‘তারেক ফিরবেন’ সেদিন আ’লীগের অস্তিত্ব থাকবে না

0

২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য প্যারোলে মুক্তি নিয়ে যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। চিকিৎসা শেষে তার ফিরে আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি ফেরেননি। আর এর মধ্যে সাড়ে চার বছর আগে ২০১৩ সালের ডিসেম্বরে তার পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। আর ২০১৪ সালের ২ জুন সেটি তিনি যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমাও দেন।

এরপর থেকে তারেক রহমান কী হিসাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, এ নিয়ে ধোঁয়াশা ছিল শুরু থেকেই। কিন্তু বিএনপি এ নিয়ে কিছু বলেনি এতদিন। তবে তারেক রহমান বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফিরিয়ে দিয়েছেন, গত ২১ এপ্রিল পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এই তথ্য জানানোর পর তারেক কীভাবে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন, এই বিষয়টি সামনে এসেছে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) দলীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় তিনি তারেক রহমানের ব্রিটেনে রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকার বিষয়টি স্বীকার করেন।

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই জানি যে তারেক রহমান সাহেব বিদেশে চিকিৎসার জন্য গেছেন। তারপর এখানে দেশে বর্তমান সরকার তার বিরুদ্ধে যেভাবে মামলা-মোকদ্দমা এবং বিনা বিচারে সাজা দিচ্ছে সে কারণে তিনি অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চেয়েছেন এবং তাকে সেটা দেয়া হয়েছে। অ্যাসাইলামের সময় নিয়ম অনুযায়ী পাসপোর্ট জমা দিতে হয়।’

‘কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক আশ্রয় চাইলে সাধারণত পাসপোর্টের মালিককে সেটি পরে ফেরত দেয়া হয়।’

এদিকে আজ বিকালে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান বলেছেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বীর বেশে দেশে ফিরবেন। আর সেদিন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সব বড় বড় নেতারা তাদের দেশকে পরিবর্তন করার জন্য নিজেদের দেশে থাকতে পারে নাই, বিদেশে থেকে তাদের আন্দোলন পরিচালনা করেছে এবং সফল হয়েছে। তেমনি আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশের বাইরে থেকে এই আন্দোলন সফল করবেন দেশেও ফিরবেন। আর তিনি যেদিন ফিরে আসবেন সেদিন আওয়ামী লীগের অস্তিত্ব থাকবে না।’

মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক প্রতিবাদ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে এ প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে জিয়া মঞ্চ-ঢাকা মহানগর দক্ষিণ।

তিনি আরও বলেন, ‘তারেক রহমানকে নিয়ে গতকাল থেকে ক্ষমতাসীনরা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তারা বলছে, ‘তিনি নাকি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব বাদ দিয়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্ব নিয়েছেন। একজন প্রতিমন্ত্রী এ ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে তাকে অসম্মান করেছে।’

‘দেশের মানুষ আজ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য আগ্রহী তবে সবকিছুই কোন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে হতে হয়। আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে, আমরা তাদেরকে বারবার বলেছি তারপরও তারা আমাদেরকে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি করতে দেয় না। তারা যদি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে তাহলে দেশে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তার জন্য দায়ী থাকবে আওয়ামী লীগ নিজেই’ যোগ করেন দলের এ সিনিয়র নেতা।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন- বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সালাম, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক খলিলুর রহমান বাবু, জিনাফের সভাপতি লায়ন মিয়া মোহাম্মাদ আনোয়ার, দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ। সুত্রঃ বিডি২৪লাইভ

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ