উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারীর ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ

0

মনিরুল ইসলাম দোয়েল: চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান সহকারী রেজাউল করিম ও স্বাস্থ্য সহকারীদের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রধান সহকারী রেজাউল করিম বিরুদ্ধে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী ও স্বাস্থ্য সহকারীরা গত ২ মাস আগে সিভিল সার্জন বরাবর একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করলেও তার বিরুদ্ধে এখনও কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেননি কর্তৃপক্ষ। ৪০ জন স্বাস্থ্য সহকারীর স্বাক্ষর করা অভিযোগ পত্রে জানা গেছে ওই প্রধান সহকারী নানা অজুহাতে যেমন প্রত্যয়ন পত্র, শান্তি বিনোদন ভাতা, ছুটির দরখাস্ত, বর্ধিত বেতন, ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন সহ বিভিন্ন কাজে তার কাছে গেলে সে নানা ভাবে অর্থ দাবী করেন। এমনকি তিনি প্রকাশ্যে উৎকোচ দাবী করেন। তিনি কর্মচারীদের বলেন টাকা না দিলে কোন কাজ হবেনা। তার প্রকাশ্যে উৎকোচ গ্রহনের বিষয়টির কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে নানা প্রকার হুমকি দেয়া হয়।

অভিযোগ পত্রে আরো বলা হয়েছে এর আগেও সে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মরত অবস্থায় একই ধরনের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে কর্তৃপক্ষ তাকে অন্যত্র বদলি করে। এছাড়াও ইতিপূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাক্তার, নার্স ও কর্মচারীরা তৎকালীন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ জাহাঙ্গীর আলমের মাধ্যমে সিভিল সার্জনকে একটি অভিযোগ পত্র দাখিল করলে তিনি তা ওই প্রধান সহকারীকে রক্ষার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেননি বলে অভিযোগ করা হয়।

এদিকে সম্প্রতি ভিটামিন এ ক্যাম্পেইনে সেচ্ছাসেবকদের নামের তালিকায় স্বাস্থ্য সহকারীরা নিজেদের ইচ্ছেমত নাম অর্ন্তভূক্ত করে। স্বাস্থ্য সহকারীদের মাধ্যমে বিভিন্ন ফি কর্তন করে ২৬০ টাকা ভাতা সেচ্ছাসেবকদের প্রদান করার কথা ছিল। কিন্তু জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানে লাইন ডাইরেক্টরের কাছে যে তালিকা প্রেরণ করা হয়েছে তাদের কয়েকজনের সাথে কথা বলে জানা যায় নামে মাত্রই কয়েকজনকে ২৬০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। অধিকাংশ সেচ্ছাসেবকের ক্ষেত্রে ৫০,১০০, ও ১৫০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। আর এ বিষয় গুলো ধামাচাপা দেওয়া জন্য প্রধান সহকারী রেজাউল করিম স্বাস্থ্য সহকারীদের কাছ থেকে উৎকোচ দাবী করেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান সহকারী রেজাউল করিমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিভিন্ন সময় ভিটামিন এ ক্যাম্পেইন সহ স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ঠ অনুষ্ঠানে নিয়মবহিঃভূতভাবে স্বাস্থ্য সহকারীরা নিজেদের নাম অর্ন্তভূক্ত করে ভাতা উত্তোলন করেন। আর এ কাজের অনুমতি প্রদান করেছেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদ। এ অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ করায় আমার বিরুদ্ধে সিভিল সার্জনের কাছে বিভিন্ন অনিয়ম-দূর্নীতির অভিযোগ এনে আবেদন করা হয়েছে।

গোমস্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডাঃ সালাউদ্দিন আহমেদ জানান, তালিকা প্রস্তুত থেকে শুরু করে পর্যবেক্ষন প্রধান সহকারী রেজাউল করিম করে থাকেন। এছাড়া স্বাস্থ্য সহকারীরা তার অপকর্মগুলো জেলা সিভিল সার্জন ও স্থানীয় জাতীয় সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসকে অবহিত করলে মৌখিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে পার পেয়ে যায়।

অভিযোগ প্রসঙ্গে চাঁপাইনবাবগঞ্জের সিভিল সার্জন ডাঃ সাইফুল ফেরদৌস মোহাম্মদ খাইরুল আতাতুর্ক এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কর্মচারীদের করা অভিযোগ পত্র প্রাপ্তির বিষয়টি স্বীকার করে জানান, বিষয়টি রাজশাহী বিভাগীয় উপ-পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। তিনি এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

তুমি এটাও পছন্দ করতে পারো

উত্তর দিন

আপনার ইমেইল ঠিকানা প্রচার করা হবে না.

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

ব্রেকিং নিউজঃ