মন্ত্রনালয়ের আদেশ উপেক্ষিত মচিমহায় ২৩ মাসে গরীবের ১৫ কোটি টাকা হরিলুট

0

মোঃ খায়রুল আলম রফিকঃ
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (মচিমহা)র, দুই পরাক্রমশালী ব্যক্তির ঘোরতর দ্বন্দ্বে এখন ফাঁস হয়ে যাচ্ছে মচিমহার চুরিচামারী আর সাধারন গ্রামীণ জনপদের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের টাকা। মানুষ আল্লাহর পরে হাসপাতালকে বিশ্বাস করে আর বিশ্বাস করে হাসপাতালের ডাক্তার এবং প্রধান ব্যক্তিটিকে যিনি পরিচালক হিসাবে আবির্ভূত হয়ে তাদের সেবাদানে ব্রতী হয়। কিন্তু অবিশ্বাস্য হলেও সত্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিঃ জেঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের এক নেতার সাথে ভাব বিনিময় করে ২০১৬ সাল পর্যন্ত একনাগারে গরীবের হাসপাতাল বলে বিবেচিত মচিমহাকে চেটেপুটে খেয়ে মচিমহাকে অন্ত:সার শূন্য করে তুলেছে।

সাধারন মানুষের শরীরে ঢেলে দিয়েছে অর্ন্তজ্বালা। আওয়ামী লীগের সেই নেতার নাম এ পর্বে অনুল্লেখিতই থাকলো কিন্তু গত ২৩ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিলেন তার জবাব কে দেবে আর কেই বা এর জবাব খুঁজবে? প্রকাশ : গত ৮ জুলাই ২০১৬ মচিমহা পরিচালক ব্রিঃ জেঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ ২৫৮৫৬ স্মারকে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে উদ্বুদ্ধ করতে চেষ্টা করেন যে, মচিমহাতে সার্ভিসচার্জ প্রদানের এখতিয়ার থাকলে রোগীদের নিশ্চিত হবে এবং এ লক্ষে মচিমহা পরিচালক একটি সার্ভিসচার্ট স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে অবহিত করেন, যেখানে উল্লেখ রয়েছে সিটিস্ক্যান বাবদ: ২০০ টাকা, এম আর আই বাবদ: ৫০০ টাকা, আল্ট্রা ৫৫ টাকা, আল্ট্রা (সিঙ্গেল) ৫০ টাকা করে প্রত্যেক রোগির কাছ থেকে নিতে হবে। মচিমহা পরিচালক স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে বোঝাতে চেষ্টা করেন, এই টাকা প্রদান করলে একদিকে মচিমহার ফান্ড বৃদ্ধি পাবে, সরকার রাজস্ব পাবে এবং রোগীর সেবাও নিশ্চিত হবে। মচিমহা পরিচালকের এই আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৪ আগষ্ট ২০১৬ স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় মমেকহা ২০১৬/২৫২৯২ প্রজ্ঞাপনে আবেদন জারী করেন হাসপাতালের প্রধানগন সার্ভিসচার্জ বাবদ কোন অবস্থাতেই ১০% এর বেশি নিতে পারবে না এবং ১০% এর অর্থ রেজিষ্ট্রারে লিপিবদ্ধ থাকবে এবং অফিস সহকারী আব্দুস সামাদ সার্ভিসচার্জের টাকা দায়িত্বশীল ভাবে জমা দিবেন।

এদিকে গত ১৮ ডিসেম্বর ২০১৬ সনে মচিমহার প্রধানগনদের নিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিরবার পরিকল্পনা মন্ত্রনালয়ের সচিব এবং উর্ধতন কর্তৃপক্ষের এক সভায় মচিমহার পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদের সার্ভিসচার্জ সংক্রান্ত চিঠি এবং সার্ভিস চার্টে বর্নিত টাকার অংক দেখে স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয় নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করে তাৎক্ষনিক জানিয়ে দেন, হাসপাতালের সার্ভিসচার্জ যৌক্তিক এবং সঙ্গত কারনেই স্থগিত করা হলো এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ বলবৎ থাকবে। সভার সবাই একবাক্যে মন্ত্রনালয়ের এই নির্দেশকে মেনে নিলেন। পরবর্তিতে মচিমহার পরিচালক ব্রিঃ জেঃ নাসির উদ্দিন আহমেদ মন্ত্রনালয়ের এই স্থগিতাদেশ সংক্রান্ত চিঠি মচিমহার সকল প্রধানগনকে অবহিত করেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখ ও পরিতাপের বিষয়,মচিমহা পরিচালক নাসির উদ্দিন আহমেদ কোন সময়েই মন্ত্রনালয়ের এই সরকারী বিধান এবং নির্দেশনামাকে মেনে চলেননি বরং মন্ত্রনালয়, কর্তৃক চিঠি ও আদেশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে নিজেই একটি মনগড়া সার্ভিস চার্টে তৈরী করেন এবং এই সার্ভিস চার্টের বিশার অংকের টাকা সরকারী কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজেই আত্বসাতের পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছেন অদ্যাবিধি।

মচিমহা পরিচালক কর্তৃক মনগড়া চার্টটি দেখলে যে কেউই মচিমহা সর্ম্পকে হিমসিম খেয়ে যাবেন। সার্ভিস চার্টটি এরকম: আল্টাসোনগ্রাম-৫ হাজার টাকা প্যাথলজী -১৫ হাজার টাকা, প্লেনবেড-১০ হাজার টাকা কেবিন ৫ হাজার টাকা, হার্ট প্যাথলজী-৫ হাজার টাকা, এম আর আই – ৫ হাজার টাকা, সিটিস্ক্যান- ৬ হাজার টাকা,একè্ররে – ২৫ হাজার টাকা। দর্শনাথীদের প্রবেশ ফি ২০০শ টাকা (প্রায় ৫শ ব্যক্তির কাছে) প্রতিদিন গড়ে ২শ থেকে ৫শ টাকা । যা প্রতিদিন গড়ে ১ লক্ষ ৭৬ হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে আউটসোর্সিং থেকে মচিমহা পরিচালক তাদের বেতন থেকে ঠিকাদারের মাধ্যমে ৭৫ জনের গার্ডের বেতন প্রতিজনের ১৫ হাজার টাকা নির্ধারিত থাকলেও তাদেরকে দেয়া হচ্ছে সাড়ে ৬ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা।

জানাগেছে, গত ২৩ মাসে শুধুমাত্র সার্ভিসচার্জ ও আউটসোর্সিং থেকেই মচিমহা পরিচালকসহ আরও কয়েকজন হাতিয়ে নিয়েছেন প্রায় ১৫ কোটি ১৪ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা। একটি সুত্র জানায়, মচিমহার এই লুটপাটের ঘটনা প্রকাশ হয়ে পরতো না যদি টাকার ভাগাভাগি নিয়ে মচিমহার পরিচালক ও সেই যুবলীগ নেতা যুগপৎ দ্বন্দ্বে প্রবৃত্ত না হতেন। কথায় বলে আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। দুই জনের এই দ্বন্দ্বের কারনেই মচিমহার এই ভয়াবহ লুটপাটের কাহিনী জনসন্মুখে প্রকাশিত হয়ে পরেছে। জানাগেছে, মচিমহার পরিচালক একটি গ্রুপ দাঁড় করিয়েছেন, অন্যদিকে যুবলীগ নেতা অন্যগ্রুপ দাঁড় করিয়েছেন। ফলে দুইজনের টাকা ভাগাভাগির তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে।

একটি ঘনিষ্ট সুত্র জানিয়েছে, যুবলীগ নেতার ভাই আওয়ামীলীগ নেতা বহুবার মচিমহা পরিচালককে সতর্ক করে দিয়েছিলেন সেই সাথে তার ভাইকেও এইসব কাজে না জড়াতে সাবধান করে দিয়েছিলেন কিন্তু টাকার নেশায় পাগল হয়ে যাওয়া কোন পক্ষেই তার কথা শুনেনি। ফলে মচিমহার আজকের দৈনচিত্র ময়মনসিংহবাসীর মুখে মুখে ফিরছে। জানাগেছে, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদকের কাছেও মচিমহার দুর্নীতি সংক্রান্ত বহু অভিযোগ পত্র ইতিমধ্যে জমা পড়ে আছে। ময়মনসিংহবাসী আশা করছেন, দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক এবার মাঠে নামবে। উল্লেখ্য যে, মচিমহা পরিচালকের যে সার্ভিসচার্ট এবং আউটসোর্সিং চার্ট প্রকাশ করা হয়েছে দুদক সেই সুত্র ধরেই মাঠে নামতে পারেন ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ