শরীর সম্পর্কে কতটুকু জানেন?

0

আমাদের শরীর প্রকৃতির হাতে তৈরি এবং প্রকৃতির খেয়াল খুশিতেই চলে। মানুষ নিজে হয়তো তাঁর শরীরকে অনেকটা নিয়ন্ত্রণ করে। কিন্তু শরীরের এমন কিছু ছোটখাটো রহস্য আছে যার কারণ আমরা আজও জানতে পারিনি। আজ জানবো এমন কিছু রহস্য সম্পর্কে-

আমাদের আঙ্গুলের ছাপ থাকে কেন, ভিন্ন ভিন্নই বা হয় কেন?

আমরা সবাই জানি যে আমাদের আঙ্গুলের ছাপ কারো সঙ্গেই মেলে না, এমনকি আইডেনটিক্যাল টুইনদের ক্ষেত্রেও না। কিন্তু কেন হয় এমনটা? বহু বছর আগে গবেষণায় জানা গেছে, কোনো কিছুকে আকড়ে ধরতে এরকম হাতের ছাপ হয়। কিন্তু পরে দেখা যায় এটা সত্যি নয়। এরকম হাতের ছাপের কারণেই কোনো বস্তুকে পুরোপুরি স্পর্শ দিয়ে ধরা যায়না। তবে আসল কারণ আজও অজানা বিজ্ঞানীদের।

আমাদের কেন অ্যাপেনডিক্স থাকে

অ্যাপেনডিক্স এর কারণে অনেককে ব্যথা ভোগ করতে হয়। এতে ত্রুটি দেখা দিলে অর্থাৎ ব্যথা হলে দেহ থেকে অপসারণ করে ফেলা হয়। কিন্তু শরীরে এরপর কোনো খারাপ প্রভাব পড়েনা। বরং এটি এর কাজের চেয়ে দুর্ভোগ ঘটায় বেশি। চার্লস ডারউইন প্রথম অনুমান করেন যে, এই বিলুপ্তপ্রায় অঙ্গটি    বিবর্তনীয় পূর্বপুরুষদের ক্ষেত্রে পাতা হজম হওয়ার কাজে ব্যবহার হত। যদিও অল্প কিছু স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে এই অঙ্গটি থাকে। যাই হোক, এই অঙ্গটি ইমিউন  সিস্টেমের ওপর কিছু ভূমিকা রাখে, বিশেষ করে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ‘নিরাপদ ঘর’ হিসেবেই কাজ করে। অর্থাৎ এটি নিজে তেমন কোন কাজ না করলেও ‘সিকোঅ্যাপেন্ডিকুলার কমপ্লেক্স’ এর একটি অংশ হিসেবে কাজ করে।

আমাদের একটি হাতেই বেশি জোর কেন

আমরা দুই হাতেই সমান কাজ করতে পারিনা। এক হাতকে প্রাধান্য দিয়েই আমরা সব কাজ করি। এ জন্যই বিশেষ করে মানুষকে ‘ডানহাতি’ বা ‘বাহাতি’ বলে আলাদা করা হয়। এটা ভাবতে বেশ অবাক লাগে যে একই রকম দুটো হাত, কিন্তু দুটো দিয়েই সমান কাজ করা যায়না। বিবর্তনের শুরু থেকেই হয়তো এটা হয়ে আসছে। শরীরের জন্য অন্যতম একটা বড় রহস্য বলে মনে করা হয়। অবশ্য কিছু মানুষ আছে যারা দুইহাতেই সমানভাবে কাজ করতে পারে।

আমাদের হাই ওঠে কেন

জন্ম থেকেই আমাদের হাই ওঠে, কারণে হোক বা অকারণে। এটার সঠিক কারণ বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো অজানা। যখন আমরা অবসাদগ্রস্ত বা ক্লান্ত থাকি, তখন আমাদের শরীরে যথেষ্ট অক্সিজেন পৌঁছে না। কারণ আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের গতি তখন কম থাকে। এসময় শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হাই তোল‍া। এর মাধ্যমে রক্তে প্রচুর অক্সিজেন সরবরাহ হয় ও কার্বনডাইঅক্সাইড অপসারণ হয়। তবে এর মূল কারণ এখনো রহস্যাবৃত।

রক্তের বিভিন্ন ধরন

অ্যাপেনডিক্সের মতো শরীরে রক্তের ধরনের ভিন্নতাও একটা রহস্য। রক্তের এক এক ধরন শরীরের এক একটি ইনফেকশন প্রতিরোধে সহায়তা করে। বহু বছর আগে থেকেই ধারণা প্রচলিত হয়ে আসছে যে মানুষের উৎপত্তি বানর প্রজাতির থেকে। সে যাই হোক, প্রশ্ন হলো কেন আলাদা আলাদা রক্তের থরন বা গ্রুপ নিয়ে মানুষ জন্মায়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়, এর ধরনের ওপর নির্ভর করেই মানুষের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য পরিলক্ষিত হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ