এক মাসেও খোঁজ মেলেনি সুমনের সমকামিতার ভিডিও ফাঁসকারী নিখোঁজ সোহাগের

0

নুরে ইসলাম মিলন :

রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল কলোনী ৩নং গলি এলাকার মুন্নার ছেলে সোহাগ হোসেন(২২)নামে এক যুবক রহস্যজনকভাবে এক মাস থেকে নিখোঁজ রয়েছেন। তবে যুবকটির মা আকলিমা বেগম তার ছেলে নিখোঁজের পেছনে যুবলীগ নেতা তৌহিদুল হক সুমনকেই দায়ী করেছেন বলেও নিশ্চিত হওয়া গেছে। তার ছেলে নিখোঁজের বিষয়ে তৌহিদুল হক সুমনের বিরুদ্ধে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগও দেন। এ সময় চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ সুমনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগটি না নিয়ে থানায় তাদের মতো করে লিখিত একটি অভিযোগ সাধারণ ডায়েরি হিসেবে নথিভূক্ত করেছে বলে জানান তিনি।

যুবকটির মা আকলিমা বেগম বলেন, রাজশাহী মহানগর যুবলীগের বর্তমান বহিস্কৃত যুবলীগ নেতা সুমনের সমকামিতার ভিডিও আমার ছেলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার পরে আপষের কথা বলে সুমন ডেকে নিয়ে সোহাগকে আটকে রেখেছে।

তিনি বলেন, নিখোঁজের আগে গত ১২ই এপ্রিল দুইটার সময় আমার ছেলে সোহাগ আমাকে বলে যে, “তৌহিদুল হক সুমন আমার সাথে আপোষে বসার জন্য আমাকে ডেকেছে। তুমি ভাত বাড়ো আমি সুমনের সাথে দেখা করে এসে খাব”। এই বলে সোহাগ সুমনের ডাকে তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে আমার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যায়। এরপর আমি আমার ছেলের ফিরে আসার প্রত্যাশায় থাকি। কিন্তু সন্ধ্যার পরও আমার ছেলে বাড়ি না ফিরে আসায় আমি সুমনের সথে দেখা করে আমার ছেলের সন্ধান জানতে চাইলে সুমন কৌশলে প্রসঙ্গ এড়িয়ে যায় এবং কোন সদউত্তর না দিয়া আমাকে হুমকি দিয়া তাড়িয়ে দেয়।

সুমনের এমন আচরণ সন্দেহ জনক মনে হলে আমি পরের দিন চন্দ্রিমা থানায় পরদিন । কিন্ত সুমন অনেক প্রভাবশালী হওয়ায় থানার লোকজন আমাকে দিনের পর দিন ঘুরিয়ে নিখোঁজের ১৮দিন পরে অবশেষে গত ৩০/০৪/১৮ইং তারিখে আমার অভিযোগ টি.জি.ডি হিসাবে গ্রহন করেন। যাহার নম্বর চন্দ্রিমা থানার জিডি নং-৯৮৭, তারিখ ৩০/০৪/১৮ইং। কিন্তু অদ্য বাদি আমার ছেলের কোন সন্ধান দিতে পারেনি চন্দ্রিমা থানা পুলিশ।

সোহাগের মা আকলিমা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আমার সন্দেহ হচ্ছে আমার ছেলেকে সুমন এতক্ষন জীবিত রাখেনি। সুমনের দ্বারা সংঘটিত অনৈতিক কার্যকলাপ সর্ম্পকে জানতে পরায় আমার দৃঢ় বিশ্বাস সুমন আমার ছেলেকে সুকৌশলে অপহরন করে তাকে হত্যা করে তার লাশ গুম করিয়া রাখিতে পারে। আপনাদের সংবাদ পত্রের মাধ্যমে প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর হাত করে অনুরোধ করছি তারা যেন আমার সন্তান সোহগকে ফিরে পেতে তাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করেন ।

সুমনের সমকামী যুবক পিয়াস জানান, সে যেই কাপড়ের দোকানে কাজ করতো সেই দোকানে কাজ করতো শিরোইল কলোনী ৩নং গলি এলাকার মুন্নার ছেলে সোহাগ হোসেন(২২) নামের এক বড়ভাই। তার মাধ্যমেই প্রথম তৌহিদুল হক সুমনের বাসায় যায় সে। সে সময় সুমন সোহাগকে তার একটি কাজে বাড়ির বাইরে পাঠিয়ে দেয়। পরে চর থাপ্পর মারধোর ও টাকার লোভ দেখিয়ে খারাপ কাজ (সমকামীতে) বাধ্য করে তাকে।

একদিন সোহাগ আমার সাথে তৌহিদুল হক সুমনের বাসায় যায়। এ সময় সুমন সোহাগের সামনে আমার সাথে খারাপ কাজ,সমকামীতায় মেতে উঠলে সোহাগ মোবাইলে ছবি দেখার নামে আমাদের ভিডিও করেন। এর পরে কয়েকদিনের মাথায় তৌহিদুল হক সুমন ও আমার সমকামীতার নোংরা ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়। ভিডিওটি ফেসবুকে ছেড়ে দেয়ার পরে সোহাগ বলে তৌহিদুল হক সুমন তাকে অনেক জালাতন ভয় ভিতি দেখাচ্ছিল। আমাকেও একদিন স্কুলে যাওয়ার পথে সুমন আমাকে মারার জন্য তারা করেছিল আর সোহাগকেও যেহেতু হুমকি ধামকি দিচ্ছিল সেহেতু সোহাগকে সুমনই আটকে রাখতে পারে বলে জানান তিনি ।

জানতে চাইলে চন্দ্রিমা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি হুমায়ন কবির এই ধরনের অভিযোগের কথা অস্বীকার করে বলেন, একজন নারী তার ছেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে জিডি করেছেন। আমরা ছেলেটিকে উদ্ধারে আমাদের যথাসাধ্য চেষ্টা করছি ।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ