হঠাৎ অ্যাকশনে র‌্যাব-পুলিশ

তিন দিনে পাঁচ মাদক ব্যবসায়ী ক্রসফায়ারে, আটক সহস্রাধিক

0

মাদকের বিরুদ্ধে ঘোষণা দিয়ে অ্যাকশনে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত কয়েক দিনের অভিযানে বন্দুকযুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। আটক হয়েছেন হাজারখানেক। এরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বলে জানা গেছে। গত চার দিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে জিরো টলারেন্স ভিত্তিতে অভিযান চালায় র‌্যাব।

জঙ্গি নির্মূলের মতো মাদক ব্যবসায়ীদেরও সমূলে উৎপাটনের লক্ষ্যে মাঠে কাজ করছে তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনার পর দেশজুড়ে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে তারা। র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের সংবাদ সম্মেলনের পরদিন তাদের কঠোর অবস্থানের আরও এক ধাপ জানান দেয় এই এলিট ফোর্স। তবে একে তারা বলছে ‘ক্র্যাশ প্রোগ্রাম’। র‌্যাব ও পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, যত দিন না মাদক নিয়ন্ত্রণে ভালো ফল আসে তত দিন এই অ্যাকশন চলবে।

এর আগে ৩ মে ১৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুর্মিটোলায় র‌্যাব সদর দফতরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্দেশ দিয়েছিলেন, ‘জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে র‌্যাব যেভাবে অভিযান চালিয়ে সাফল্য অর্জন করেছে, এখন মাদকের বিরুদ্ধেও সেভাবে অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ আহ্বানের কয়েক দিন পরই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৯৫০ জন মাদকসেবী ও ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়। এর মধ্যে কয়েকজনকে নিয়মিত মামলা ও বাকিদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে জেল দেওয়া হয়।

র‌্যাবসূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর র‌্যাবের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দেশজুড়ে মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযানের সিদ্ধান্ত নেন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জে মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চলাকালে র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে আবদুল আলিম (৪২) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। আবদুল আলিম শিবগঞ্জ উপজেলার নয়ালাভাঙ্গা ইউনিয়নের দালালপাড়া গ্রামের মৃত আফতাব উদ্দিনের ছেলে। রাত ২টার দিকে শিবগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর বেড়িবাঁধ এলাকার তাঁতীপাড়া ঘাট নামক স্থানে বন্দুকযুদ্ধে তিনি নিহত হন। এ সময় দুটি পিস্তল, ৭ রাউন্ড গুলি, দুটি ম্যাগাজিন, প্রায় ৭ কেজি গাঁজাসহ স্যানডেল জব্দ করা হয়েছে।

র‌্যাব জানায়, আবদুল আলিমের বিরুদ্ধে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী ও কিশোরগঞ্জে পাঁচটি মাদক মামলা রয়েছে। র‌্যাব-৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিপিসি-১-এর কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার সাইদ মো. আবদুল্লাহ আল মুরাদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব সদস্যরা ৪ নম্বর বেড়িবাঁধ এলাকায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালালে টের পেয়ে মাদক ব্যবসায়ীরা গুলি ছোড়েন। র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালালে এক মাদক ব্যবসায়ী আহত হন এবং অন্যরা পালিয়ে যান।

আহত মাদক ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় একই সময়ে চট্টগ্রামের মাদক আখড়া হিসেবে পরিচিত ‘বরিশাল কলোনি’তে বন্দুকযুদ্ধে হাবিবুর রহমান ও মোহাম্মদ মোশাররফ নামে আরও দুই মাদক ব্যবসায়ী নিহত হন। হাবিবুর রহমান ওরফে মোটা হাবিবের বিরুদ্ধে ১২টির বেশি মামলা ছিল। আরেক নিহত মোশাররফ ছিলেন তার সহযোগী। অভিযানের রাতেই ঘটনাস্থল থেকে ৩০ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা, ৪০ বোতল ফেনসিডিল, ৬ বোতল বিদেশি মদ, পাঁচ ক্যান বিদেশি বিয়ার, ৫০০ গ্রাম গাঁজা, বিদেশি একটি পিস্তল ও দুটি ওয়ান শুটার গান জব্দ করে র‌্যাব। এ ঘটনায় নগরীর সদরঘাট থানায় অস্ত্র ও মাদক আইনে দুটি মামলা করেছে র‌্যাব। সদরঘাট থানার ওসি নেজাম উদ্দিন বলেন, বরিশাল কলোনিতে অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে।

র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান এই প্রতিবেদককে জানান, ‘আমাদের এ অভিযান নির্দিষ্ট সময়ের জন্য নয়। যত দিন দেশ ভালো কোনো অবস্থায় না যায় তত দিন মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর এই অবস্থান থাকবে।’

এর আগে ১৫ মে ঢাকা-নায়ায়ণগঞ্জ সড়কের কাঁচপুর ও কুষ্টিয়ায় দুই মাদক ব্যবসায়ী বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন। এ ঘটনায় চার র‌্যাব সদস্য আহত হন বলে জানা যায়। এ ছাড়া রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোড ও আদাবরে পৃথক দুটি অভিযানে ৯০ হাজার পিস ইয়াবাসহ চার মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-২। এর মধ্যে নিউমার্কেট থানার এলিফ্যান্ট রোড থেকে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ সোলাইমান (৩০) ও লোকমান হাকিম (৬১), আদাবর থেকে ৬৫ হাজার পিস ইয়াবা-প্রাইভেট কারসহ ইকবাল হোসেন (২৮) ও গিয়াস উদ্দিন চৌধুরীকে (৩৬) গ্রেফতার করা হয়। ইকবাল ও গিয়াস আইন প্রয়োগকারী সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রাইভেট কারের তেলের ট্যাংকিতে করে ঢাকায় ইয়াবা নিয়ে আসতেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ডিবি) আবদুল বাতেন বলেন, ‘নিয়মিতভাবে আমাদের মাদকবিরোধী অভিযান চলছে, চলবে। মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূলে আমাদের সব ধরনের প্রচেষ্টা চলবে।’

১৪ মে এক সংবাদ সম্মেলনে মাদক ব্যবসায়ীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘কারও কাছে মাদক থাকলে র‌্যাব ক্যাম্পের পাশে ফেলে যান। অন্যথায় মাদক প্রতিরোধে আইনি ব্যবস্থায় যত প্রক্রিয়া আছে তার সব ব্যবহার করা হবে। মাদক এখন জাতীয় সমস্যা। সবার সহযোগিতা নিয়ে সর্বগ্রাসী এ সমস্যা রুখতে হবে। মাদকের মূলোৎপাটন করা হবে। তারা যাতে আইনের কোনো ফাঁক দিয়ে পার পেতে না পারে এজন্য আইনজীবীদেরও সহযোগিতা প্রয়োজন।’

মাদক নির্মূলে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, সাংবাদিক, মানবাধিকার কর্মী, অভিভাবকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতাও চান তিনি।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

ব্রেকিং নিউজঃ