প্লাস্টিক থেকে বাঁচাতে হবে বিশ্বকে

0

প্লাস্টিক পদার্থের ব্যবহার পরিবেশ দূষণের মাত্রাকে বাড়িয়ে দিচ্ছে। অপচনশীল এ পদার্থ পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টি করছে। ফলে মাটি, পানি দূষিত হয়ে যাচ্ছে। এতে খাল-বিল, নদী-নালা থেকে শুরু করে মহাসমুদ্র পর্যন্ত প্লাস্টিক পদার্থ ও প্লাস্টিক কণা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। উন্নত বিশ্বের প্রসিদ্ধ কোম্পানির বোতলজাত পানিতেও বিষাক্ত প্লাস্টিক কণার উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পলিথিন ও প্লাস্টিক বর্জ্যের কারণে বিশ্বের সব স্তরের জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন। অণুজীব থেকে শুরু করে তিমি মাছ পর্যন্ত মারাত্মক হুমকিতে। ফুড চেইনের মাধ্যমে অন্যান্য প্রাণিসহ আমরাও মারাত্মক হুমকিতে রয়েছি।

আজ ২২ এপ্রিল বিশ্ব ধরিত্রী দিবস, প্রকৃতি ও পরিবেশ সম্পর্কে বিশ্বজুড়ে সচেতনতা ও ভালোবাসা সৃষ্টির একটি দিন। ১৯৭০ সাল থেকে গত ৪৮ বছর ধরে ধরিত্রী দিবস পালিত হয়ে আসছে। এবারের ধরিত্রী দিবসে প্লাস্টিক দূষণের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে এই দূষণ বন্ধের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সম্প্রতি এক সেমিনারে পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) সাধারণ সম্পাদক এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক প্রকৌশলী মো. আবদুস সোবহান বলেন, প্লাস্টিক দূষণ আমাদের নদী, সাগর, মহাসাগর ও ভূমিকে বিষাক্ত করছে, সামুদ্রিক জীবন ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং জনস্বাস্থ্যে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। বাংলাদেশে সরকার ২০০২ সালে আইন করে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধ করে; কিন্তু এই আইনের কোনো বাস্তবায়ন নেই। ফলে রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় এক হাজার দুইশ কারখানায় নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি হচ্ছে। এগুলোর বেশির ভাগই পুরান ঢাকা কেন্দ্রিক।

ঢাকা শহরে একটি পরিবার প্রতিদিন গড়ে চারটি পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার করে। সে হিসেবে শুধু ঢাকা শহরে প্রতিদিন দুই কোটির বেশি পলিথিন ব্যাগ একবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়। এগুলো দ্বারা ড্রেন, নালা-নর্দমা, খাল, ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার প্রকোপ বাড়িয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ৩৫ লাখের বেশি টিস্যু ব্যাগ উত্পাদন ও বাজারজাত হচ্ছে। এসব ব্যাগ পলিথিনের হলেও কাপড়ের ব্যাগ হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
পবা সূত্রে জানা গেছে, এবছর বিশ্বে ৫ ট্রিলিয়ন প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার হবে। যা প্রতি সেকেন্ডে ১ লাখ ৬০ হাজার। এগুলো একটির পর আরেকটি রাখা হলে তা প্রতি ঘণ্টায় পৃথিবী সাত বার ঘুরবে এবং ফ্রান্সের দ্বিগুণ এলাকা আচ্ছাদন করবে। এর দশ শতাংশেরও কম পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হয়। এগুলোর বেশির ভাগই পলিইথিলিন যা ক্ষয় হতে কয়েকশ বছর লাগে। প্রতি টন প্লাস্টিক ব্যাগ পুনর্ব্যবহারযোগ্য করা হলে তা ১১ ব্যারেল তেল সমতুল্য শক্তি সংরক্ষণ করে। তারা বলেন, প্রতি বছর ৮ মিলিয়ন মেট্রিক টন প্লাস্টিক সমুদ্রে জমা হয়। সমুদ্রে প্লাস্টিক অতি ক্ষুদ্র টুকরায় ভেঙে যায়। এসব টুকরা মাছ খায়; কিন্তু হজম হয় না। মাছের পেটে জমা হতে থাকে এবং খাদ্য শৃঙ্খলে প্রবেশ করে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ