খালেদা জামিন পাচ্ছেন কি না জানা যাবে আজ

0

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন স্থগিত নিয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের রায় আজ মঙ্গলবার। সে হিসেবে আজ জানা যাবে, বিএনপি নেত্রীর জামিন স্থগিতই থাকবে, নাকি জামিন দেয়া হবে। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির এ মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী কারাগারে রয়েছেন।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করবেন। বেঞ্চের অপর সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মুহাম্মদ ইমান আলী, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী ও বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার।

রাষ্ট্র ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা দুটি আপিল রায়ের জন্য সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে আজকের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) তিন নম্বর ক্রমিকে রাখা হয়েছে।

দুদক, রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে গত ৯ মে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বিভাগের একই বেঞ্চ রায় ঘোষণার জন্য ১৫ মে দিন নির্ধারণ করেন। দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি ও খালেদার জামিন বাতিল চেয়ে ওইদিন দুদকের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী খুরশীদ আলম খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

তবে খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন বহাল রাখার আর্জি জানিয়ে শুনানি করেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, খন্দকার মাহবুব হোসেন, এ জে মোহাম্মদ আলী ও জয়নুল আবেদীন।

৮ মে সকালে খালেদার জামিন প্রশ্নে প্রথমে শুনানি করেন দুদকের পক্ষে খুরশীদ আলম খান। পরে রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও শুনানি করেন। এরপর খালেদার পক্ষে এজে মোহাম্মদ আলী শুনানি শুরু করলেও অসমাপ্ত থেকে যায়। সেখান থেকেই ৯ মে সকালে শুনানি শুরু করেন তিনি।

গত ৮ ফেব্রুয়ারি ওই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালত। এ মামলার অপর আসামি তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ বাকি পাঁচজনের বিরুদ্ধে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে তাদের দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৪৩ টাকা জরিমানাও করা হয়।

রায় ঘোষণার ১১ দিন পর ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রায়ের সার্টিফায়েড কপি বা প্রত্যায়িত অনুলিপি হাতে পান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। এরপর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় ২০ ফেব্রুয়ারি খালেদার জামিন আবেদন করা হয়।

১২ মার্চ খালেদা জিয়াকে চার মাসের অন্তর্বর্তী জামিন দেন হাইকোর্ট। এদিন বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ খালেদা জিয়ার জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন। হাইকোর্টের দেয়া জামিন স্থগিত চেয়ে পরদিন ১৩ মার্চ আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক।

পরে আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত এ দুই আবেদনের শুনানির জন্য ১৪ মার্চ দিন ধার্য করেন। এরপর ১৪ মার্চ আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদককে জামিনের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে) করতে বলে চার মাসের জামিন ১৮ মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেন আদালত। এ আদেশ অনুসারে পরের দিন ১৫ মার্চ রাষ্ট্রপক্ষ ও দুদক লিভ টু আপিল দায়ের করেন।

এ লিভ টু আপিলের ওপর শুনানি হয় ১৮ মার্চ। শুনানি শেষে আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ১৯ মার্চ দিন ধার্য করেন আপিল বিভাগ। পরে ১৯ মার্চ লিভ টু আপিল মঞ্জুর করেন আদালত। এদিন খালেদা জিয়াকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন ৮ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে, আপিল শুনানির জন্য ৮ মে দিন ধার্য করেন। পরপর দুই দিন ( ৮ ও ৯ মে) শুনানি শেষে রায়ের জন্য ১৫ মে দিন ঠিক করা হয়।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ