রমজানকে স্বাগত জানিয়ে যে ভাষণ দিয়েছেন মহানবী

0

প্রতি বছর রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আসে ইবাদতের মাস রমজানুল মোবারক। এ গুরুত্ববহ তাৎপর্যময় মাসের আগমন সারা বিশ্বের মুসলমানদের সুদীর্ঘ সিয়াম সাধনার জন্য বিশেষভাবে প্রস্তুত হবার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। মুসলমানদের জীবনে সারা বছরের মধ্যে রমজান মাসে আল্লাহর অসীম দয়া, ক্ষমা ও পাপমুক্তির এক সুবর্ণ সুযোগ সৃষ্টি হয় বলেই এ পুণ্যময় মাসের গুরুত্ব ও মর্যাদা এত বেশি।

তাই বলা হয়, রমজান মাস হচ্ছে ইবাদত, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকর, শোকর তথা আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক বিশেষ সুযোগের মাস।

রজব ও শাবান মাস, রমজানের প্রস্তুতির মাস। হিজরি মাসগুলোর মধ্যে অন্যতম মহিমান্বিত তাৎপর্যপূর্ণ দুটি মাস হলো রজব ও শাবান মাস।

শাবান মাস শেষ হলেই শুরু হবে রহমত, বরকত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস রমজান। হিজরি সন অনুযায়ী এবার ১৬ মে যদি শাবান শেষ হয়ে যায় তবে ১৬ মে দিবাগত রাতেই রমজানের রোজা পালনের নিয়তে মানুষ সাহরি খাবে। রমজান সম্পর্কে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেছেন।

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ বক্তব্য মুসলিম উম্মাহর জন্য আল্লাহর বিধান রমজানের ফরজ রোজা পালনে সর্বোত্তম অনুপ্রেরণা। হাদিসে এসেছে-

হজরত সালাম ফারসি রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষ দিন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দানকালে বলেন, ‘হে লোক সকল! তোমাদের কাছে একটি মর্যাদাপূর্ণ এবং বরকতপূর্ণ মাস উপস্থিত। এতে রয়েছে, এমন এক রাত যা হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। এ মাসে আল্লাহ তাআলা সিয়াম (রোজা) ফরজ করেছেন এবং রাত দীর্ঘ নামাজ আদায় তোমাদের জন্য পূণ্যের কাজ হিসেবে দিয়েছেন। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি ফরজ আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায় করলো। যে ব্যক্তি এ মাসে একটি নফল কাজ আদায় করলো, সে যেন অন্য মাসে একটি ফরজ কাজ আদায় করলো। এ মাস ধৈয্যের মাস, আর ধৈয্যের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত। এ মাস হচ্ছে সহানুভূতি প্রদর্শনের মাস।’ (মিশকাত)

প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এ হাদিস মানুষকে রমজানের রোজা গুরুত্বের সঙ্গে পালনে নিয়োজিত করার অনুপ্রেরণা দেয়। দীর্ঘ এক মাস আল্লাহর হুকুম যথাযথ রমজানের রোজা পালনে গুরুত্বের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।

মহান আল্লাহর হুকুমের যথার্থ অনুসরণ করে অনেকেই মাহে রমজানের রহমতে ধন্য করেন নিজেদের। আবার এ মাসের অফুরন্ত কল্যাণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন অনেকেই। কারণ রহমত, বরকত হাসিলের উপায় সম্পর্কে অনেকেই গাফেল-অজ্ঞ। মাহে রমজান যেমন মুসলমানদের জন্য তাকওয়া অর্জনের মাস, তেমনি সারাবিশ্বের মুসলমানদেরকে ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ করারও সুযোগ।

মুসলমানরা সবাই একই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনে আবদ্ধ। দেশ, জাতি, বর্ণ মুসলমানদের বিভক্ত করতে পারে না। আর রমজানের সিয়াম সাধনা এই ভ্রাতৃত্ব বন্ধনকে আরো বাড়িয়ে দেয়।

প্রিয়নবীর স্বাগত ভাষণ থেকে আরো বুঝা যায় যে, রমজান মাস হচ্ছে হেদায়েত লাভের মাস, আল্লাহ তাআলার রহমত লাভের মাস, গোনাহ থেকে ক্ষমা লাভের মাস এবং জাহান্নাম আগুণ থেকে নাজাতের মাস।

সুতরাং রমজানকে স্বাগত জানাতে হাদিসের ওপর যথাযথ আমল করে আল্লাহ তাআলার নৈকট্য অর্জনের জন্য বর্তমান শাবান মাসেই রোজা রেখে এবং নফল ইবাদাত বন্দেগি করে রমজানের প্রস্তুতি নেয়া প্রত্যেক ঈমানদারের জন্য আবশ্যক কর্তব্য।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে আল্লাহর নির্ধারিত বিধান রোজা পালনে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে মহানবীর ভাষণকে আমাদের জীবনে বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ