‘কোটা ছাড়াই ২০তম বিসিএসে দ্বিতীয় হয়েছিলাম’

0

ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং প্রজন্ম একাত্তরের প্রতিষ্ঠাতা সাংস্কৃতিক সম্পাদক ডা. নুজহাত চৌধুরী বলেছেন, ‘মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের কোনো কোটার দরকার নেই। তারা যোগ্যতা দিয়েই চাকরি পাবে। আমার বাবার কোনো সার্টিফিকেট ছিল না। কোনো কোটা ছাড়াই ২০তম বিসিএসে আমি দ্বিতীয় হয়েছিলাম।’

শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে মুক্তিযোদ্ধা সংহতি সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. নুজহাত চৌধুরী শহীদ মুক্তিযোদ্ধা বুদ্ধিজীবী ডা. আবদুল আলীম চৌধুরীর ছোট মেয়ে। শিক্ষাবিদ ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী তার মা। আবদুল আলীম চৌধুরীকে একাত্তরের ১৪ ডিসেম্বর বাসা থেকে ধরে নিয়ে হত্যা করে পাকিস্তানী বাহিনী।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নুজহাত চৌধুরী আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী ২১ বছরে মুক্তিযোদ্ধাদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দেওয়া হয়নি। মুক্তিযোদ্ধার সন্তানেরা নিজের পায়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

তিনি বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা যদি তাদের রক্তে দেশ স্বাধীন না করতেন তাহলে এখন যারা বিসিএস ক্যাডার হচ্ছেন, বড় চাকরি করছেন তাদের পশ্চিম পাকিস্তানের কেরানি হয়েই থাকতে হত।

নুজহাত আরও বলেন, কোটাবিরোধী আন্দোলনের নামে ছোট ছোট ছেলেদের বুকে ‘আমি রাজাকার’ লেখা দেখে জীবনে প্রথম মনে হয়েছে ’৪৭ বছর আগে বাবা মরে গিয়ে বেঁচেছেন।

সমাবেশে আর্ন্তজাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের কোটার দরকার নেই তাদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি চাই। বিভিন্ন দেশে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি আছে। এখানে থাকবে না কেন? মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তালিকাও করতে হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের অপমান করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের প্রশ্নে কোনো আপস হবে না।
মুক্তিযোদ্ধা সংসদ চট্টগ্রাম মহানগরের কমান্ডার মোজাফ্ফর আহমেদের সভাপতিত্বে সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি ওয়াসিকা আয়শা খান।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ