মচিমহায় হাশেম আলীর খাদ্য নিয়ে কেলেঙ্কারী

0

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের খাদ্য নিয়ে ঠিকাদার হাশেম আলী নি¤œমানের পঁচাবাসী খাবার রোগীদের সরবরাহ করে আসছে দীর্ঘদিন যাবত। এই সংবাদ যখন জনস্বার্থে পত্রিকায় প্রকাশিত হয় তখন হাস্যকর বিষয়, ঠিকাদার হাশেম আলী খাদ্যের দিকে না গিয়ে প্রতিবেদকের বিরুদ্ধে মামলা করে দিলেন হাসপাতাল ভাংচুর অভিযোগে আর সাংবাদিককে হুমকি দিলেন হাড্ডি গুড্ডি ভেঙ্গে হত্যা করা হবে। জানাগেছে, এর নেপথ্যে ইন্ধন দিয়ে যাচ্ছে স্বয়ং মচিমহা কতৃপক্ষ।

জানাগেছে, অসুস্থ রোগী হয়ে যারা হাসপাতালে ভর্তি হয় তাদের খাদ্যের তালিকায় রয়েছে খাশীর গোশ্ত কিন্তু খাশীর গোশ্ত দেয়া হয়না। যদি মচিমহা কর্তৃপক্ষ এবং ঠিকাদার হাশেম আলী ইচ্ছা করেন তবেই প্রায় দুই-তিন মাস পর গোশ্তের দেখা মেলে। তবুও সেখানে পঁচা আলু এবং ঝোল দিয়ে গোশ্তের স্বাদ মেটানো হয়। সরকারীভাবে গোশ্তের বরাদ্দ আছে ৬০ গ্রাম। রোগীর আতœীয় স্বজনরা জানান, ৬০ গ্রাম মাছ দেবার বরাদ্দ থাকলেও সর্বোচ্চ দশ-পনের গ্রাম মাছ দেয়া হচ্ছে।

একবারেই নি¤œমানের চাউল আর বেশী বেশী পানি দিয়ে ভরে দেয়া হয় ডালে যা সাধারনেরও খাবার অযোগ্য। খাদ্য ঠিকাদার হাশেম আলী এখানে নিয়োজিত কিন্তু সরকারী ভাবে নির্দেশনা আছে তিনবছরের বেশী এই সেক্টরে থাকার নিয়ম নেই কিন্তু ঠিকাদার কিভাবে মচিমহায় একযুগ কাটিয়ে দিলো সেটা জনমনে প্রশ্নের উদ্রেক করেছে। জানাগেছে, মচিমহা কর্তৃপক্ষের খুব কাছের লোক ঠিকাদার হাশেম আলী। মচিমহায় খাদ্যের ঠিকাদারী করে হাশেম আলী আজ নামে বেনামে ব্যাংকে টাকা এমনকি চরপাড়ায় ৬ তলা আলীশান বাড়ীর মালিক হয়েছেন। এই বিপুল পরিমাণ বিত্তবৈভবের উৎস গ্রামাঞ্চলের গরীব মানুষের টাকায় তৈরী হয়েছে, তা না হলে মচিমহার সাধারন একজন বার্বুচী কি করে কোটি কোটি টাকার সম্পদের অধিকারী হতে পারে-জনমনে এটাই প্রশ্ন।

ময়মনসিংহ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশন জোরালো তদন্ত করলেই কোঁচো থেকে সাপ বেরিয়ে আসবে। এদিকে ময়মনসিংহ প্রতিদিন জনস্বার্থে সংবাদটি প্রকাশ করার পর হাশেম আলী সংবাদের আশে পাশে না গিয়ে হাসপাতাল ভাংচুরের অভিযোগে মামলা করেছে।

বিষয়টি হাস্যকরের পাশাপাশি হাশেম আলীর খাদ্য কেলেঙ্কারীকে আরও উন্মোচিত করার সামিল। সচেতন ময়মনসিংহবাসী মনে করেন দুর্নীতি আর গরীবের টাকা আতœসাতকারীরা বারবার মরে। দুর্নীতিবাজ হাশেম আলী সেই স্বাক্ষরই রেখেছে। এর জরুরী তদন্তের জন্য ময়মনসিংহ জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে সচেতন মহল জানান, অন্যথায় হাশেম আলীর মতো খাদ্য নিয়ে দুর্নীতিবাজকারীরা পার পেয়ে যাবে।

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ