প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে সরকারি জলমহালের মাছ আহরণের অভিযোগ

৫১ লাখ টাকা রাজস্ব বঞ্চিত সরকার

0
ফারুক আহমেদ চৌধুরীঃ
জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অমান্য করে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার সরকারি জলমহালের মাছ আহরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে গোমস্তাপুর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের বিল গুলদহ বদ্ধ জলমহালের মাছ আহরণ করছেন প্রভাবশালীরা।
মুসলিমপুর মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে সম্প্রতি প্রতিদিনই এ জলমহালের মাছ আহরণ করছেন একটি প্রভাবশালী মহল। জলমহালের মাছ লুটপাট করার উদ্দেশ্যে উচ্চ আদালতে রিট করেছে প্রভাবশালীরা।
এ দিকে আদালতে মামলা চলমান থাকায় চলতি বাংলা ১৪২৫ সালে ইজারা হয়নি এ জলমহালটি। ফলে রাজস্ব খাতের প্রায় ৫০লক্ষ টাকা বঞ্চিত হয়েছে সরকার।
জানা যায়, ভোলাহাট উপজেলার মুসলিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি , গোমস্তাপুর উপজেলার বিল গুলদহ বদ্ধ জলমহালটি ১৪২৫ সাল থেকে ইজারা গ্রহণের জন্য বার্ষিক ৫১ লক্ষ টাকা মূল্য প্রস্তাব করে । সর্বোচ্চ দর বিবেচনায় ২৫.৩.২০১৮ তারিখে অনুষ্ঠিত জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি মুসলিমপুর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির পক্ষে সুপারিশ প্রদান করে । যেটি ভূমি মন্ত্রণালয়ে বিবেচনাধীন রয়েছে ।
অন্য দিকে কালিনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি বার্ষিক ১ লক্ষ ১ হাজার টাকা দর প্রস্তাব করে ভূমি মন্ত্রণালয়ে আবেদন করে । তবে জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটি এদের পক্ষে সুপারিশ করেননি । ২৫ মার্চ অনুষ্ঠিত জেলা জলমহাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্ট বিভাগে ৫৫৮০/২০১৮ নম্বর রিট পিটিশন দায়ের করে কালিনগর মৎস্যজীবী সমবায় সমিতি । রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত ১২ এপ্রিল অর্ন্তবর্তী আদেশ প্রদান করেন ।
হাইকোর্ট বিভাগের জারিকৃত অর্ন্তবর্তী আদেশের বিরুদ্ধে মুসলিমপুর মৎসজীবী সমবায় সমিতি আপিল বিভাগে ১৭৮৬/২০১৮ নম্বর সিভিল পিটিশন ফর রিভ টু আপিল দায়ের করে । গত ২৪ এপ্রিল জর্জ-ইন-চেম্বার আদালতে শুনানি শেষে হাইকোর্ট বিভাগ প্রদত্ত ১২ এপ্রিল জারিকৃত অর্ন্তবর্তী আদেশ স্থগিত করেন ।
হাইকোর্ট বিভাগের আদেশ আপিল বিভাগ কর্তৃক স্থগিত হয়েছে মর্মে সরকারি আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদন দাখিল করেন মো. আব্দুল আওয়াল । আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হায়াত মোঃ রহমাতুল্লাহ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মুসলিমপুর মৎস্যজীবি সমবায় সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল আওয়াল বলেন, র‌্যাবের সোর্স পরিচয়দানকারী ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের মোঃ মোগলুর ছেলে নবীউল্ল্যাহ (নবী), হেলাচী গ্রামের মৃত নইমুদ্দীনের ছেলে মোঃ রবিউল আলম (ফিটু), কৃষ্ণপুর গ্রামের মোঃ রাফিসের ছেলে তরিকুল ইসলাম, মৃত গুদর আলীর ছেলে সাদিকুল ও ছোট জামবাড়িয়া গ্রামের ওমর ফারুকের ছেলে মাহফুজ ক্ষমতার দাপটে স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে প্রায় অর্ধকোটি টাকার মাছ আহরণ করেছে। আব্দুল আওয়াল জানান, র‌্যাবের সোর্স পরিচয়ে নবীউল্ল্যাহ আমাকে বিভিন্ন সময় চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দিলে অস্ত্র দিয়ে র‌্যাবের হাতে ধরিয়ে দেয়ার হুমকি প্রদান করে।
অভিযুক্ত নবীউল্ল্যাহ নিজেকে র‌্যাবের সোর্স হিসেবে কাজ করার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি এ জলমহাল থেকে মাছ মারার সাথে জড়িত নয়।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আবু হায়াত মো. রহমতুল্লাহ জানান, আদালতের স্থগিত আদেশ পাওয়ার পর সরকারের স্বার্থ রক্ষায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)সহ স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু বিষয়টি মহামান্য হাইকোর্টে বিচারাধীন রয়েছে সেহেতু রায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। রিটের কারণে সরকার ৫১ লক্ষ টাকা বঞ্চিত হয়েছে সঠিক, তবে মহামান্য আদালতের নির্দেশনার বাইরে আমাদের কিছু করার নেই।
গোমস্তাপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মিন্টু বিশ্বাস জানান, স্থানীয় প্রশাসন কে ম্যানেজ করে মাছ আহরণ করা হচ্ছে অভিযোগটি সঠিক নয়। জলমহালটির আয়তন প্রায় ৫০৩ একর । এতো বড় জলমহাল সব সময় দেখে রাখা সম্ভব নয়। এ জলমহাল নিয়ে এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে দোষারোপ করছে এবং মাছ মারছে। আমরা আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নিয়েছি, সে যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে। যেহেতু এ জলমহালটি এখনো ইজারা হয়নি, সেহেতু এটি সরকারের তথা স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে। আদালতে চলমান মামলা নিস্পত্তি ও ইজারা সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত এটি প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ