়, ঘৃনায় মাথা নিচু হয়ে আসে!

নিজ শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগে জামালপুরের রশিদপুরের অভিযুক্ত পিতাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে নারী ও শিশু অাদালত, জামালপুর । জামালপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিজ্ঞ বিচারক রেজা মো. আলমগীর হোসেন এ রায় দেন । দণ্ডপ্রাপ্তের নাম রবিউল ইসলাম। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়।

মামলায় সূত্রে জানা যায়, রশিদপুর গ্রামের রবিউল ইসলাম তার ৫ম শ্রেণি পড়ুয়া শিশু কন্যাকে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজনি হলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রবিউলকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে ওইদিন রাতেই শিশুর মা বাদী হয়ে জামালপুর সদর থানায় পিতা রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় মামলার তদন্তকারী অফিসার ২০১৭ সালের ৯ সেপ্টেম্বর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগটি শিশু নির্যাতনের হওয়ায় মামলাটি নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে প্রেরণ করা হয়। আদালতের বিজ্ঞ বিচারক ১০জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রবিউলকে এ কারাদণ্ডাদেশ দেন।

মানবাধিকার কর্মী জাহাঙ্গীর সেলিম রায় শুনে আবেগাপ্লুত কন্ঠে জানান, শিশুটি ১২ বছর বয়সী। ধর্ষণের শিকার হয়ে এই শিশুটি নিজেই এখন সন্তানের মা। গর্ভবতী হবার খবর শোনে নিজ ঘরে বন্দি অবস্থা থেকে তাকে উদ্ধার করা হয়েছিলো । চিকিৎসা ও আইন সহায়তা প্রদানের পাশাপাশি এই দানব ধর্ষককে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামি আমরা । চোখে মুখে কালো কাপড় বেধে মানববন্ধন করি। ধর্ষিতা শিশু, তার সন্তান এবং ধর্ষণের শিকার শিশুরটির মা ঢাকায় নিরাপদ আশ্রয়ে আছে। মামলার জন্য তারা গোপনে ঢাকা থেকে এসে জামালপুরে রাত্রিযাপন করতো । আদালতের কাজ শেষ করে আবার ঢাকায় যেতো । আজ ঐ পাষণ্ডের যাবৎজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আমরা ফাঁসি চেয়েছিলাম । আইন যতটুকু পারমিট করেছে তাতেই আমরা খুশি।

মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. আকরাম হোসেন জানান, মামলার এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং এ রায়ের মাধ্যমে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। ভবিষ্যৎে কেউই আর ধর্ষণের মতো খারাপ কাজে লিপ্ত হবেন না বলে আশা করেন তিনি।pbd.news

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ