গুণে ভরা তরমুজ

0

প্রকৃতিতে গ্রীষ্ম আসা মানেই ঘাম, গরম আর ধুলোবালি ভোগান্তি। ঘরে বাইরে সারাদিনের পরিশ্রমে নাভিশ্বাস ওঠে একদম। এই অবস্থায় পানি এবং পানীয় খাবার ছাড়া স্বাভাবিক থাকার কথা ভাবাই যায়না। গরমে রেহাই পেতে খুব ঠান্ডা পানীয় পান কখনোই ঠিক না। এতে নতুন করে রোগভোগের আশঙ্কা বাড়বে আরও। তাই প্রাকৃতিক রসালো পানীয় আমাদের মূল ভরসা। রসালো ফলের মধ্যে তরমুজের কথা নিয়েই থাকছে আজকের আলোচনা-

তরমুজের উপাদান

তরমুজ গ্রীষ্মকালীর হলেও প্রযুক্তির উন্নয়নে এখন সারাবছর এই ফল পাওয়া। তরমুজের মধ্যে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি২, সি, বি৬ এবং ই। আরও আছে পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, সোডিয়াম, বিটা ক্যারোটিনের মতো মিনারেল। কিন্তু এতে ক্যালোরি থাকে না বললেই চলে। তাই বেশি করে খেলেও ওজন বাড়ার ভয় থাকেনা।

কি কি গুণাগুণ আছে তরমুজে

এর গুণাগুণের কোনো শেষ নেই। এতে ক্ষতিকর উপাদান এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কোনো ভয় থাকে না। গুণগুলো দেখবো একবার-

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

ভিটামিন আর মিনারেলসমৃদ্ধ এই ফলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। তাই পুরো গরমে নিয়মিত তরমুজ খাওয়া মানেই রোগ-বালাই থেকে দুরে থাকা যায়।

হৃৎপিণ্ড ভালো রাখে

তরমুজ হৃৎপিণ্ডর জন্য অনেক ভালো। ঠাণ্ডা হওয়ায় এটি ধমনীকে শীতল ও নমনীয় রাখে। পানির ভাগ বেশি থাকায় স্বাভাবিক রক্ত সঞ্চালনে সাহায্য করে। তরমুজ খাওয়ার চেষ্টা করুন, এতে করে হুট করে হৃদরোগে আক্রান্তের ভয় কম থাকে। স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাকের ভয় কমবে।

কিডনির সুরক্ষিত রাখে

ডাবের পানির মতো তরমুজের রসে আছে কিডনি রোগের দাওয়াই। তরমুজে থাকা ফ্লুইড কিডনি ও মুত্রথলির মধ্যে জমে থাকা দুষিত পদার্থ পরিষ্কার করে। তাই কিডনিতে পাথর হলে চিকিৎসকেরা অনেক সময়েই তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন।

চুলের সতেজতায়

তরমুজে থাকা বিটা ক্যারোটিন চুল সতেজ রাখে। চোখের দৃষ্টি শক্তি উন্নত করে। বিশেষ করে চোখে ভাইরাসজনিত সংক্রমণ হতে দেয় না।

ত্বকের জন্যেও ভালো

তরমুজের ভিটামিন সি, লাইকোপিন ত্বকের জন্য খুব ভালো। এটি ত্বকে বলিরেখা পড়তে দেয় না, চামড়ার অসুখ থেকেও দুরে রাখে। তরমুজের পানি ত্বকের শুষ্কতা কমিয়ে আর্দ্রতা ধরে রাখে। এতে ত্বক নরম থাকে। তরমুজের রস রোদে পোড়া ত্বকের কালচে ভাব কাটায়, লোমকূপের ছিদ্র ছোট করে ত্বক টানটান রাখে।

শরীরে শক্তি আনে

তরমুজে থাকা ভিটামিন আর মিনারেলস শরীরে দ্রুত শক্তি ফেরাতে সাহায্য করে। তাই বাড়িতে সবার জন্য তরমুজ খাওয়ার অভ্যাস রাখুন। গরমে সবার তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি অসুখ পরবর্তী খাদ্যাভাসে তরমুজ ব্যাপক কার্যকরী।

পানিস্বল্পতা পূরণ করে

গরমে পরিশ্রমে ঘেমে শরীর থেকে পানি, জরুরী খনিজ বেরিয়ে যায়। ফলে শরীরে পানির অভাব দেখা যায়। এই সমস্যা মেটাতে চাইলে ফলের রস ‍খুবই প্রয়োজন। ফলের রস হিসেবে তরমুজ অনেক সুস্বাদু এবং সহজলভ্য। তরমুজের রস আবার সানস্ট্রোকও কমায়।

বার্ধক্যজনিত সমস্যার সমাধান

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শরীরে সোডিয়াম, পটাশিয়ামের অভাব শুরু হয়। এতে নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত সমস্যা দেখা দেয়। খনিজের অভাবে সেরিব্রাল স্ট্রোক পর্যন্ত হতে পারে। ওষুধ ছাড়া এই সমস্যা মেটাতে তরমুজ ভালো পথ্য হতে পারে। সেই সঙ্গে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে তরমুজ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ