চাঁপাইনবাবগঞ্জে চাকরি দেওয়ার নামে ৪৬ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারক উধাও

0

নিজস্ব প্রতিবেদক : চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিবন্ধনহীন একটি কলেজে বিভিন্ন পদে চাকরি দেওয়ার নামে ২০ জনের কাছ থেকে ৪৫ লক্ষ ৯৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়েছে এক প্রতারক। প্রতারক সফিউর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের ধসনাপাড়া গ্রামের তাবারক হোসেনের ছেলে। অভিযুক্ত প্রতারক ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টে তাদেরই পুলিশের ভয় দেখাচ্ছেন ।

এ ঘটনায় সহায় সম্বল হারনো স্বর্বশান্ত ভুক্তভোগীরা প্রতারকের সন্ধানে দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। প্রতারণার শিকার চাকরি প্রত্যাশী ভুক্তভোগীদের সাক্ষরিত একাটি লিখিত অভিযোগ সিএন ক্রাইম নিউজ প্রতিবেদকের কাছে পাঠিয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্র জানা যায়, প্রতারক সফিউর রহমান তার নিজ নামে ভাড়া ভবনে কলেজর সাইন বোর্ড টাঙ্গিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পাতে। সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের দশরশিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলামকে অধ্যাক্ষ করার প্রলোভন দেখিয়ে কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন । চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শেখ হাসিনা সেতুর দক্ষিণে একটি ভবন ভাড়া নিয়ে “সফিউর রহমান আইডিয়াল কলেজ” নামে একটি সাইন বোর্ড টাঙ্গান।
কথিত এই কলেজে চাকরি দেওয়ার নামে বিশ জনের কাছে বিভিন্ন অংকে সর্বমোট ৪৬ লক্ষ টাকা নিয়ে পালিয়েছেন। নিবন্ধনহীন এই কলেজে চাকরি পাওয়ার আশায় – মনিরুল ইসলাম (অধ্যক্ষ) ৭ লক্ষ টাকা ,রায়হান (ইতিহাস) ৩ লক্ষ ৮৫ হাজার, নাসিরুদ্দিন (লাইব্রেরী) ১ লক্ষ ৭০ হাজার , আজিজুর (গনিত) ১ লক্ষ , গোলাম মরতুজা (আরবি) ৩ লক্ষ ৬০ হাজার, হালিমা (ইতিহাস) ১ লক্ষ ৮৫ হাজার, তাজুদ্দিন- (শরীর চর্চা) ২ লক্ষ ৩৫ হাজার, রোকসানা (ব্যবস্থাপনা) ২ লক্ষ ,সারমিন (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) ১ লক্ষ , মুঞ্জুয়ারা (সমাজ বিজ্ঞান) ৪ লক্ষ, রুমিয়ারা (সমাজ বিজ্ঞান) ৯০ হাজার, সারমিন (কম্পিউটার) ২ লক্ষ, মুসফিকুর (বাংলা) ১ লক্ষ ,নিখিল (ব্যবহারিক) ১ লক্ষ ,সাহিন আক্তার (আয়া) ১ লক্ষ ৫০ হাজার ,মমিন (পিওন) ৩ লক্ষ ,সালেহা (অফিস সহকারি) ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ,তহিদুল (অফিস সহকারি) ১ লক্ষ, আক্তারুল (অফিস সহকারি) ৭০ হাজার ও নাসির উদ্দিনকে (ক্যাশিয়ার) পদে চাকরি দেওয়ার নামে ৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন সফিউর রহমান।

ভুক্তভোগীরা জানিয়েছন, কলেজের নামে জমি কেনার কথা বলে কৌশলে এ টাকাগুলো হাতিয়ে নিয়েছেন । জমি কেনার কথা বলে টাকা নিয়ে বিভিন্ন রকম ছলনা শুরু করেন তিনি।

লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনুসন্ধান করে জানা গেছে, এই সফিউর রহমান একজন পেশাদার প্রতারক । তিনি দীর্ঘ ২০ বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্নসত ও একাধিক বিয়ে কারারর মত অপরাধমুলক কাজ করে আসছে। বিভিন্ন এমপি-মন্ত্রীর সাথে নিজের ছবি দেখিয়ে প্রতারণা করে চলছেন তিনি। 

। চাকরি দেওয়ার নামে সহজ সরল মানুষের সাথে প্রতারণা তার দীর্ঘ দিনের ব্যবসা। এসয় একই কলেজের একাদশ প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী নার্গিস খাতুন কে বিয়ে করেন সফিউর রহমান । নার্গিস খাতুন ইসলামপুর ইউনিয়নের বাররশিয়া গ্রামের নৈয়মুদ্দিনের মেয়ে ।

এছাড়াও তিনি যখন যেখানে যান সে এলাকায় বিয়া করেন। এভাবে তিনি ৮-৯ টি বিয়ে করেছেন । এই সফিউর তার নিজের নাম গোপন করে তার ছোট ভাই আমিরুলের নামে পাসপোর্ট করে ২০০৬ সালে বিভিন্ন এলাকার মানুষের টাকা নিয়ে সাইপ্রাসে পালিয়ে যান। এরপর ২০১৩ সালে দেশে ফিরে ঢাকায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন পর চাঁপাইনবাবগঞ্জে ফিরে কলেজ প্রতিষ্ঠার নামে নতুন করে প্রতারনার ফাঁদ পাতেন। অধ্যক্ষ মুনিরুল ইসলামকে ব্যবহার করে টাকা নিয়েছেন সফিউর রহমান । 

প্রতারণার শিকার রাইয়ান আলি জানান, তাকে ইতিহাস বিষয়ে শিক্ষক হিসেবে নেওয়ার কথা বলে ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা নিয়েছেন । এরপর থেকেই আর ফোন রিসিভ করছেননা সফিউর রহমান । 

ক্যাশিয়ার পদে চাকরি প্রত্যাশী ভুক্তভোগী নাসির উদ্দীন জানান, সফিউর রহমান আইডিয়াল কলেজ নামে এ মহাবিদ্যালয়টি সরকারি নিয়মানুযায়ী নিবন্ধন করা হয়েছে জানিয়ে বিভিন্ন জনকে চাকরি দেওয়ার প্রলভোন দেখায় প্রতারক। বেকারত্বের ভারমুক্ত হওয়ার জন্য সরল বিশ্বাসে তাকে আমি ৩ লক্ষ টাকা দেই । টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টো আমাকেই পুলিশের ভয় দেখিয়ে চুপচাপ থাকতে বলেন।

অভিযুক্ত প্রতারক সফিউর রহমান জানান, যারা টাকা দিয়েছে তারা জেনে শুনেই দিয়েছে। কলেজের অবকাঠামো নির্মাণের জন্য এসব টাকা নেওয়া হয়েছে । আমি নয়, টাকাগুলো প্রিন্সিপাল নিয়েছে । অন্য প্রশ্নের জবাবে, তিনি প্রতিবেদকের সাথে দেখা করে কথা বলার প্রস্তাব দেন ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ