খাসির মাংস নেই,মুরগিতে আলু আর ঝোল

0

স্টাফ রিপোর্টার :
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের জন্য বরাদ্দ নেই খাসির মাংস । রোগীদের মুরগির মাংসের নামে সরবরাহ করা হয় আলু আর ঝোল । হাসপাতালের প্রবেশ দ্বারে দৃষ্টিনন্দন ফুলের বাগান সৃষ্টি করে চিকিৎসার নামে দুর্ভোগ আর রোগীদের স্বাস্থ্য সেবা থেকে বঞ্চিত করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে । আর এর পেছনে একজনকেই দায়ি করা হয়েছে । তিনি হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমেদ। এই পরিচালক এতটাই সুচতুর যে, তিনি বাইরে দেখান এক আর ভেতরে পোষেন আরেক । হাসপাতাল থেকে সার্ভিস চার্জের নামে কোটি কোটি টাকা আদায় করেছেন তিনি । এমন অভিযোগ গেছে মন্ত্রণালয় পর্যন্তও ।

এব্যাপারে মন্ত্রণালয়ে সভাও হয়েছে । ২০১৬ সালের ১৮ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সচিব পরিচালককে চিঠি দিয়েছেন । চিঠিতে বলা হয়, রোগী এবং তাদের আতœীয় -স্বজনের নিকট থেকে সার্ভিস চার্জ এবং কোন ধরনের অতিরিক্ত টাকা আদায় করা যাবে না । উপেক্ষিত হয়েছে সচিবের সেই চিঠি । সচিবের নির্দেশ বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সার্ভিস চার্জ আর অতিরিক্ত অর্থ আদায় করে চলেছেন পরিচালক ।

হাসপাতালে এক্সরে, সিটিস্ক্যান, এমআরআই, আলট্রাসনোগ্রাম করেও অর্থ আদায় করা হয় সার্ভেস চার্জের নামে । হাসপাতালে দর্শনার্থী প্রবেশ বাবদ প্রতিটি রোগীর স্বজনদের নিকট থেকে আদায় করেন ২০০ টাকা করে । ২০১৭ সাল থেকে এই অর্থ আদায় করে সংশ্লিষ্টদের কাছে পরিচালক ভিলেন হিসাবে নিজেকে উপস্থাপন করলেও ফেসবুকে চিত্র ভিন্ন । সামাজিক যোগাযোগের ফেসবুকে নিজের আ্যাকাউন্টের দেয়ালে স্টেটাস দেন, দর্শনার্থীদের এই টাকা তিনি ফেরৎ দেন । যদিও টাকা ফেরৎ পেয়েছেন, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ।

অভিযোগ রয়েছে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিয়ন্ত্রণাধীন রক্ত সরবরাহ কেন্দ্র ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগ । এখান থেকে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল নাসির উদ্দিন আহমদ ৮ থেকে ১০ পার্সেন্ট কমিশন আদায় করেছেন ।এই কমিশনের টাকা তিনি স্বাক্ষর করে নিয়েছেন । যেখানে তার সিল ব্যবহার করা হয়েছে ।

২০১৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ৩১ ডিসম্বর পর্যন্ত ১লাখ ১০ হাজার ৯৯৬ টাকা এবং ১ জানুয়ারি ২০১৬ সাল থেকে ১ এপ্রিল ২০১৮ সাল পর্যন্ত ১৫ লাখ টাকা যথাক্রমে ৮ এবং ১০ পার্সেন্ট হিসাবে আদায় করেছেন । ঐবিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডাক্তার শিখা রুদ্রের দাবি ইতিপূর্বে আর কোন পরিচালক এই টাকা পার্সেন্টিজ নেননি । এই বিভাগ থেকেই সার্ভিস চার্জের নামে আদায় করা হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা । যেখানে পরিচালক সাদা কাগজে স্বাক্ষর করে এই টাকা আদায় করেছেন ।

সূত্র জানিয়েছে, বিপুল অংকের এই টাকা পরিচালক মনগড়া নিজ সৃষ্ট উন্নয়ন খাতের নামে ব্যয় দেখিয়ে আতœসাত করেছেন । এখানেই শেষ নয় । পরিচালক ঠিকাদারের যোগসাজশে আউট সোসিংএ নিয়োজিত নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতনের টাকাও আতœসাত করে চলেছেন । হাসপাতালে কর্মরত আউটসোসিং ৭৫ জনের সরকার বরাদ্দকৃত ১৫ হাজার ৫শ টাকার স্থলে তাদের প্রদান করেন মাত্র ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা । এখাত থেকেও প্রতিমাসে ৬ লাখ টাকা এভাবে প্রায় ১ কোটি টাকা আতœসাতের অভিযোগ উঠেছে । মচিমহা লোকদেখানো ফুল বাগান সৃজনের নামেও মোটা অংকের টাকার বিল উত্তোলন করেন পরিচালক ।

হাসপাতালে খাবার সরবরাহসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ঠিকাদার নিয়োগে টেন্ডার আহবান করা হলেও পরিচালক স্বজনপ্রীতি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে । পরিচালকের ভাগ্নে ওমর এখন হাসপাতালের প্রভাবশালী ঠিকাদার । এছাড়াও বিনা টেন্ডারে হাসপাতালের অডিটরিয়াম হলরুম উন্নয়নের নামে ৬৬ লাখ টাকা আতœসাতের অভিযোগ ধামাচাপা দেয়ার আপ্রান চেষ্টা চলছে বলেও জানা গেছে ।

রোগীদের বরাদ্দকৃত ৬০ গ্রাম মাছের স্থলে দেয়া হয় মাত্র ১০ থেকে ২০ গ্রাম মাছ । সেই মাছও পচাঁ- বাঁশি খাবার অনুপযোগী পাংগাস মাছ । হাসপাতালে সরবরাহ করা হয় না খাসির মাংস । ৬০ গ্রাম মুরগির মাংসের স্থলে নাম সর্বস্ব মুরগির মাংসের নামে দেয়া হয় ঝোল আর আলু । রোগীদের রুটি দেয়া হয় বিএসটিআই অনুমোতিবিহীন কোম্পানীর ।

হাসপাতালে জখমী সনদ নিয়েও চলছে বাণিজ্য । পরিচালক এখানেও তার মনগড়া নিয়মে পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ । জখমী সনদ সরবরাহ করা হয় ওয়ার্ডে । সেখানে তার বিস্বস্ত লোক দিয়ে জখমী সনদ তৈরি করে অর্থ বাণিজ্য করেন। মচিমহায় প্রায় ৮শ জখমী সনদ সরবরাহ না করায় পেন্ডিং হয়ে আছে । যে কারনে পুলিশ কর্মকর্তাগণ বিপাকে পড়েছেন ।

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, সময় মত জখমী সনদ পাওয়া যায় না । যে কারণে মূল্যবান সময় নষ্ট হচ্ছে । পরিচালকের বিরুদ্ধে পত্রিকায় দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশ হলেও তা তিনি তোয়াক্তা করেন না । ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করেন । জানা গেছে , হাসপাতাল সংলগ্ন চরপাড়ার বাসিন্দা আনিসুর রহমান পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন । অভিযোগের অনুলিপি দেয়া হয়েছে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়েও ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ