চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভেড়ার উন্নতজাত গাড়ল

পালনে আগ্রহ বাড়ছে যুবকদের

0

ডি এম কপোত নবী

দেশকে উন্নয়নের চরম শিখরে উন্নীত করতে যুবসম্প্রদায়কে কর্মমুখী ও সজাগ হয়ে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন বক্তব্য ও নির্দেশনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভেড়ার উন্নত ভারতীয় জাত গাড়ল লালন পালনে ব্যস্ততম দিন কাটাচ্ছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট ইউনিয়নের শিবনারায়নপুর গ্রামের মো. মাসুদ রানাসহ এলাকার কিছু যুবক। দিন দিন গাড়ল পালনে আগ্রহী হচ্ছে শিক্ষিত ও বেকার যুবক। অনেকে হয়েছেন স্বাবলম্বী গাড়ল পালনে।

মাসুদ রানার সাথে কথা হলে তিনি দৈনিক গৌড় বাংলাকে জানান, উন্নতজাতের গাড়ল পালন করে ব্যাপক লাভের আশা করছেন তিনি। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উৎপাদন সৃষ্টি প্রকল্পের আওতায় জেলায় একমাত্র তিনিই প্রথম তৈরি করেছেন মধুমতি এ্যানিমাল নার্চার প্লান। ২০১৭ সালের ১৭ আগস্ট মেহেরপুর জেলার তারানগর এলাকা থেকে ভেড়ার উন্নত প্রজাতি ৪৪টি গাড়ল নিয়ে আসেন তিনি। বর্তমানে প্রায় ৯ মাসের মধ্যে গাড়লের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৭টি। অল্পদিনে গাড়লের সংখ্যা বাড়ার পেছনে রয়েছে কঠোর পরিশ্রম ও উন্নত বাসস্থান। খামারে মাটি থেকে ৩ ফুট উঁচুতে মাচান করে স্বাস্থ্যসম্মত পরিস্কার জায়গাতে রাখা হয় পশুগুলোকে। প্রসব কিংবা মল ত্যাগ করলে সেটা যাতে জমে না থাকে তার জন্যেও করা হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। গর্ভবতী গাড়লগুলোকে আলাদা স্থানে রেখে বিশেষ পরিচর্যার ব্যবস্থাও রয়েছে সেখানে।

শুধু তাই নয়, উন্নত পশু গাড়লগুলোর জন্য তৈরি করা হয়েছে চারুনভূমি। সেখানে প্রতিদিন লতাপাতা খাইয়ে আবারও নির্দিষ্ট খামারে নিয়ে এসে রাখা হয় তাদের। বর্ষার দিনে যাতে তাদের খাবার অসুবিধা না হয় সে ব্যবস্থা রয়েছে খামারটিতে। লাভ জনক ব্যবসার সফলতা দেখে হয়তো অনেকেই ঝুঁকে পড়বেন গাড়ল পালনে এমনিটই মন্তব্য করছেন বিশিষ্টজনরা।
খামারটিতে তেরিকৃত মাচানে পর্যাপ্ত আলো বাতাস যাতায়াতের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং অতিরিক্ত গরমের জন্য রাখা হয়েছে বড় মাপের কয়েকটি ফ্যান।

নরম কোমলমতি ঘন লোমে ভরা শরীরের ছানাগুলোকে কোলে নিয়ে আদর করতে চাই শিশু কিশোররা। খামারে মিঠুন ও বিয়েল নামের দুইজন কর্মচারী দিনরাত পরিচর্যা ও প্রতিপালনের জন্য নিয়োজিত রয়েছেন। গাড়লগুলোর গায়ে ব্যাপক পরিমাণ লোম থাকায় বছরে দুইবার তা কাঁটা হয়। তবে প্রযুক্তিগত দিকদর্শী দুর্বল হওয়ায় কাজে লাগাতে পারছেন না লোমগুলো। গাড়লগুলোর চিকিৎসার দিকে দেওয়া হচ্ছে ব্যাপক গুরুত্ব। কিছুদিন পরপর চিকিৎসকের পরামর্শ ও নির্দেশনা নিয়ে কাজ করে থাকেন কর্মচারীরা।

মাসুদ রানা আরো জানান, আর্থ সামাজিক উন্নয়নের লক্ষে আমি কাজ করে যাচ্ছি। আল্লাহুর রহমতে সফলতা এসেছে এবং আরো আসবে। আমি চাই সকলের সহযোগীতায় গাড়ল পালনে যুবক ভাইদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারলে সকলের জন্যই মঙ্গল হবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ